কানাডিয়ান-ব্রিটিশ উপন্যাসিক র্যাচেল কাস্কের নতুন উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্রটি অস্কারজয়ী অভিনেত্রী নাটালি পোর্টম্যানের জীবন দ্বারা অনুপ্রাণিত বলে সাহিত্য মহলে ব্যাপক আলোচনা ও গুঞ্জন রয়েছে। সম্প্রতি লিটারারি হাব এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
লিটারারি হাবের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোনো কোনো পাঠক ধারণা করছেন যে, র্যাচেল কাস্কের সর্বশেষ উপন্যাস ‘লাইফ অব এম’ এর কেন্দ্রীয় চরিত্রটি ‘ক্লোজার’, ‘ব্ল্যাক সোয়ান’ ও ‘জ্যাকি’ এর মতো বিখ্যাত চলচ্চিত্রের তারকা নাটালি পোর্টম্যানের ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা হয়েছে। বইটি আগামী ২৫ আগস্ট প্রকাশিত হবে।
উপন্যাসটি ‘এম’ নামের এক চলচ্চিত্র তারকাকে নিয়ে রচিত। একটি ইউরোপীয় চলচ্চিত্রে একজন তরুণী নবাগতার চরিত্রে অভিনয় করার পর 'এম' এর ক্যারিয়ার সাফল্যের শিখরে পৌঁছায়। অপরদিকে লুক বেসোনের ফরাসি চলচ্চিত্র ‘লিওন: দ্য প্রফেশনাল’ এ অভিনয়ের সুবাদে মাত্র ১২ বছর বয়সেই পোর্টম্যান খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। ‘এম’ একটি চলচ্চিত্রে ব্যালে নৃত্যশিল্পীর চরিত্রেও অভিনয় করেন। আর পোর্টম্যানের অন্যতম বিখ্যাত একটি চরিত্র হলো ‘ব্ল্যাক সোয়ান’ চলচ্চিত্রে ব্যালে নৃত্যশিল্পী নিনা সায়ার্স।
এদিকে 'এম' চরিত্রটি পোর্টম্যানের দ্বারা অনুপ্রাণিত—এমন ধারণার বিষয়ে কাস্ক বা পোর্টম্যান কেউই কোনো মন্তব্য করেননি। আর তাদের এই নীরবতা সম্ভবত আরও জল্পনা-কল্পনাকে উসকে দিচ্ছে।
নাটালি পোর্টম্যান এবং র্যাচেল কাস্ক বাস্তবে বন্ধু এবং তারা একে অপরের কাজের প্রশংসা করে থাকেন। ২০২৪ সালে পোর্টম্যান তার বুক ক্লাবের জন্য কাস্কের ‘প্যারেড’ উপন্যাসটি বেছে নিয়েছিলেন। বইটি ২০২৪ সালের গোল্ডস্মিথ প্রাইজ জিতেছে। সে সময় ইনস্টাগ্রামে পোর্টম্যান লিখেছিলেন, ‘র্যাচেল কাস্ক তার উপন্যাসে গল্প বলার প্রথাগত রীতি ও কাঠামোকে যেভাবে ভেঙে নতুন রূপ দেন, তা আমাকে সবসময়ই মুগ্ধ করে।’
উল্লেখ্য, র্যাচেল কাস্ক ১৯৬৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কানাডায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আধুনিক কথাসাহিত্যে নতুন রূপ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। তার অনন্য গদ্যশৈলী এবং নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গি সাহিত্যজগতে গভীর প্রভাব ফেলেছে। ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত কাস্কের প্রথম উপন্যাস 'সেভিং অ্যাগনেস' হুইটব্রেড ফার্স্ট নভেল অ্যাওয়ার্ড পায়। এরপর ১৯৯৫ সালে তিনি প্রকাশ করেন 'দ্য টেম্পোরারি' এবং ১৯৯৭ সালে 'দ্য কান্ট্রি লাইফ'। এটি ১৯৯৮ সালে সমারসেট মম অ্যাওয়ার্ড জয় করে। ২০০৩ সালে তিনি 'দ্য লাকি ওয়ানস' উপন্যাসটি প্রকাশ করেন। এটি ছিল পাঁচটি ভিন্ন চরিত্রের পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে রচিত পরস্পর সংযুক্ত গল্পের একটি উপন্যাস। একই বছর 'গ্রান্টা' ম্যাগাজিন কাস্ককে যুক্তরাজ্যের সেরা ২০ জন তরুণ উপন্যাসিকের একজন হিসেবে মনোনীত করে।