বাবার মৃত্যুর পর পুরো সংসারের দায়িত্ব এসে পড়েছিল ২১ বছরের অর্ণবের কাঁধে। দিনের বেলা একটি বইয়ের দোকানে কাজ করত, আর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস করত। নিজের স্বপ্নগুলোকে অনেক আগেই বিদায় জানিয়েছিল সে।
একদিন দোকান গুছাতে গিয়ে পুরোনো একটি বইয়ের ভেতর ভাঁজ করা একটি চিঠি পেল।
চিঠিতে লেখা ছিল—"যদি কেউ এই চিঠি পড়ে, তাহলে দয়া করে আমাকে খুঁজে নিও। আমি প্রতিদিন বিকেল পাঁচটায় শহরের পুরোনো বটগাছের নিচে অপেক্ষা করি। হয়তো তুমি আসবে না, তবুও আমি অপেক্ষা করব। — মেঘলা"
চিঠির তারিখ দেখে অর্ণব অবাক হয়ে গেল। ঠিক পাঁচ বছর আগের।অজানা এক কৌতূহল তাকে পরদিন বিকেল পাঁচটায় সেই বটগাছের নিচে নিয়ে গেল। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। সাদা সালোয়ার, হাতে একটি নীল রঙের ডায়েরি।
অর্ণব এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করল,
— “আপনার নাম... মেঘলা?”
মেয়েটি বিস্মিত চোখে তাকিয়ে বলল,
“আপনি কি... চিঠিটা পেয়েছেন?”
সেদিন থেকেই শুরু হলো দুজনের গল্প।কিন্তু কয়েকদিন পর অর্ণব জানতে পারল, পাঁচ বছর আগে যে মেয়েটি এই চিঠি লিখেছিল, সে নাকি একটি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিল।
তাহলে যার সঙ্গে এতদিন ধরে সে কথা বলছে... সে কে?