Posts

ফিকশন

স্বপ্নের প্রতিবিম্ব

July 19, 2026

Abdullah Al Adib

37
View

পর্ব ০১

সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। একটা গল্পের বই নিয়ে জানালার পাশে বসলাম আর বৃষ্টি দেখা শুরু করলাম। জানালার পাশে বসে বৃষ্টি দেখতে দেখতে কখন যে সন্ধা হয়ে গেছে বলতে পারছি নাহ। মাগরিবের আজানটা কানে পড়ার সাথে সাথে আমার বোধ হলো অনেক সময় ধরে বৃষ্টি দেখছি। প্রতিদিনের মত আজও মাগরিবের নামাজ পড়ে বিদ্যালয়ের পড়া পড়তে শুরু করলাম। পড়া শেষে মা বাবার সাথে ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। “বিদ্যালয় যাওয়ার পথে বাস থেকে দেখতে পেলাম ঐ রাস্তায় একটা সড়ক দূর্ঘটনাটা ঘটেছে। বিদ্যালয় পৌছালাম ক্লাস রুমে প্রবেশ করা মাত্রই একটা বিকট বিস্ফরণের আওয়াজ শুনতে পেলাম। ক্লাস রুম থেকে দৌড়ে বের হয়ে দেখতে পেলাম বিদ্যালয়ের বাম পাশে আগুন লেগেছে ৭ম শ্রেণির কক্ষের দিকে দূর থেকে কে যেনো খুব জোরে আমার নাম ধরে ডাকছে। ” হঠাৎ আমার চোখ খুলে গেলো। চোখ খোলা মাত্রই সামনে মা কে দেখতে পেলাম উনি আমায় ডাকছে। আমি আমার বিছানায় শুয়ে আছি। তখনই বুঝতে পেলাম সব কিছুই একটা দূর স্বপ্ন ছিলো। আমার সারা শরীর ঘামে ভিজে গেছে। মা বলল “ ভয়ংকর স্বপ্ন দেখেছো নাকি? তোমার শার্ট ঘামে ভিজে গেছে।” আমি বললাম “ হুম, ভালোই হয়েছে এটা একটা স্বপ্ন ছিলো” 
বিছানা থেকে উঠে প্রতিদিনের মত দাঁত ব্রাশ করে হাত মুখ ধুয়ে কিছু একটু খেয়ে পড়তে বসলাম। 
পড়তে পড়তে ঘড়ির দিকে তাকালাম দেখি ০৯.৩৭ বাজে। একি বিদ্যালয় যাওয়ার সময় হয়েছে। তাড়াতাড়ি বিদ্যালয়ের জন্য তৈরি হয়ে বিরিয়ে পড়লাম। বাস স্টপে গিয়ে দাড়ানোর সাথে সাথেই বাস পেলাম। যাওয়ার পথে বাহিরে তাকিয়ে দেখি ঠিক স্বপ্নের মতই একটা দূরঘটনা রাস্তায় ঘটেছে। তখন অবস্য তেমন কিছু একটা মনে হয় নি। কারণ রাস্তার মধ্যে হঠাৎ একটা দূর্ঘটনা ঘটতেই পারে। বিদ্যালয়ে পৌছালাম। ক্লাস রুমে প্রবেশ করার সাথে সাথেই ঠিক স্বপ্নের বিকট বিস্ফরণের আওয়াজের মত শব্দ শুনতে পেলাম। তখন আমার আর বুঝতে দেরি হয়নি। যে আমার স্বপ্নটা সত্যি হচ্ছে। বাহিরে গিয়ে দেখি বিদ্যালয়ের বাম পাশে আগুন। সেই দিন প্রথম আমার দেখা কোন স্বপ্ন সত্যি হয়েছিলো। এসব বিষয় নিয়ে অনেক চিন্তিত হয়ে পড়লাম। কাকে বলব এসব কথা? আর একদিন স্বপ্ন সত্যি হলে মাকে বলব ভাবলাম। 
এভাবেই কিছু দিন কেটে গেলো। সামনে পরিক্ষা আমিও জোরে সোরে পড়া লেখা শুরু করলাম।

