ঢাকার জ্যাম ছাড়িয়ে বাসে করে অফিসে পৌছাতে ১৫মিনিট দেরী হয়ে গেল। পিওন আমাকে দেখে বলল, বড় সার দেখা করতে বলেছেন।
আমি বসের দরজায় নক করলাম।
বস বললেন, ভেতরে আসো। (ঘড়ি দেখে বললেন) ১৫মিনিট লেট করেছো।
আমি লজ্জিত হয়ে বললাম, স্যার।আমার তো জানেন ই ২বছরের ছোট বাচ্চা। বাবাকে ছাড়তে চায় না।
ধমকের স্বরে বস বললেন, আমাদের কি বাচ্চাকাচ্চা নাই? তুমি কি একাই বাচ্চার বাবা? আমরা কি ঘর সংসার করি না।
তীব্র অপরাধবোধে মাথা নামিয়ে আছি। উনার সাথে তর্ক করলে আমার ই চাকরী যাবে।
বস নিজেকে সামলে বললেন, যাও মিটিংরুমে যাও। এরপর যাতে লেট না হয়।
তারপর উনার সামনে থাকা কাচের গ্লাসের পানি ঢোক ঢোক করে গিলতে লাগলেন।
আমি বসের কক্ষ থেকে বেরিয়ে মিটিংরুমে গেলাম। সবাই দেখি চেয়ারে বসে আছে কম্পানির লোকেরা। আমি এখানে সামান্য একজন সেলসম্যান ম্যনেজার। । আমিও চেয়ারে বসলাম। সাদা বোর্ডে সবকিছু বোঝাচ্ছিলেন আফজাল।
আফজাল আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, তুমি তো শুনোনি। আমাদের আরডি কম্পানি লসের মুখে। গত মাসের তুলনায় এই মাসে সেলস কম হয়েছে। দেখো গ্রাফটা।
আমি সাদা বোর্ডে গ্রাফটা দেখলাম। ১০% লসে যাচ্ছে কম্পানি।
আফজাল বললেন, এরকম লসে গেলে তো কম্পানি ডুবে যাবে। তুমি হচ্ছো সেলস বাড়ানোর কারিগর। পড়াশোনা করে এসব শিখেছো। তাও কেন পারছো না?
আমি চেয়ার থেকে দাড়িয়ে বললাম, দেখুন আফজাল সাহেব। পড়াশোনা এক বিষয় আর অভিজ্ঞতা এক বিষয়।
আফজাল সরু চোখে বলল, তার মানে তুমি স্বীকার করছো তোমার অভিজ্ঞতা নাই৷ (খানিকটা বিরক্ত স্বরে) ঠিক আছে ভেবে দেখবো নতুন লোক। যাইহোক। সবাই গ্রাফটা দেখেন।
এক অদৃশ্য আতংক অনুভব করলাম। এসি রুমেও হালকা অসস্তি লাগছে। আমাকে কি উনি চাকরী থেকে বাদ দেওয়ার প্লান করেছেন?
অফিস শেষ হলো বিকেল ৫টায়। সহকর্মী নাজিরের সাথে তখন কফি খেতে খেতে আড্ডা হয় রাস্তার টংদোকানে।
কফিতে চুমুক দিয়ে নাজির বলল, তোমার লাইফটাই সেরা। কোন কাজ করতে হয় না। শুধু এসির নিচে কম্পিউটারের সামনে বসে থাকো। এদিকে আমি দোকানে দোকানে গিয়ে প্রডাক্ট দেখাই এই নতুন প্রডাক্ট সেই নতুন প্রডাক্ট।
আমি মুচকি হেসে বললাম, রবীন্দ্রনাথ এর কথা মনে করায় দিলেন এপাড়ে ছাড়িয়ে নিঃশ্বাস কহি ওপারে সর্ব সুখ।
নাজির উচ্চসরে হাসতে দেখে আমার সন্দেহ হলো ও কি মজা পাচ্ছে আমার কথার গভীরতা কি বুঝতে পেরেছে?
বাসায় ফেরায় সময় দেখলাম কলা বিক্রি করছে। ২হালি কলা দিলাম ৭০টাকা রাখলো। তারপর বাচ্চার জন্যদুধ কিনলাম।
ফ্লাটের কলিংবেল টিপতেই দেখি অবস্থা ঘামে শেষ। হলুদ শার্ট ঘামে চুপচুপ হয়ে আছে। তাও আবার ইন করে পড়েছি গরম বেশি লাগছে।
দরজা খুলে তুষা হাসি মুখে বলল, এতোক্ষণে ফিরেছেন?
ঘামিয়ে দেখি দেখে নিজের ওড়না দিয়ে কপালের ঘাম মুছে দিল।।আমি মন খারাপ করে বললাম, সরো। ভেতরে ঢুকতে দাও।
তুষা বলল, হঠাৎ মন খারাপ কেন?
আমি বললাম, তেমন কিছু না। ফ্রেশ হলে ঠিক হয়ে যাব। আরফান কি করে?
তুষা বলল, সারাদিন ফ্লোরে খেলাধুলা করার পর একটু ঘুমিয়েছে। ডাক দিব?
আমি বললাম, না থাক ওকে বিরক্ত করার দরকার নাই।
আমাকে একগ্লাস ঠান্ডা জল ও টাওয়াল এগিয়ে দিল গোসল করার জন্য। আমি এক ঢোকে পানি খেলাম।।তারপর গ্লাসটা ওর হাতে দিয়ে ওর কপালে চুমু খেলাম।।তারপর টাওয়াল নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেলাম।
#অলংকার
#পর্ব_২
#রুদ্র_সিয়াম