জিনের সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়েছে, গত কিছুদিন আগে এক সাতসকালে।
আপনারা যারা এই জাতীয় কোন অভিজ্ঞতা নেই, তারা চোখ কপালে উঠালে নামিয়ে ফেলুন।
সেদিন আমি ফজরের নামাজ পড়ে, বাসায় কুরআন তেলওয়াত করছি।তারপর আবার শুয়ে পড়লাম, বলে রাখি আমি বাসায় একা থাকি এরকম বহু রাত থেকেছি। ঘটনার আগের রাত ও আমি একা ছিলাম।
আমি যখন কুরআন পড়ে বিছানায় গেলাম, কতক্ষণ মোবাইল টিপে একটা আলোচনা চালিয়ে দিয়ে দেয়ালের পাশের দিকে মুখ করে চোখ বন্ধ অবস্থায় ঘুমানোর চেষ্টা করলাম। এর মাঝে হঠাৎ রুমটা ভারী হয়ে গেল, ফ্যান কিন্তু বন্ধ ছিল। আমার কাছে সবকিছু স্পষ্ট ছিল, বাসায় ও কেউ নেই। তো বাসার পিছন দিয়ে কেউ একজন আসছে এটা যেমন বুঝতে পারছি,তো আমি আরও সজাগ থাকলাম। সামনের দরজা দিয়ে আসেনি,পিছনে একটা জানালা কিছুটা খোলা ছিল। কেউ বাসায় আসছে এটা বুঝার পর, আমি আর ফিরে তাকায়নি সে কে?এরপর আমি যেখানে শুয়ে আছি,সেই রুমে আসলো।রুমটা একেবারে ভারী হয়ে গেল, আমি যখন টের পেলাম কেউ একজন বাসায় আসছে তখন আমি নবীজীর বলে দেয়া জান্নাতের রত্নভান্ডার " লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ" অর্থ-- “আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি নেই, কোনো ক্ষমতা নেই।”
এবং লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বারবার পড়তেছি। আমি একনাগাড়ে এগুলো চুপিসারে পড়ে যাচ্ছি। যেই জিনটা আসলো আমি তার দিকে তাকায়নি, সে কি পরি( মহিলা জিন) ছিল নাকি পুরুষ জিন। কিছুটা ভয় পেলেও সেই দুইটা দোয়ার বদৌলতে আমি উৎরে গেলাম ভয়কে পাশকাটিয়ে। প্রায় ১ মিনিট সে ছিল সম্ভবত, সে যখন চলে গেছে সেটা আমি বুঝতে পারছি।
কিছু যৌক্তিক প্রশ্ন আপনারা করতে পারেন আমাকে.....
১, আপনিতো তাকাননি তাহলে কিভাবে বুঝলেন সে জীন?হয়তো আপনার মনের ভয়?
২, হয়তো কোন ঈদুরের দৌড়াদৌড়ি আপনি ভয় পেয়েছেন, একা থাকাতে মনে হয়েছে সে জীন?
উত্তর -- আমি বলে রাখি এই সাতসকালের ভারীই অনুভব করা আর মধ্যরাতের ভারীটা অনেক তফাৎ, আর এখানের ভারী হচ্ছে শুধু ভয়ের ভারী নয় একটা উপস্থিতির ভারী। সবচেয়ে বড় কথা চলে যাওয়ার পর বুঝতে পারাটা, চলে যখন গেছে আমি স্পষ্ট অনুভব করছি এখন এখানে আর কেউ নেই।
এই যে তাকে আমি দেখিনি তবে স্পষ্ট অনুভব করছি সে আসছে,এটা আমাকে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস দৃঢ় করেছে। আল্লাহকে আমরা দেখি না, তবে তিনি আছেন কোন সন্দেহ নেই।
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ!
আরাফাত হোসেন রাকিব, পশ্চিম ছাগলনাইয়া।