তৃতীয় অধ্যায়: প্রথম কামরার রহস্য
ট্রেনটা ছেড়ে দেওয়ার শব্দ হলো।
হুঁউউউউ...
আরিয়ান শেষবারের মতো প্ল্যাটফর্মের দিকে তাকাল।
স্টেশনমাস্টার এখনো সেখানে দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁর মুখে এমন এক দৃষ্টি, যেন তিনি জানেন—এই যাত্রার পর আর কিছুই আগের মতো থাকবে না।
ট্রেন ধীরে ধীরে এগিয়ে চলল।
আরিয়ান জানালার পাশে দাঁড়িয়ে রইল। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই নিশানপুর স্টেশনটা কুয়াশার মধ্যে মিলিয়ে গেল।
তারপরই সে বুঝতে পারল—
ট্রেনে আর কোনো যাত্রী নেই।
পুরো কামরা ফাঁকা।
শুধু কয়েকটি পুরোনো কাঠের আসন, মাথার ওপর হলুদ আলো আর জানালার বাইরে ছুটে চলা অন্ধকার।
আরিয়ান নিজের আসনে বসে পড়ল।
তার হাতে এখনো সেই কাগজটা।
সে আবার পড়ল—
“তোমার বাবার অপেক্ষা এখনো শেষ হয়নি।”
হঠাৎ তার মনে হলো, কাগজটার পেছনেও কিছু লেখা আছে।
সে কাগজটা উল্টে দিল।
পেছনে একটা তারিখ।
১২ আগস্ট, ২০০৬।
আরিয়ানের বুক কেঁপে উঠল।
এটা তার বাবার নিখোঁজ হওয়ার বছর।
কিন্তু তারিখটা দেখে সে আরও অবাক হলো।
আজও ১২ আগস্ট।
ঠিক বিশ বছর পর।
আরিয়ান নিজের অজান্তেই ফিসফিস করে বলল,
—এটা কীভাবে সম্ভব?
ঠিক তখনই পাশের কামরা থেকে একটা শব্দ এল।
টক... টক... টক...
মনে হলো কেউ দরজায় নক করছে।
আরিয়ান উঠে দাঁড়াল।
কিছুক্ষণ অপেক্ষা করল।
আবার শব্দ হলো।
টক... টক... টক...
সে ধীরে ধীরে দরজার কাছে গেল।
দরজাটা খুলতেই পাশের কামরার অন্ধকার তার সামনে দেখা দিল।
কামরাটা খালি।
কিন্তু মাঝখানের একটা আসনের ওপর পড়ে আছে একটা পুরোনো কালো ব্যাগ।
আরিয়ান ব্যাগটার দিকে এগিয়ে গেল।
ব্যাগের ওপর ধুলো জমে আছে।
সে হাত বাড়িয়ে ব্যাগটা তুলতে যাবে—
ঠিক তখনই তার চোখ পড়ল ব্যাগের গায়ে লাগানো ছোট্ট নামের ট্যাগে।
সেখানে লেখা—
“মো. রাশেদ”
আরিয়ান জমে গেল।
এটা তার বাবার নাম।
সে ধীরে ধীরে ব্যাগটা হাতে তুলে নিল।
ব্যাগের ভেতর থেকে তখন একটা শব্দ হলো।
টিক... টিক... টিক...
যেন ভেতরে কোনো ঘড়ি চলছে।
আরিয়ান ব্যাগটা খুলতে হাত বাড়াল।
কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে পুরো ট্রেনের আলো নিভে গেল।
অন্ধকারের মধ্যে কারও কণ্ঠ ভেসে এল—
—ব্যাগটা খুলো না, আরিয়ান।
23
View