মায়ের মৃত্যুর পর ১৩ বছরের মেঘলার জীবনটা বদলে গেল। বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকে বাড়িতে তার পরিচয় হয়ে গেল শুধু "কাজের মেয়ে"।
ভোর ৪টায় ঘুম থেকে উঠতে হতো। উঠোন ঝাড়ু, রান্না, কাপড় ধোয়া, গরুকে খাবার দেওয়া—সব কাজ শেষ না হলে এক ফোঁটা পানি পর্যন্ত খেতে দেওয়া হতো না।
একদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করার পর মেঘলা চুপচাপ রান্নাঘরের কোণে রাখা একটি শুকনো রুটি হাতে নিল। ঠিক তখনই সৎমা দেখে ফেলল। “চুরি করে খেতে শিখেছিস?”
কথা শেষ না হতেই রুটিটা তার হাত থেকে কেড়ে নিয়ে মেঝেতে ফেলে দিল। সেদিনও মেঘলার পেটে একমুঠো ভাত জোটেনি।
রাতে ক্ষুধায় ঘুম আসছিল না। জানালার ফাঁক দিয়ে পাশের বাড়ির ছোট্ট মেয়েটাকে বাবার হাতে ভাত খেতে দেখে মেঘলার চোখ ভিজে উঠল। সে আস্তে করে ফিসফিস করে বলল, “মা... তুমি থাকলে আমিও কি এমন করে খেতে পারতাম?”
কিন্তু উত্তর দেওয়ার মতো কেউ ছিল না।
পরদিন স্কুলে যাওয়ার পথে ক্ষুধায় মাথা ঘুরে রাস্তার পাশে বসে পড়ল মেঘলা।
একজন বৃদ্ধা তার হাতে এক প্লেট গরম খিচুড়ি তুলে দিয়ে বললেন, — “মা, আগে খাও।”
অনেক দিন পর পেট ভরে খেতে খেতে মেঘলার চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ছিল।
বৃদ্ধা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “কাঁদছ কেন?”
মেঘলা শুধু একটাই কথা বলল…"অনেক দিন পরে কেউ আমাকে নিজের সন্তানের মতো খেতে দিল।"