স্মৃতির সরোবর
গ্রামের এক কোণে ছিল একটি শান্ত সরোবর। ছোটবেলায় প্রতিদিন বিকেলে সেখানে যেত রায়হান আর তার বন্ধু নিলয়। কখনো মাছ ধরত, কখনো পানিতে পাথর ছুড়ে ঢেউ গুনত, আবার কখনো গাছের ছায়ায় বসে ভবিষ্যতের কত স্বপ্ন দেখত।
সময় কারও জন্য থেমে থাকে না। পড়াশোনা, কাজ আর জীবনের ব্যস্ততায় দুজনের পথ আলাদা হয়ে গেল। একসময় যোগাযোগও হারিয়ে গেল। বহু বছর পর এক বর্ষার বিকেলে রায়হান আবার সেই সরোবরের কাছে ফিরে এল।
চারপাশ অনেক বদলে গেছে। নতুন রাস্তা হয়েছে, অনেক গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। কিন্তু সরোবরের জলে তাকাতেই মনে হলো, সেখানে এখনো ভেসে আছে শৈশবের হাসি, বন্ধুত্বের গল্প আর হারিয়ে যাওয়া দিনগুলোর প্রতিচ্ছবি।
রায়হান চুপচাপ বসে রইল। চোখের কোণে অজান্তেই জল চলে এল। সে বুঝতে পারল, মানুষ দূরে চলে যেতে পারে, সময় বদলে যেতে পারে, কিন্তু সত্যিকারের স্মৃতি কখনো হারিয়ে যায় না। স্মৃতিগুলো ঠিক সরোবরের শান্ত জলের মতো—নীরব, গভীর, আর চিরকাল হৃদয়ে বেঁচে থাকে।
সেদিন বাড়ি ফেরার আগে রায়হান একবার পেছন ফিরে তাকিয়েছিল। মনে মনে বলেছিল, "জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তগুলো হয়তো ফিরে আসে না, কিন্তু স্মৃতির সরোবর সেগুলোকে আজীবন আগলে রাখে।"