পুরুষ কখনো কাঁদে না—
পুরুষ কখনো কাঁদে না—
এ কথাটা শুনতে শুনতে
একদিন পুরুষ সত্যিই ভুলে যায়,
কীভাবে কাঁদতে হয়।
বুকের ভেতর ঝড় উঠলেও
মুখে শুধু বলে—
“কিছু হয়নি।”
অথচ সত্যিই কিছু একটা হয়,
প্রতিদিনই হয়।
কখনো বাবার ওষুধের টাকা,
কখনো মায়ের কপালে চিন্তার ভাঁজ,
কখনো স্বপ্নভঙ্গ—
সবকিছুর হিসাব মেলাতে মেলাতে
সে নিজের জীবনের হিসাবটাই
ভুলে যায়।
তারও ইচ্ছে করে,
কেউ একদিন এসে জিজ্ঞেস করুক—
“তুই কেমন আছিস?”
শুধু জিজ্ঞেস করুক,
উত্তরটা না শুনলেও হবে।
কারণ সে জানে,
“ভালো আছি” বলাটাই
তার সবচেয়ে পুরোনো মিথ্যে।
ভালোবাসার মানুষটাকেও
সে সব কথা বলতে পারে না।
অভিমান জমে থাকে,
কথা কমে যায়,
তারপর একদিন মানুষটা বলে—
“তুমি তো বদলে গেছ।”
সে কী করে বোঝাবে,
বদলায়নি সে—
শুধু একটু একটু করে,
নিজেকেই হারিয়ে ফেলেছে।
রাত গভীর হলে
ফোনটা হাতে নিয়ে
বারবার একটা নামের উপর
চোখ বুলায়,
তারপর ফিরে আসে।
কিছু মানুষকে
খুব বেশি ভালোবাসলে
তাদের কাছে নিজের কষ্টটাও
বলা যায় না।
তাই পুরুষ চুপ থাকে।
বাড়িতে হাসে,
বন্ধুদের সামনে আড্ডা দেয়,
প্রিয় মানুষকে বলে—
“তুমি ভালো থেকো।”
তারপর দরজা বন্ধ করে
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
কেউ দেখে না।
কেউ জানে না,
যে মানুষটা সবাইকে শক্ত থাকতে শেখায়,
সে নিজেই কত রাত
নিজেকে সামলাতে পারে না।
পুরুষ কখনো কাঁদে না—
এটাই সবাই ভাবে।
কিন্তু কিছু কান্না
চোখ দিয়ে নামে না,
বুকের ভেতর দুঃখ হয়ে জমে থাকে।
সে চোখের পানি মুছে
আবার বাইরে যায়,
দায়িত্বের কাছে ফিরে যায়,
হাজার মানুষের ভিড়ে
নিজেকে লুকিয়ে রাখে।
কারণ তার, ভেঙে পড়ারও সময় নেই,
অভিমান করারও অধিকার নেই।
কাউকে হারিয়ে
একটু থেমে —
দাঁড়ানোরও সুযোগ নেই।
সে ছেলে,
সে বাবা,
সে স্বামী,
সে ভাই—
সে পরিবারের ভরসা।
শুধু সে যে একজন মানুষ,
এই কথাটাই
সবাই ভুলে যায়।
তাই কোনো পুরুষ
হঠাৎ কখনো চুপ হয়ে গেলে
তাকে জিজ্ঞেস করে লাভ কী?
শুধু পাশে থেকো।