নববধূর আর্তনাদ
মারিয়ম জাহান
মধুপুর গ্রামের একমাত্র সম্পদশালী ব্যাক্তি আলাউদ্দিন শাহ। সপ্তাহ কয়েক আগে তার ছোট ছেলে আরিয়ান শাহ এর সাথে পাশের গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে আফরিন এর বিয়ে হয়। মোটা টাকা যৌতুক দিয়ে আফরিনের বিয়ে দেয় তার মা- বাবা। শুধুমাত্র মেয়েকে সুখী দেখার জন্য তারা নিজেদের সর্বস্ব বিলিয়ে দেয়।
আলাউদ্দিন শাহ এর দুই ছেলে ; রাইয়ান শাহ ও আরিয়ান শাহ। রাইয়ান শাহ এর স্ত্রী ফারিদা শাহ। তাদের বিয়ের পাঁচ বছর চলছে। এর মাঝে তাদের কোনো বাচ্চা হয়নি। ফলে ফারিদাকে নানান কথা শুনতে হয়। তাই সে একরকম মনমরা হয়েই থাকে।
আফরিনের শাহ পরিবারে যাওয়ার পর থেকেই ফারিদা আরও চিন্তিত হয়ে পড়ে। তার একটাই চিন্তা ; যদি তার আগে আফরিনের বাচ্চা হয়ে যায়, তাহলে তো আফরিন এই বাড়িতে কর্তৃত্ব ফলাবে।
আফরিন মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে বলে বাড়ির সবাই তাকে একপ্রকার এড়িয়ে চলে। এরই সুযোগ নেয় ফারিদা। সে প্রথম থেকেই আফরিনকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা চালায়। বিয়ের পরের দিনই আফরিনকে রান্নাঘরে ডাকা হয়।ফারিদা কড়া স্বরে আফরিনকে বলে দেয় যে কে চায়ে কতটুকু চিনি খায়।
এরপর সবার ঘরে চা দিয়ে এসে যেই আফরিন রান্নাঘরে পা দিয়েছে, ওমনি ফারিদার চিৎকার শোনা যায়। সে চিৎকার করে আফরিনকে ডাকছে। আফরিন দৌড়ে যায় ফারিদার ঘরে। কি হয়েছে জানতে চাইলে, ফারিদা গরম চায়ের কাপ ছুড়ে মারে আফরিনের দিকে। গরম চায়ে আফরিনের হাত পুড়ে যায়, আর কাচে তার হাত কেটে যায়, মানে একেবারে ক্ষতবিক্ষত অবস্থা।