Posts

উপন্যাস

অপূর্ণ ভালোবাসার শেষ ঠিকানা

July 21, 2026

Umasankar Ray

7
View

                  অধ্যায় ১: প্রথম দেখা


বিকেলের আকাশটা কালো মেঘে ঢেকে গেছে। টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছে। শহরের ব্যস্ত রাস্তা পেরিয়ে অয়ন দ্রুত হাঁটছিল। বইমেলায় যাওয়ার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু বৃষ্টির জন্য রাস্তার পাশে একটি ছোট বইয়ের দোকানে ঢুকে পড়ল।
দোকানটি খুব বড় নয়, তবু চারদিকে সাজানো বইয়ের গন্ধে যেন এক অন্যরকম শান্তি। অয়ন তাক থেকে একটি উপন্যাস হাতে নিতেই পাশ থেকে ভেসে এল মিষ্টি কণ্ঠস্বর—
"মাফ করবেন, বইটা কি একটু দেখতে পারি?"
অয়ন ঘুরে তাকাল।
সামনে দাঁড়িয়ে আছে এক মেয়ে। সাদা-নীল পোশাক, কাঁধ ছুঁয়ে থাকা চুল, আর চোখে এক অদ্ভুত মায়া। অয়ন বইটি এগিয়ে দিল।
মেয়েটি হেসে বলল, "ধন্যবাদ।"
অয়নও হেসে উত্তর দিল, "স্বাগতম।"
কথা শুরু হলো বই নিয়ে। কে কোন লেখকের বই পড়তে ভালোবাসে, কোন গল্প হৃদয় ছুঁয়ে যায়—এভাবেই সময় কেটে গেল।
মেয়েটির নাম দীপিকা।
দীপিকা বলল, "আমি বিশ্বাস করি, ভালো বই মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে।"
অয়ন মৃদু হেসে বলল, "আর আমি বিশ্বাস করি, একদিন আমিও এমন একটা বই লিখব, যা মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেবে।"
দীপিকা তার দিকে তাকিয়ে বলল, "তাহলে আজ থেকেই লেখা শুরু করুন। স্বপ্নকে অপেক্ষা করাবেন না।"
বৃষ্টিটা তখন থেমে গেছে। বিদায় নেওয়ার সময় দুজনেই একবার করে একে অপরের দিকে তাকাল।
অয়ন বলল, "আবার দেখা হবে?"
দীপিকা মুচকি হেসে বলল, "যদি ভাগ্যে থাকে, অবশ্যই হবে।"
দুজন দুই পথে হাঁটতে শুরু করল। কিন্তু কেউই বুঝতে পারেনি, এই ছোট্ট পরিচয় একদিন তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় গল্প হয়ে উঠবে।

বিকেলের আকাশটা কালো মেঘে ঢেকে গেছে। টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছে। শহরের ব্যস্ত রাস্তা পেরিয়ে অয়ন দ্রুত হাঁটছিল। বইমেলায় যাওয়ার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু বৃষ্টির জন্য রাস্তার পাশে একটি ছোট বইয়ের দোকানে ঢুকে পড়ল।

দোকানটি খুব বড় নয়, তবু চারদিকে সাজানো বইয়ের গন্ধে যেন এক অন্যরকম শান্তি। অয়ন তাক থেকে একটি উপন্যাস হাতে নিতেই পাশ থেকে ভেসে এল মিষ্টি কণ্ঠস্বর—

"মাফ করবেন, বইটা কি একটু দেখতে পারি?"

অয়ন ঘুরে তাকাল।

সামনে দাঁড়িয়ে আছে এক মেয়ে। সাদা-নীল পোশাক, কাঁধ ছুঁয়ে থাকা চুল, আর চোখে এক অদ্ভুত মায়া। অয়ন বইটি এগিয়ে দিল।

মেয়েটি হেসে বলল, "ধন্যবাদ।"

অয়নও হেসে উত্তর দিল, "স্বাগতম।"

কথা শুরু হলো বই নিয়ে। কে কোন লেখকের বই পড়তে ভালোবাসে, কোন গল্প হৃদয় ছুঁয়ে যায়—এভাবেই সময় কেটে গেল।

