ষষ্ঠ অধ্যায়: নতুন পথের শুরু
পরদিন সকাল।
রিফাতের চোখে আজ এক অন্যরকম আলো। অনেক দিন পর তার মনে হলো, অন্ধকার যতই ঘন হোক, কোথাও না কোথাও আলো লুকিয়ে থাকে।
হালিমা বেগম ভোরেই নামাজ পড়ে ছেলের জন্য নাস্তা তৈরি করলেন। সামান্য রুটি আর ডাল। কিন্তু আজ সেই খাবারেও যেন আশার স্বাদ।
রিফাত মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল,
— "মা, আমি তোমাকে একটা কথা দিচ্ছি। আজ থেকে তোমার কষ্ট একদিনও বৃথা যাবে না।"
হালিমা বেগম মৃদু হেসে বললেন,
— "আমার কষ্টের দাম টাকা দিয়ে মাপা যায় না বাবা। তুই শুধু ভালো মানুষ হ।"
সেদিনই রিফাত স্কুলে গিয়ে পরীক্ষার ফি জমা দিল। রসিদটা হাতে নিয়ে তার বুকটা হালকা হয়ে গেল। এত দিনের দুশ্চিন্তা যেন এক মুহূর্তে দূর হয়ে গেল।
কিন্তু জীবনের পরীক্ষা তখনও শেষ হয়নি।
ক্লাস শেষে প্রধান শিক্ষক রিফাতকে নিজের কক্ষে ডাকলেন।
— "রিফাত, তোমার পড়াশোনার কথা আমি অনেক শুনেছি। তোমার শিক্ষকরা বলছেন, তুমি খুব মেধাবী।"
রিফাত মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল।
প্রধান শিক্ষক টেবিলের ড্রয়ার থেকে একটি খাম বের করলেন।
— "এটা একটি শিক্ষাবৃত্তির আবেদনপত্র। আমাদের স্কুল থেকে একজন ছাত্রকে নির্বাচিত করা হবে। যদি তুমি নির্বাচিত হও, তাহলে তোমার পড়াশোনার অনেক খরচ বহন করা হবে।"
রিফাত অবাক হয়ে খামটা হাতে নিল।
তার চোখের সামনে ভেসে উঠল মায়ের সেই লাল শাড়ি, বাবার স্মৃতি, আর বাজারের সেই অচেনা মানুষটির কথা।
সে মনে মনে বলল,
"আল্লাহ, এবার আমি শুধু নিজের জন্য নয়, আমার মায়ের হাসির জন্য লড়ব।"
স্কুল থেকে বেরিয়ে আকাশের দিকে তাকাল রিফাত। কালো মেঘ ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে। মেঘের ফাঁক দিয়ে সূর্যের আলো নেমে এসেছে।
হয়তো এ শুধু নতুন একটি সকাল নয়।
হয়তো এ এক নতুন জীবনের শুরু।
3
View