Posts

গল্প

আদালত (ছোটগল্প)

August 19, 2026

Rudro Siyam

Original Author রুদ্র সিয়াম

9
View

আতিফ বলল, এই ১০বছরের শীশুকে যে রেপ করা হয়েছে। এটার কি জাস্টিফাই করবেন আপনি? জয়নুল মিয়া কি দোষী নয়?

কিছুক্ষণ থামলেন আতিফ। গলা শুকিয়ে যাওয়ায় পানি পান করছেন। বিচারপতি শুধু শুনলেন। কোর্ট পুরো থমথমে হয়ে আছে। আতিফের বিপরীত পক্ষ হোসেন সাহেব চেয়ার থেকে দাড়িয়ে পড়লেন।

হোসেন এবার জয়নুল মিয়ার সামনে এসে দাড়ালো। জনয়ুলের হাতে হাতকড়া পড়ানো। পুরো দেশ জানে জয়নুল অপরাধী। এই শেষে শীশু রেপ কমন একটা বিষয় হয়ে গিয়েছে৷ অপরাধীরা আইনের ফাক থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। তবে বিচক্ষণ আতিফ যখন ১০বছরের শায়মা মুখ থেকে তার সাথে হওয়া অপরাধ শোনে। তখন সেটা ফেসবুকে ভাইরাল হবে।কখনও ভাবেনি আতিফ। শায়মার বাবা রিকশাচালক মন্জু চায়নি কোর্টে বিষয়টা যাক জানাজানি বা বিচার হোক।

হোসেন মিষ্টি স্বরে বলল, জয়নুল মিয়া দোষ করছে এটা সত্য। তয় উনার মুখের দিকে তাকান। মধ্যবয়স্ক লোক এই বয়সে একটু ভুল হয় ত্রুটি হয় এটাই নরমাল। তাছাড়া ওই ছায়মার চরিত্র খারাপ ছিল। বয়স কম। তয় ও প্রেম করতো বলে শোনা গেছে। তাছাড়া ছোট প্যন্ট পড়ে রাস্তায় বের হতো। আমার আসামী জয়নুল এর কোন দোষ নাই। আপনারা উনার জবানবন্দি শুনেন। (নিচু স্বরে হোসেন বলে) যা শিখাই দিসি হুবহু বলেন।

জয়নুল কাঠগড়ায় দাড়িয়ে আছে। উনার হাত কাপছে। হাতকড়া এতো টাইট হয়েছে যে হাতে দাগ পড়ে গেছে।

জয়নুল বলল, আমি দোষ করছি এজন্য সবার কাছে মাফ চাই। আমি আসলে নিজের কামনা বাসনা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি নাই।

অপরপাশের কাঠগড়ায় দাড়ানো ছিল শায়মা। সব দেখছিল তবে কিছুই বুঝতে পারছিল না তার অবুঝ মন।

জয়নুল ছায়মার দিকে তাকিয়ে হাত জোর করে মিনতি করে বলল, ছায়মা মা। আমার ভুল হয়ে গেছে। আমি তো তোমার বাপের বয়সী। আমাকে মাফ কইরা দাও।

পরিস্থিতি থমথমে রুপ ধারন করেছে। ফ্যনের বাতাসেও রুমাল দিয়ে ঘাম মুছলেন বিচারক।

তারপর বিচারক বললেন, আতিফ। আপনার কিছু বলার আছে?

আতিফকে দেখা গেল চেয়ারে বসে দাঁতে দাত চেপে রাগ ধরে আছেন। যেন নিজের মাঝে আগ্নেয়গিরি চেপে আছেন। যা উনার চোখে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল।

আতিফ উঠে দাড়ালেন। যেন উনার রাগ উনাকেই ধ্বংস করে দিচ্ছে। একদিকে সৎ বিচার চান। আরেকদিকে সিস্টেম ও লজিকের জালে বন্দী।

আতিফ চোখে রাগ ও হতাশা নিয়ে বিচারপতির দিকে চোখে দোখ রেখে বলল, আপনি তো দেখলেন এদের নাটক। জয়নুল আকাম করে সরি বললো। এটাই কি সমাধান? আর হোসেন মিয়া কি করলেন? যুক্তি দিয়ে প্রমান করার চেষ্টা করলেন যে অপরাধী নির্দোষ।  আসলেই কি নির্দোষ?  (হঠাৎ গলার স্বর উচু করে) আপনার মেয়ের সাথে এরকম হলে আপনি কি বিচারপতি সাহেব লজিক দিয়ে ভাবতেন নাকি ইমোশন দিয়ে।

বিচারপতি ভয়ে কাশলেন। তারপর টেবিলে থাকা বোতল থেকে পানি পান করলেন।

চোখ সরু করে আতিফ তাকালো জয়নুল এর দিকে তীব্র রাগ ও ঘৃনা নিয়ে বলল, অপরাধ করো আর সরি বলো সব শেষ হয়ে যাবে? এটাই কি সিস্টেম? তাহলে ভিকটিক এর কি হবে? সায়মা যে কষ্ট পেল? এটার লজিক্যাল সমাধান কী?

অনুতপ্ত হয়ে মাথা নিচু করে আছে হোসেন মিয়া। এতোক্ষণ সবকিছুতে মজা পাচ্ছিলেন। হঠাৎ উনি বা হাত চুলকাতে লাগলেন। খানিকটা ঘাম জমেছে উনার কপালে৷

আতিফ বলল, এখন আপনি ই রায় দেন বিচারক সাহেব।

বিচারক অনেকক্ষন ভেবে বললেন, জয়নুল যে দোষী সেটা ডক্টররা প্রমান দিয়েছে তারা শায়মার শরীর থেকে স্পার্প পেয়েছে। যাকিনা জয়নুলের ছিল বলে কনফ্রম করা হয়েছে। তবে জয়নুল যেহেতু স্বীকার করেছে সব আর ক্ষমা চেয়েছে। তাই আদালত তাকে ১০বছরের শাস্তির সাজা শোনানো হলো।

আদালতের বিচার শেষে পুলিশ জয়নুলকে নিয়ে গেল। আতিফ বের হয়ে দোকানে চা খাচ্ছিল। এমন সময় সেখানে হাসিমুখে উপস্থিত হলো হোসেন।

হোসেন আতিফের কাধে হাত রাখতেই বিরক্তভরা দৃষ্টিতে তাকালো সে। যেন কোর্টে রাগ এখানেও এসে পড়েছে।

হোসেন হেসে ঠোঁটে সিগারেট নিয়ে ধরায় বলল, তুমি কোর্টের বাইরেও রেগে আছো কেন ভাই?

আতিফ কফিতে চুমুক দিয়ে বলল, আপনি একটা ধর্ষন আসামীর পক্ষ কেন দিলেন?

মুচকি হেসে হোসেন বলল, উনি কোন সাধারন মানুষ না আতিফ। উনি আমার মামা। দূরসম্পর্কের মামা। তোমার মামা হলে কি তুমি হেল্প করতে না? আজ বোধ হয় তোমার মুড খারাপ অন্যসময় কথা হবে বায়।

হোসেন চলে যায়। একা দাড়িয়ে থাকে আতিফ। তার হাতে থাকা কফি থেকে গরম ধোয়া বের হতে থাকে। তবে আতিফ স্তব্দ হয়ে দাড়িয়ে থাকে। যেন কেউ মাটিতে তার পা গেঠে দিয়েছে সিমেন্ট দিয়ে।

(সমাপ্ত)

#আদালত
#রুদ্র_সিয়াম

Comments

    Please login to post comment. Login