পঞ্চম অধ্যায়: হারিয়ে যাওয়া চিঠি
খামটার দিকে তাকিয়ে আরিয়ানের বুকের ভেতরটা কেমন যেন ভারী হয়ে গেল।
খামের ওপর পরিষ্কার অক্ষরে লেখা—
“আরিয়ানের জন্য।”
তার হাত কাঁপছিল।
সে চারপাশে তাকাল। পুরো কামরা ফাঁকা। জানালার বাইরে শুধু অন্ধকার ছুটে যাচ্ছে।
কিছুক্ষণ পর সাহস করে খামটা হাতে নিল।
খামের কাগজটা পুরোনো। কিনারাগুলো হলদে হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে বহু বছর ধরে কোথাও লুকিয়ে রাখা ছিল।
আরিয়ান খামটা খুলল।
ভেতরে একটি মাত্র চিঠি।
সে আলোয় এনে পড়তে শুরু করল।
“আরিয়ান,
তুমি যদি এই চিঠি পড়ে থাকো, তাহলে বুঝবে ট্রেনটা তোমাকে সত্যিই নিয়ে এসেছে।
আমি জানি, তোমার অনেক প্রশ্ন আছে।
কিন্তু এখনই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে যেও না।
শুধু মনে রেখো—এই ট্রেনে কাউকে বিশ্বাস করা যাবে না।”
আরিয়ানের চোখ আটকে গেল শেষ বাক্যে।
কাউকে বিশ্বাস করা যাবে না।
চিঠির নিচে কোনো নাম নেই।
সে কাগজটা উল্টে দেখল। পেছনে আরেকটি ছোট বাক্য লেখা—
“তোমার বাবা তোমাকে খুঁজতে গিয়েছিলেন।”
আরিয়ানের বুক ধক করে উঠল।
তার বাবা কি সত্যিই তাকে খুঁজতে গিয়েছিলেন?
কিন্তু কেন?
সে তখন এত ছোট ছিল যে বাবার শেষ কয়েক বছরের স্মৃতিও তার খুব পরিষ্কার নয়।
হঠাৎ কামরার দরজা নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে গেল।
ঠাস!
আরিয়ান চমকে উঠল।
তারপর ট্রেনের স্পিকারে কর্কশ একটা শব্দ হলো।
কেউ একজন ঘোষণা করল—
—পরবর্তী স্টেশন... স্মৃতিপুর।
আরিয়ান ভ্রু কুঁচকে ফেলল।
এমন কোনো স্টেশনের নাম সে কখনো শোনেনি।
ট্রেন ধীরে ধীরে গতি কমাতে শুরু করল।
জানালার বাইরে আবার আলো দেখা গেল।
একটা ছোট স্টেশন।
স্টেশনের নামফলকে লেখা—
স্মৃতিপুর
আরিয়ান জানালার দিকে এগিয়ে গেল।
ঠিক তখনই প্ল্যাটফর্মে একজন মানুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেল।
লোকটির হাতে একটা লণ্ঠন।
আর মুখটা...
আরিয়ান যতই তাকাল, ততই তার মনে হলো—
এই মুখটা সে আগে কোথাও দেখেছে।
লোকটি ধীরে ধীরে মাথা তুলল।
সরাসরি আরিয়ানের দিকে তাকাল।
তারপর হাত তুলে ইশারা করল—
ট্রেন থেকে নেমে এসো।
22
View