চতুর্থ অধ্যায়: জানালার ওপাশে যে শহর
—ব্যাগটা খুলো না, আরিয়ান।
অন্ধকারের মধ্যে কণ্ঠটা শুনে আরিয়ান জমে গেল।
কণ্ঠটা খুব কাছে।
কিন্তু কাউকে দেখা যাচ্ছে না।
—কে? কে কথা বলছেন?
কোনো উত্তর নেই।
আরিয়ান পকেট থেকে মোবাইল বের করল। স্ক্রিন জ্বালাতেই ক্ষীণ আলোয় কামরাটা দেখা গেল।
কেউ নেই।
শুধু সেই পুরোনো কালো ব্যাগটা তার সামনে পড়ে আছে।
আরিয়ান ব্যাগটা নামিয়ে রাখল।
হঠাৎ ট্রেনটা প্রচণ্ড ঝাঁকুনি দিল।
সে জানালার দিকে তাকাল।
বাইরে যা দেখল, তাতে তার বুক কেঁপে উঠল।
ট্রেনটি আর কোনো রেললাইনের ওপর দিয়ে যাচ্ছে না।
জানালার ওপাশে দেখা যাচ্ছে একটি শহর।
উঁচু উঁচু ভবন, রাস্তার পাশে পুরোনো দোকান, সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছে মানুষ। সবকিছু অদ্ভুতভাবে পরিচিত।
আরিয়ান কাঁচের কাছে মুখ নিয়ে গেল।
তারপর সে একটা সাইনবোর্ড দেখতে পেল।
নিশানপুর শহর — ২০০৬
আরিয়ান কয়েক সেকেন্ড কোনো কথা বলতে পারল না।
—অসম্ভব...
সে নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিল না।
এটা তো তার বর্তমান শহর নয়।
এটা বিশ বছর আগের নিশানপুর।
ঠিক তখনই জানালার বাইরে একজন মানুষকে দেখা গেল।
লোকটি রাস্তায় দাঁড়িয়ে ট্রেনের দিকে তাকিয়ে আছে।
আরিয়ানের বুক ধক করে উঠল।
লোকটিকে সে চিনতে পারছে না।
কিন্তু লোকটির হাতে থাকা ছবিটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।
ছবিতে একজন তরুণ দাঁড়িয়ে আছে।
আরিয়ান ছবিটার দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল—
—বাবা...
পরের মুহূর্তেই ট্রেনের আলো আবার জ্বলে উঠল।
জানালার বাইরের শহর অদৃশ্য।
আবার শুধু কুয়াশা আর অন্ধকার।
আরিয়ান ধীরে ধীরে পিছনে ফিরে তাকাল।
কালো ব্যাগটা আর সেখানে নেই।
তার জায়গায় পড়ে আছে একটি পুরোনো খাম।
খামের ওপর লেখা—
“আরিয়ানের জন্য।”
24
View