হারানো মানিব্যাগ
রাহাত একটি দরিদ্র পরিবারের পরিশ্রমী ছেলে। সে প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার পাশাপাশি বাবাকে কাজে সাহায্য করত। একদিন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তার পাশে একটি মানিব্যাগ দেখতে পেল। ব্যাগটি খুলে সে দেখল, ভেতরে অনেক টাকা, কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র এবং একজন ব্যক্তির পরিচয়পত্র রয়েছে।
মুহূর্তের জন্য রাহাতের মনে হলো, এই টাকা দিয়ে তাদের পরিবারের অনেক অভাব দূর হতে পারে। কিন্তু পরক্ষণেই সে ভাবল, অন্যের জিনিস নিজের কাছে রাখা অন্যায়। তাই পরিচয়পত্রে দেওয়া ঠিকানা দেখে সে মানিব্যাগের মালিককে খুঁজে বের করার সিদ্ধান্ত নিল।
অনেক খোঁজাখুঁজির পর রাহাত সেই ব্যক্তির বাড়িতে পৌঁছাল। মানিব্যাগটি ফিরে পেয়ে ভদ্রলোক অত্যন্ত আনন্দিত হলেন। তিনি জানালেন, ব্যাগটি হারিয়ে যাওয়ায় তিনি খুবই দুশ্চিন্তায় ছিলেন, কারণ এতে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিল। তিনি রাহাতকে পুরস্কার হিসেবে কিছু টাকা দিতে চাইলেন।
রাহাত বিনয়ের সঙ্গে বলল, “আমি শুধু আমার দায়িত্ব পালন করেছি। অন্যের জিনিস ফিরিয়ে দেওয়াই সঠিক কাজ।” ছেলেটির সততা ও চরিত্রে মুগ্ধ হয়ে ভদ্রলোক তার পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।
এরপর থেকে রাহাত আরও মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে লাগল। কয়েক বছর পর সে একজন সফল মানুষ হয়ে সমাজে সততার উদাহরণ হিসেবে পরিচিত হলো। সবাই তাকে সম্মান করতে লাগল এবং তার গল্প থেকে শিক্ষা নিল যে, সততা মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ।
নৈতিক শিক্ষা: সততার মূল্য সবসময়ই সবচেয়ে বেশি। সৎ কাজের প্রতিদান একদিন না একদিন অবশ্যই পাওয়া যায়।