মেয়েটির নাম দীপিকা।

দীপিকা বলল, "আমি বিশ্বাস করি, ভালো বই মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে।"

অয়ন মৃদু হেসে বলল, "আর আমি বিশ্বাস করি, একদিন আমিও এমন একটা বই লিখব, যা মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেবে।"

দীপিকা তার দিকে তাকিয়ে বলল, "তাহলে আজ থেকেই লেখা শুরু করুন। স্বপ্নকে অপেক্ষা করাবেন না।"

বৃষ্টিটা তখন থেমে গেছে। বিদায় নেওয়ার সময় দুজনেই একবার করে একে অপরের দিকে তাকাল।

অয়ন বলল, "আবার দেখা হবে?"

দীপিকা মুচকি হেসে বলল, "যদি ভাগ্যে থাকে, অবশ্যই হবে।"

দুজন দুই পথে হাঁটতে শুরু করল। কিন্তু কেউই বুঝতে পারেনি, এই ছোট্ট পরিচয় একদিন তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় গল্প হয়ে উঠবে।

                 অধ্যায় ২: বন্ধুত্বের শুরু

প্রথম দেখার পর কয়েকদিন কেটে গেছে। কিন্তু অয়নের মন থেকে দীপিকার হাসিটা যেন কিছুতেই মুছে যাচ্ছিল না। বইয়ের দোকানে গেলেই সে অজান্তেই চারপাশে তাকিয়ে দেখত, যদি আবার দেখা হয়।

এক বিকেলে সত্যিই দেখা হয়ে গেল।

দীপিকা আগের মতোই বইয়ের তাকের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। অয়নকে দেখে সে মুচকি হেসে বলল,

— "আপনি আবার?"

অয়ন হেসে উত্তর দিল,

— "মনে হচ্ছে আমাদের বইয়ের পছন্দ একই।"

দুজনেই হেসে উঠল।

সেদিন তারা অনেকক্ষণ গল্প করল। কে কোন ধরনের বই পড়তে ভালোবাসে, কার প্রিয় লেখক কে, ছোটবেলার স্বপ্ন—সবকিছু নিয়ে কথা হলো। অয়ন জানল, দীপিকার স্বপ্ন একজন সফল মানুষ হওয়া। আর দীপিকা জানল, অয়নের স্বপ্ন একজন লেখক হওয়া।

বিদায় নেওয়ার সময় দীপিকা বলল,

— "আমরা কি বন্ধু হতে পারি?"

অয়নের চোখে আনন্দের ঝিলিক ফুটে উঠল।

— "অবশ্যই।"

সেদিন থেকে শুরু হলো তাদের প্রতিদিনের কথা বলা। কখনো ফোনে, কখনো বার্তায়, আবার কখনো বইয়ের দোকানে দেখা করে। ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব আরও গভীর হতে লাগল।

একদিন বৃষ্টিভেজা বিকেলে দীপিকা বলল,

— "জানো, কিছু মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয় খুব অল্প সময়ে, কিন্তু মনে হয় যেন অনেক দিনের চেনা।"

অয়ন চুপ করে তার দিকে তাকিয়ে রইল। সে বুঝতে পারছিল, তার হৃদয়ে বন্ধুত্বের চেয়েও বড় একটা অনুভূতি জন্ম নিচ্ছে। কিন্তু সে এখনই কিছু বলতে চাইল না। সে শুধু চেয়েছিল, এই সুন্দর সময়টা যেন কখনো শেষ না হয়।

কিন্তু জীবন সব সময় মানুষের ইচ্ছামতো চলে না। তাদের সম্পর্কের সামনে ধীরে ধীরে এমন কিছু বাস্তবতা এসে দাঁড়াবে, যা তাদের দুজনকেই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে...

Comments

    Please login to post comment. Login

  • Umasankar Ray 17 hours ago

    অয়ন ও দীপিকার ভালোবাসার গল্প। স্বপ্ন, সম্পর্ক আর জীবনের কঠিন বাস্তবতার মাঝে তাদের পথ কোথায় গিয়ে মিলবে? পড়ুন ‘অপূর্ণ ভালোবাসার শেষ ঠিকানা’।