রাত ১১টা ৫৫ মিনিট।
বৃষ্টি থেমে গেলেও রেলস্টেশনটা তখনও ভিজে। প্ল্যাটফর্মে প্রায় কেউ নেই। শেষ ট্রেনের হুইসেল বাজতেই রিয়াদ দৌড়ে উঠে পড়ল।
দরজা বন্ধ হতেই ট্রেন ধীরে ধীরে চলতে শুরু করল।
পুরো বগিতে মাত্র পাঁচজন যাত্রী। একজন বৃদ্ধ, এক নারী, এক স্কুলপড়ুয়া ছেলে, এক কালো কোট পরা লোক আর রিয়াদ।
রিয়াদ জানালার বাইরে তাকাল।
হঠাৎ তার চোখ আটকে গেল কাঁচে।
জানালায় প্রতিফলনে ছয়জন মানুষ!
সে আবার চারদিকে তাকাল। না, বগিতে তো মাত্র পাঁচজনই।
তার বুকের ভেতর ধকধক শুরু হলো।
ঠিক তখনই ট্রেনের সব আলো এক সেকেন্ডের জন্য নিভে গেল।
আলো জ্বলে উঠতেই কালো কোট পরা লোকটি তার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল।
রিয়াদ ভয় পেয়ে অন্য সিটে গিয়ে বসল।
হঠাৎ তার মোবাইলে একটি মেসেজ এল।
"তুমি ভুল ট্রেনে উঠেছ। পরের স্টেশনে নেমে যাও।"
অজানা নম্বর।
সে ফোন করল।
ওপাশ থেকে শুধু একটি কথা শোনা গেল—
"পেছনে তাকিও না..."
কিন্তু মানুষ যত নিষেধ পায়, ততই কৌতূহলী হয়।
রিয়াদ ধীরে ধীরে পেছনে তাকাল।
তার ঠিক পেছনের সিটে কেউ নেই।
তবুও কানের কাছে খুব আস্তে একটি ফিসফিস শব্দ ভেসে এল—
"আমি তো এখানেই আছি..."
তার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।
ট্রেনের স্পিকারে ঘোষণা হলো—
"পরবর্তী স্টেশন... জীবিতদের শেষ স্টেশন।"
ট্রেন থামল।
দরজা খুলতেই প্ল্যাটফর্মে একজনও নেই। শুধু কুয়াশা।
কালো কোট পরা লোকটি ধীরে ধীরে নেমে যাওয়ার আগে রিয়াদের দিকে তাকিয়ে বলল—
"আজ রাতের পর তুমিও আমাদের একজন হয়ে যাবে..."
দরজা বন্ধ হয়ে গেল।
ট্রেন আবার চলতে শুরু করল।
আর তখনই রিয়াদ জানালার কাঁচে দেখল...
এবার আর ছয়জন নয়।
সাতজনের ছায়া।
— পর্ব ১ সমাপ্ত —
7
View