                    পরীক্ষা শুরুর ৬ দিন আগে

সেই দিনও প্রতিদিনের মত বিদ্যালয় থেকে বাসায় ফেরার পর হাত মুখ ঘুয়ে বাহিরে খেলতে গেলাম হঠাৎ করেই মাথা টা ঘুরে উঠল বুঝতে পারলাম শরীরটা ভালো নেই আজ আর খেললাম নাহ তাছাড়াও পরিক্ষা সামনে খেলা দেখলে আবার বাবা রাগ করবেন। মাথাটা খুব ব্যাথ্যা করছিলো সেই দিন রাতে আর বেশি পড়তে পারিনি। অনেক তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়লাম। সেই দিন আমি আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর স্বপ্নটা দেখি। 
“আমি বিদ্যালয় থেকে বাসায় ফিরছিলাম। বাসার একটু কাছে আসতেই দেখতে পেলাম বাসার সামনে অনেক মানুষের ভিড় যেন বিনামূল্যে সোয়াবিন তেল বিতরণ হচ্ছে। আরও একটু কাছে গিয়ে দেখতে পেলাম কে যেনো মরে পরে আছে মুখ ডাকা। মুখের উপরের কাপড় টা সরানোর পর দেখতে পেলাম একটা ঝলসানো মুখ। একি এতো আমার মায়ের মুখ। মুখটা দেখার সাথে সাথেই চিৎকার করে উঠলাম। তখনি ঘুমটা ভেঙ্গে গেলো। ঘুম থেকে উঠেই মা বলে জোরে একটা চিৎকার করলাম। আমার এমন চিৎকার শুনে মা দৌড়ে আমার কাছে আসলো।  
মাঃ কি হয়েছে বাবা? 
আমিঃ খুব খারাপ একটা স্বপ্ন দেখেছি মা। 
মাঃ কি দেখলি? তোর বিয়ে হয়েছে! 
আমিঃ না মা। ফাজলামি কর নাহ। আমি তোমার মৃত্যু দেখেছি। 
মাঃ আরে দূর বেকার চিন্তা করিস নাহ। ঘুমের স্বপ্ন কখনো সত্যি হয় নাহ🙃।
আমিঃ তোমার সাথে অনেক জরুরি কথা আছে। সেদিন যে স্বপ্ন টা দেখে আমার শরীর ঘেমে গেছিলো ঐ স্বপ্নটা সত্যি হয়েছে মা। তুমি আমার সাথে থাকো। 
মাঃ আরে দুর ওসব কিছু নাহ। কিচ্ছু হবে না আমার।। 
মাকে সম্পূর্ণ ঘটনাটি খুলে বলার পরও মা আমায় বিশ্বাস করল নাহ। অনেক বোঝানোর চেষ্টা করলাম কিন্তু মা বুঝলো নাহ। 
আমি নিজেই ঠিক করলাম আজকে সারাদিন মায়ের সাথে থাকব। যাই হয়ে যাক না কেনো মাকে বাঁচাতে হবে। সকালের খাবার খেয়ে বাবা অফিস গেলো কিন্তু আমি বিদ্যালয়ে গেলাম না। মাকে মিথ্যা বললাম “আমার শরীরটা ভালো নেই” আমার অসুস্থতার কথা শুনে মাও অফিস গেলো নাহ। মায়ের কোলে মাথা দিয়ে শুয়ে আছি অনেক সময় ধরে। মাকে একদম চোখের আড়াল করা যাবে নাহ। মায়ের সাথে সময় কাটাতে কাটাতেই সকাল থেকে দুপুর, দুপুর থেকে বিকেল হয়ে গেলো। মাকে সকাল থেকে রান্না ঘরে যেতে দেইনি। সকালে যে সব রান্না ছিলো তা দিয়েই দুপুরটা পার করেছি দুজনই। বিদ্যালয় ছুটি দেয়ার সময় হয়েছে। মাকে বললাম বিকেলে নাস্তা বাসায় বানাতে হবে নাহ। বাহিরে গিয়ে খেয়ে আসব। মাও আমার কথায় রাজি হলো। 
এদিকে আমার দুশ্চিন্তা বাড়ছিলো। কারণ মায়ের মৃত্যু আমি বিদ্যালয় থেকে বাসায় ফেরার পর দেখেছি। আমি ফেরার কিছু সময় আগে মারা গেছেন মানে ঠিক বিদ্যালয় ছুটির কিছু সময় আগে বা পরে। বিকাল ৪.০০ টায় মাকে নিয়ে বাহিরে খেতে বের হলাম। বিদ্যালয় ছুটির সময় ৪.৩০টা
ভয়ে বুকটা কাপছিলো কিন্তু মাকে বলতে পারছিলাম নাহ। স্বপ্ন একবার যেহেতু হুবাহু সত্যি হয়েছি সুতরাং আবারও সত্যি হবে। 
মাকে নিয়ে রেস্তোরাঁতে ঢুকলাম। তারপর…………….

