অনেককাল আগের ঘটনা। আমি যখন স্নাতকে ভর্তি হই, আমার বাড়ি থেকে কলেজ যেতে অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হতো। তাই ঠিক করলাম স্নাতকের সময়টা বন্ধুর জামালের বোনের বাড়িতে লজিং থাকবো। কলেজ আসা যাওয়ার ঝক্কিটাও কমবে সাথে বাচ্চাদের পড়ানোর পড়াশোনাও চর্চায় থাকবে। এমনিতে ভালো ছাত্র হিসেবে আমার বেশ নামডাক ছিলো।
সুমি আপার বাসাটা বেশ বড়। পুরো বাসাটা সমতল জমির উপর হলেও বাসার একটা কামরা অগভীর জলাশয়ের উপরে মাচার মত পাটাতন করে তার উপরে। অর্থাৎ রুমের নিচে পানি। এই রুমেই আমি থাকবো লজিং এর সময়টা। রুমটা একেবারে কোণায় জলাশয়ের পাশে হওয়ায় বেশ নির্জন। আমার জন্য ভালই হয়েছে। পড়াশোনার জন্য এমনটাই যথার্থ। আপার বাচ্চাদের সাথে এলাকার কয়েকজন বাচ্চা পড়িয়ে রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়তে হয়, সকালে আবার ক্লাসে তাড়াতাড়ি উপস্থিত হতেই হবে।
রাতে আপার হাতের মজার রুই মাছের দোপেঁয়াজা খেয়ে চোখটা বন্ধ করতেই কখন ঘুমিয়ে পড়লাম বলতে পারবো না। খুব সকালে হঠাৎ ঘুমটা ভেঙে গেলো। চোখ মেলতেই শুনতে পেলাম ঝপাস করে কিছু একটা পানিতে পড়লো। ঘুমের ঘোরে এমন শব্দ হওয়াতে ধরমরিয়ে উঠে বসলাম কিসে শব্দ করলো দেখার জন্য। কিছুই চোখে পড়লো না। নিচে জলাশয়, মাছ হতে পারে। পাত্তা না দিয়ে নামাজ পড়ে ক্লাসের জন্য প্রস্তুত হতে লাগলাম।
রাতে যথারীতি খেয়ে দেয়ে ঘুম। ভোরবেলা চোখ মেলতেই ধুপ করে কিছু একটা ফ্লোরে পড়ার আওয়াজ হলো, এবং তার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ঝপাস করে কিছু একটা পানিতে পড়ার শব্দ। গতকালের মতোই ছিলো ব্যাপারটা তবে মেঝেতে এভাবে আওয়াজ করে পড়াটা আমার কাছে নতুন লাগলো। আমি পাটাতনের ফাঁকা দিয়ে দেখার চেষ্টা করলাম নিচে কিছু দেখা যায় কিনা। এত ছোট ফাঁকা কিছু বোঝা যাবে না এটাই স্বাভাবিক। আমি গতকালকের মতোই ব্যাপারটাকে স্বাভাবিক ভাবে নেয়ার চেষ্টা করে নামাজ পড়তে গেলাম। তবে সারাদিন মনের ভেতর একটা খুঁতখুঁত রয়েই গেলো।
আজ রাতেও খেয়েদেয়ে ঘুম। ভোরবেলা যথারিতি ঘুম ভাঙতেই পাশের চেয়ারটা ক্যাঁচক্যাঁচিয়ে শব্দ করে উঠল, তারপর ধুম করে ফ্লোরে কিছু একটা পড়লো, তারপর পানিতে পড়লো। আমি ঘটনার আকস্মিকতায় কিছুক্ষণ থম মেরে বসে ভাবতে লাগলাম, আসলে হচ্ছেটা কি। একটা অজানা আতঙ্কে হাত পা কেমন অবশ হয়ে গেলো। নামাজ পড়ার মতো সাহস জুগিয়ে কোনরকমে বিছানা ছাড়লাম। সারাদিন কোন কিছুতে তেমন মন দিতে পারলাম না।
(চলবে)