গবেষণাপত্রে প্লেজিয়ারিজম বা চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ ওঠার পর সমালোচনার মুখে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ব্রিটিশ শিক্ষাবিদ ও লেখক জেসন আর্ডে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
আর্ডের স্মৃতিকথা ‘গ্রেট অ্যান্ড আনফরচুনেট থিংস’ ১১ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রে এবং ২৭ আগস্ট যুক্তরাজ্যে প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু বইটি প্রকাশের এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে তার পদত্যাগের বিষয়টি সামনে এল। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাহিত্য ও বুক রিভিউ পত্রিকা কিরকাস এই বইটিকে ‘একাডেমিক সাফল্যের এক কঠোর ও শ্রমসাধ্য আখ্যান’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এই স্মৃতিকথায় অটিজম আক্রান্ত এক বালক হিসেবে আর্ডের শৈশব-কৈশোরের কথা এবং পরবর্তী জীবনে মৃগী রোগ ও বিষণ্নতার বিরুদ্ধে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত সমাজবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ৪১ বছর বয়সী এই লেখক ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত পড়ালেখা শেখেননি।
২০২৩ সালে আর্ডে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সোশিওলজি অব এডুকেশন’ এর অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হন এবং এর মাধ্যমে তিনি বিখ্যাত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যাপকে পরিণত হন। তবে চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে একটি তদন্ত শুরু করে। ‘দ্য গার্ডিয়ান’ এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের সূত্র ধরে এই তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ওই প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, আর্ডে তার পিএইচডি গবেষণাপত্রের কিছু অংশ অন্য উৎস থেকে হুবহু নকল (প্লেজিয়ারিজম) করেছেন।যদিও তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি ‘দ্য গার্ডিয়ান’ কে বলেছেন, ‘এই অভিযোগগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে একাধিক পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত ও কঠোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে। এর মধ্যে একটি একাডেমিক অসদাচরণ বিষয়ক প্যানেলের তদন্তেও এই সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে যে, সেখানে কোনো ধরনের নকল বা একাডেমিক অসদাচরণের ঘটনা ঘটেনি।’
এদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস' কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্ডে বলেছেন, ‘আমার করা ভুলগুলোর জন্য আমিই দায়ী। আমি নিজেকেই এর জন্য দায়ী মনে করি এবং অন্যদেরও উচিত আমাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা। আমরা এখানে শিক্ষাঙ্গন বা অ্যাকাডেমিক জগতের কথা বলছি। আমি তো আর কাউকে খুন করিনি। আমার মতে, আমি যে নিষ্ঠুরতার শিকার হয়েছি এবং আমাকে যেভাবে একজন মিথ্যাবাদী ও অলীক কল্পনাবিলাসী হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।’
পরবর্তীতে এক চিঠিতে আর্ডে জানিয়েছেন, নিজের ও পরিবারের মঙ্গলের জন্য তিনি তার পদ থেকে পদত্যাগ করছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমি কিছুটা শান্তি, কিছুটা গোপনীয়তা এবং সাধারণ জীবনের আমেজ ফিরে পেতে চাই। আমি আর এমন কোনো পরিস্থিতিতে থাকতে চাই না যেখানে মনে হয় আমি সবসময়ই সবার চোখের সামনে বা আলোচনার কেন্দ্রে আছি এবং যেখানে আমার জীবনের প্রতিটি বিষয়ই জনসমক্ষে বিচার-বিশ্লেষণের শিকার হয়।’
উল্লেখ্য, মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’ এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আর্ডের মার্কিন প্রকাশক ‘সাইমন অ্যান্ড শুস্টার’ জানিয়েছে, চৌর্যবৃত্তি নিয়ে বিতর্ক সত্ত্বেও তারা ‘গ্রেট অ্যান্ড আনফরচুনেট থিংস’ বইটি নির্ধারিত সময়েই প্রকাশ করবে।