To be continued

পর্ব ২ ↓ ↓ ↓ ↓

ভয়ে বুকটা কাপছিলো কিন্তু মাকে বলতে পারছিলাম নাহ। স্বপ্ন একবার যেহেতু হুবাহু সত্যি হয়েছি সুতরাং আবারও সত্যি হবে।  মাকে নিয়ে রেস্তোরাঁতে ঢুকলাম। তারপর আমরা যখনই খাবার অর্ডার করব ঠিক তখনই মায়ের ফোনটা বেজে উঠল। আমি বললাম “ কে কল দিয়েছে মা? ”
উত্তরে মা বলল “ অপরিচিত নম্বর ” 
ফোন রিসিভ করার কিছুক্ষণ পর মায়ের হাত থেকে ফোনটা পড়ে গেলো। আমি মাকে কিছু বলার আগেই মা মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। আমি সেই সময় অনেক ভয় পেয়েছিলাম। বুঝতে পারছিলাম না কি করব? বেশি দেরি না করে রেস্টুরেন্টের ওয়েটার কে সাহায্যের জন্য ডাক দিলাম। মাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলো। আমি জানি না মায়ের কি হয়েছে। মা বাঁচবে কি না তাও জানি না। আমি আমার জীবনের সবচেয়ে খারাপ সময়ের মুখোমুখি। সবচেয়ে খারাপ সময় অতিবাহিত করছিলাম। তখন মায়ের ফোনটা আবার বেজে উঠল। আমি কলটা রিসিভ করা মাত্রই
ওপাশ থেকে শুনতে পেলাম  “ আপনাদের বাসায় আগুন লেগেছে তারাতাড়ি আসুন” এই কথা বলেই কলটা কেটে দিলো।
তখনই ডাক্তার এসে বললেন “ আপনার মা আর বেঁচে নেই” 
আমি বুঝতে পারছিলাম না কি করব। আমার চোখ দিয়ে পানি বের হচ্ছিলো নাহ। মনকে শক্ত করে ডাক্তারকে প্রশ্ন করলাম “Uncle মৃত্যুর কারণ টা কি ছিলো? ”
ডাক্তারঃ হার্ট অ্যাটাক 
আমি শুনে অবাক হলাম। বাসায় আগুন লেগেছে এই কথা শুনে তো মা heart Attack করার কথা না। আমার মনটা আরো কু ডাকছিলো?  জানি না কেনো আমি তখন কাঁদি নি। এত করে বাচানোর চেষ্টা করলাম পারলাম নাহ। আমার মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছিলো না।
মায়ের লাশের কাছে গিয়ে মনে মনে বলছিলাম “ ক্ষমা করে দিও মা। তোমাকে বাঁচাতে পারলাম না।”   মাকে ঐ প্রাণহীন অবস্থায় আমি দেখতে পারছিলাম না। আমার চোখ সহ্য করতে পারছিলো না।
বাবার নম্বরে কল করে দেখলাম নম্বর বন্ধ। আমি আর থামতে পারছিলাম না। বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। বাসার সামনে গিয়ে দিখি অনেক মানুষের ভিড় আগুন এখনো ভালোভাবে নিভানো হয়নি। বাসার সামনে পড়ে আছে একটা মৃতদেহ। আমার সাথে ঘটিত সবকিছুই কিছুটা স্বপ্নের মত লাগছিলো। স্বপ্নে দেখেছিলাম মা পুড়ে মারা গেছেন কিন্তু আমার মায়ের লাশতো এখনো হাসপাতালে আছে। তাহলে এই মৃতদেহটা কার? বিভিন্ন প্রকার প্রশ্ন আমার মাথায় ঘুর পাক খাচ্ছিলো। 
লাশের মুখের উপর থেকে কাপড়টা সরালাম ঝলসানো মুখটা দেখার সাথে সাথেই আমার মাথা ঘুরে উঠে। আমি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যাই….. তারপর কি হয়েছিলো আমার মনে নেই। জ্ঞান ফেরার পর আমি হাসপাতালে ছিলাম। দেখলাম আমার পাশে বসে আছে আমার চাচাতো ভাই। (#  চাচাতো ভাইয়ের নাম নাছিম) 
আমার চোখ খোলা দেখে ভাইয়া আমার কাছে এসে বলল “সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে। তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠো।" 
আমিঃ কি হয়েছিলো আমার? 
নাছিমঃ মাথা ঘুরে পড়ে গেছিলে…

