Posts

উপন্যাস

শেষ ট্রেনের যাত্রী

August 8, 2026

Nijhum Akter

25
View

ষষ্ঠ অধ্যায়: অদৃশ্য যাত্রী
আরিয়ান জানালার পাশে দাঁড়িয়ে রইল।
প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটি এখনো তার দিকে তাকিয়ে আছে। এক হাতে লণ্ঠন, অন্য হাত দিয়ে বারবার ইশারা করছে।
নেমে এসো।
আরিয়ানের মনে হলো, লোকটাকে সে কোথাও দেখেছে।
কিন্তু কোথায়?
হঠাৎ তার চোখ পড়ল ট্রেনের দরজার পাশে লাগানো ছোট্ট আয়নাটার দিকে।
আয়নায় নিজের প্রতিচ্ছবির পাশাপাশি সে আরেকজনকে দেখতে পেল।
তার ঠিক পেছনে একজন লোক দাঁড়িয়ে আছে।
কালো কোট।
মাথা নিচু।
আরিয়ানের শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।
সে ধীরে ধীরে পিছনে ফিরল।
কেউ নেই।
আবার আয়নার দিকে তাকাল।
লোকটি এখনো সেখানে।
আরিয়ান ভয়ে এক পা পিছিয়ে গেল।
—আপনি কে?
আয়নার ভেতরের লোকটি কোনো উত্তর দিল না।
বরং ধীরে ধীরে মাথা তুলল।
আরিয়ান এবার মুখটা দেখতে পেল।
তার চোখ দুটো অস্বাভাবিক শান্ত।
লোকটি ঠোঁট নাড়ল।
শব্দ বের হলো না।
কিন্তু আরিয়ান স্পষ্ট বুঝতে পারল সে কী বলছে—
“তোমার বাবা অপেক্ষা করছেন।”
হঠাৎ আয়নাটা ফেটে গেল।
ছ্যাঁক!
আরিয়ান চমকে উঠল।
তারপর পুরো কামরায় অন্ধকার নেমে এল।
কয়েক সেকেন্ড পর আলো জ্বলতেই সে দেখল, তার সামনে সেই পুরোনো কালো ব্যাগটা পড়ে আছে।
ব্যাগটা এবার খোলা।
ভেতরে একটি পুরোনো ছবি।
আরিয়ান ছবিটা হাতে তুলে নিল।
ছবিতে তিনজন মানুষ দাঁড়িয়ে আছে।
একজন তার বাবা।
একজন সেই স্টেশনমাস্টার।
আর তৃতীয় ব্যক্তিকে দেখে আরিয়ানের হাত কেঁপে উঠল।
লোকটি আর কেউ নয়—
ট্রেনের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা সেই অচেনা মানুষ।
ছবির নিচে একটি তারিখ লেখা—
১২ আগস্ট, ২০০৬।
আরিয়ান ছবিটা শক্ত করে ধরে ফেলল।
তারপর তার চোখ গেল ব্যাগের ভেতরে থাকা শেষ জিনিসটির দিকে।
একটি ছোট্ট চাবি।
চাবির সঙ্গে ঝুলছে ধাতব একটি ট্যাগ।
সেখানে লেখা—
“কামরা ১৩।”
আরিয়ান ধীরে ধীরে মাথা তুলল।
ট্রেনের করিডোরের একেবারে শেষ প্রান্তে একটা দরজা দেখা যাচ্ছে।
দরজার ওপরে লেখা—
১৩

Comments

    Please login to post comment. Login