২০২২ সালে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত লেখক সালমান রুশদি তার ওপর হামলার ঘটনায় সন্ত্রাসী মামলার শুনানিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতে সরাসরি সাক্ষ্য দিয়েছেন। সংবাদ সংস্থা এপি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, হামলাকারী হাদি মাতারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিগোষ্ঠীকে সহায়তার অভিযোগে নতুন করে ফেডারেল বিচারকাজ চলছে। ২৩ জুলাই রুশদি এই মামলার সাক্ষ্য দিতে গিয়ে সেইদিনের বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
নিউইয়র্কের বাফেলোতে একটি ফেডারেল আদালতে মাতারের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় রুশদি জানিয়েছেন, প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন তাকে ঘুষি মারা হয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘আমি মঞ্চে শুয়ে ছিলাম আর আমার চারপাশে ছিল প্রচুর রক্ত। সেটি ছিল রক্তের এক বিশাল ও বিস্তৃত সাগর।'
আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় ৭৯ বছর বয়সী ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ-আমেরিকান এই লেখক তার ডান চোখের চশমা খুলে দেখান। তিনি ডান চোখ দিয়ে এখন আর দেখতে পান না এবং তার একটি হাত অকেজো হয়ে পড়েছে। রুশদি জানিয়েছেন, হামলার সময় ছুরিটি তার মস্তিষ্ক থেকে মাত্র এক মিলিমিটার দূরে ছিল।
এদিকে রুশদির ওপর হামলার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গত ফেব্রুয়ারিতে দোষী সাব্যস্ত হন ২৭ বছর বয়সী লেবানিজ বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক হাদি মাতার। তাকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং এখন তিনি এই সাজা ভোগ করছেন। এবার ফেডারেল আদালতে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত অভিযোগের বিচার চলছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ১২ আগস্ট নিউইয়র্কের চৌতাকুয়া ইনস্টিটিউশনের মঞ্চে বক্তৃতা দেওয়ার সময় হাদি মাতারের ছুরিকাঘাতের শিকার হন রুশদি। এই হামলার ঘটনা নিয়ে ‘নাইফ: মেডিটেশনস আফটার অ্যান অ্যাটেম্পটেড মার্ডার’ নামের একটি স্মৃতিকথা প্রকাশ করেন তিনি। চলচ্চিত্র নির্মাতা অ্যালেক্স গিবনি এই বইটির ওপর ভিত্তি করে একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন।