রোদে পোড়া পুরোনো বইয়ের গন্ধটা সব সময়ই অয়নকে টানে। নদীর ধারের পুরোনো লাইব্রেরিটার বয়স আড়াইশো বছর। শেওলা ধরা ইটের দেয়াল আর ধুলো জমা সেলফগুলোর মাঝে অয়ন নিজের বেশিরভাগ বিকেল কাটিয়ে দেয়। কিন্তু আজকের দিনটা অন্যান্য দিনের মতো ছিল না।
লাইব্রেরির উত্তর দিকের বিষণ্ণ কোণে জং ধরা একটা লোহার আলমারি ছিল, যা কখনো খোলা হতো না। অয়ন হঠাৎ দেখতে পেল আলমারির নিচের ড্রয়ারটা খানিকটা ফাঁক হয়ে আছে। কৌতুহলের বশে সে এগিয়ে গেল। ড্রয়ারের ভেতর কোনো দামি বই ছিল না, ছিল চামড়ায় বাঁধানো একটি পুরোনো খাতা আর একটা অদ্ভুত ধূসর রঙের খাম।
খামের ওপর কোনো নাম লেখা ছিল না, শুধু রক্তবর্ণের কালি দিয়ে আঁকা একটি জ্যামিতিক নকশা—তিনটি বৃত্ত এক জায়গায় মিলে একটি ত্রিভুজ তৈরি করেছে।
অয়ন খামটি খুলতেই ভেতর থেকে একটি ধাতব পাত বের হয়ে এলো। পাতাটি তামার মতো দেখতে হলেও হাত ছোঁয়াতেই ভেতরে একধরনের হালকা স্পন্দন অনুভব করা গেল। ধাতব পাতের ওপর স্পষ্ট বাংলায় লেখা:
"যদি তুমি এই লেখাটি পড়ে থাকো, তবে জেনে রেখো সময় আর সোজা পথে চলছে না। নিচে যা ঢাকা পড়ে আছে, তা জেগে ওঠার সময় হয়েছে। সংকেতসূত্র: নদীর তলদেশের তৃতীয় শিলা।"
ঠিক সেই মুহূর্তে লাইব্রেরির ছাদ কাঁপিয়ে এক অদ্ভুত শব্দ হলো। শহরের সব লাইট এক লহমায় নিভে গেল। পুরো শহর ডুবে গেল এক গাঢ় ও থমথমে অন্ধকারে...
(চলবে...)
5
View