ঢাকা শহরে একটা ছোট চায়ের দোকান ছিল। নাম "শেষ চুমুক"। মালিক ছিল ৭০ বছরের দাদা - রহিম চাচা।
দোকানের সবচেয়ে আজব জিনিস ছিল একটা পুরান নীল রঙের কাপ। ওই কাপে চা খেলে তুমি ঠিক ১ মিনিটের জন্য *ভবিষ্যৎ দেখতে পেতা*।
কিন্তু একটা শর্ত ছিল - যা দেখবা তা বদলানো যাবে না।
একদিন ২০ বছরের মেয়ে তুলি আসলো। ওর বাবা অসুস্থ, অপারেশনের টাকা নাই। তুলি কাপে চুমুক দিলো...
দেখলো ৭ দিন পর তার বাবা মারা যাচ্ছে হাসপাতালের বেডে।
তুলি কান্না করে কাপটা ভেঙে ফেলতে চাইলো। রহিম চাচা হাত ধরে বললো, "মা, ভবিষ্যৎ বদলানোর জন্য না। ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হওয়ার জন্য দেখানো হয়।"
তুলি ওই ৭ দিন বাবাকে সব গল্প শোনালো, ছবি তুললো, একসাথে রান্না করলো। ৭ দিন পর বাবা শান্তিতে ঘুমের মধ্যেই চলে গেলো। কিন্তু তুলি কাঁদলো না। বললো, "আমি প্রস্তুত ছিলাম দাদা।"
১ মাস পর তুলি আবার আসলো। এবার কাপে চুমুক দিয়ে হাসলো।
দেখলো ১০ বছর পর সে নিজেই এই দোকানের মালিক, আর একটা ছোট ছেলেকে চা বানানো শিখাচ্ছে।
রহিম চাচা সেদিন রাতেই মারা গেলেন। যাওয়ার আগে তুলি কে কাপটা দিয়ে গেলেন।
এখন "শেষ চুমুক" দোকান তুলি চালায়।
মানুষ এখনো আসে, একটা চুমুক দেয়... আর নিজের জীবনটাকে একটু বেশি করে ভালোবাসতে শেখে।
*গল্পের শিক্ষা:*
ভবিষ্যৎ বদলানো যায় না। কিন্তু ভবিষ্যৎকে কিভাবে ফেস করবা, ওইটা তুমি ঠিক করতে পারো।