শখেরও বুঝি বয়স হয়,
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার রঙ বদলে যায়।
কিছু শখ হারিয়ে যায় নিঃশব্দে,
কিছু শখ চাপা পড়ে যায়
সংসারের দায়িত্বের ভারে।
ছোটবেলায় মাকে দেখতাম—
রোদের তীব্র তাপে সারাদিন কাজ করতেন।
আবার হঠাৎ মুষলধারে বৃষ্টি নামলে
বাড়ির আঙিনায় ছুটে যেতেন,
সোনালি ধান যেন নষ্ট না হয়,
শুকনো মরিচ যেন ভিজে না যায়।
মনে মনে কত শখ করেছে
"একদিন যদি একটা সোনার বালা পরতে পারতাম!"
বড় মাছের ভাজাগুলো
প্রতিদিনই আমাদের থালায় তুলে দিতেন মা।
আমরা তৃপ্তি নিয়ে খেতাম,
তখন বুঝিনি—
মায়েরও হয়তো ইচ্ছে হতো
আমাদের মত তৃপ্তি করে ভাজা মাছ খেতে
দামী শাড়ি পরার স্বপ্নও ছিল তাঁর,
কিন্তু সময় আর সংসার সে সুযোগ দেয়নি।
তবুও তিনি থেমে থাকেননি—
নিজের সব স্বপ্ন গোপনে সরিয়ে রেখে
সন্তানদের স্বপ্ন বুনে গেছেন।
আজ সবাই মাকে বলি কিন্তু মা সোনার বালাটা আর পরতে চাই না
বড় মাছ খেতে পারে না যদি সুগারটা বেড়ে যায়
লাল মাংস দেখলে দূরে টেলে দেয়
প্রেশারের ভয়ে
মায়ের নরম হাতের চামড়াগুলোও ভাজে ভাজে ক্লান্ত হয়ে গেছে
তবু ছেলেমেয়ের হাঁসি মুখ আজও মাকে হাঁসায়
শখের শতরঙ খোঁজে পায় হয়ত আমাদের সফলতায়,
ভালো থাকায়।
— ডাঃ মোঃ তরিকুল ইসলাম
সহকারী রেজিস্ট্রার
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
তারিখ: ০৩ আগস্ট ২০২৬