(আপনাদের সবার মনে এখন একটা প্রশ্ন ঘুরছে। ‘কার ঝলসানো মুখ দেখে আমি মাথা ঘুরে পড়ে গেছিলাম?’ 
সেই মুখটা ছিলো বাবার)

আমিঃ ও আচ্ছা। আমার মা বাবার দাফন হয়েছে? 
নাছিমঃ হ্যা। কালকেই দাফন করা হয়েছে। তুমি এসব চিন্তা বাদ দাও। মা বাবা নেই তো কি হয়েছে আমরা তো আছি।

আমি নিস্তব্ধ হয়ে শুয়ে আছি আর ভাবছি ‘মা বাবা আমায় একা করে রেখে গেলেন। একসাথে ২ জন প্রিয় মানুষ কে হারানের ব্যাথা। এই কষ্ট আমার সহ্য হচ্ছিলো নাহ ।

এই নির্মম ঘটনা ঘটার পর আমি নিজে থেকেই বুঝতে পারি স্বপ্নে যেটা দেখেছি সেটা ঘটতে দেওয়াই উত্তম। মৃত্যু যেখানে লেখা আছে সেখানে মৃত্যু হবেই। যদি কারো মৃত্যু বা কোনো খারাপ ঘটনা আমি আটকানোর চেষ্টা করি তবে পরিণাম হবে স্বপ্নের চেয়েও ভয়াবহ। 
যদি আমি মাকে বাঁচানোর চেষ্টা না করতাম তাহলে হয়তো আজকে বাবা বেঁচে থাকতো। নিজেকে বাবার মৃত্যুর জন্য দোষী বলে মনে হচ্ছে। 
কতো সময় আমি বাবা মার সাথে কাটিয়েছি। মা বাবা আমায় খুব ভালোবাসতো। কখনো আমার কোনো ইচ্ছা ওরা অপূর্ণ রাখেনি। সেই সব মধুর সময় আর কখনো ফিরে পাবো না। দেখতে পাবো না সেই প্রিয় মুখ দুটো।

সবাই বলতেছিলো আমার ভাগ্য খারাপ। কিন্তু কেউ জানতো না মা কে বাঁচাতে গিয়ে অজান্তেই বাবাকে মেরে ফেললাম।

পুড়ে যাওয়া বাড়ির কাছে এসে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লাম। বাবা মা বলে চিৎকার করা শুরু করলাম। নাছিম এসে আমার কান্না থামানোর সম্পূর্ণ চেষ্টা করল। বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে দেখতে পেলাম নতুন একটা ব্যাট অর্ধপোড়া অস্থায়। বাবার কাছে কিছুদিন আগে নতুন একটা ব্যাট কিনে চেয়েছিলাম। বাবা সেই দিন বিকেলে আমার জন্য নতুন ব্যাট নিয়ে বাসায় অফিস থেকে তাড়াতাড়ি ফিরেছিলেন। হয়তো ভবেছিলেন আমায় Surprise দিবেন কিন্তু আফসোস আমার হাতে ব্যাট টা দিতে পারলেন না।

বাবা মাকে দাফন করা হয় গ্রামের বাড়ির একবিশাল কবরস্থনে। সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিলেন আমাকে গ্রামের বাড়িতে রাখার। নাছিমদের সাথে আমি থাকবো।

রাতের বেলায় গ্রামে পৌছে সবার আগে বাবা মায়ের কবরের কাছে গিয়ে মা বাবাকে বললাম “ মা আমকে ক্ষমা করে দিও আমি অনেক চেষ্টা করেও তোমাকে বাঁচাতে পারলাম না। বাবা আমি জানতাম না এসব কিছু হয়ে যাবে। বাবা আমায় ক্ষমা করে দিও। আমার জন্য তুমি মরে গেলে।বাবা বিশ্বাস করো আমি জানতাম না। মাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে এই সবকিছু হয়ে যাবে। বাবা ক্ষমা করে দাও।”

কান্নায় ভেঙ্গে পড়লাম। রাতের বেলা কবর স্থানে বসে বসে কাঁদতে আমার একটুও ভয় হচ্ছিলো না। অনেক সময় ধরে কান্না করার পর চোখ মুছলাম তখন অনেক রাত হয়েগেছে প্রায় ১২ টা বাজে। সবাই হয়ত আমায় নিয়ে চিন্তা করছেন। যখন কবর স্থান থেকে প্রস্থান করছিলাম একটু এগিয়ে গিয়ে দেখলাম একজন ব্যাক্তি একটা কবর খুরছেন...........

To Be Continued

Comments

    Please login to post comment. Login