মোবারক সাহেবের টেলিফোন বেজে উঠলো। উনি শুয়ে ছিলেন পাশে একজন মহিলা। উনি বিছানা থেকে চাদর সড়িয়ে উঠে হেটে সোফারুমে আসলেন।
তারপর মোবরাক টেলিফোন রিসিভ করলেন। বোঝার চেষ্টা করলেন এই নম্বরে কে কল দিয়েছে? ব্যবসার বা ফ্যমিলির তো কেউ এই নম্বর জানে না।
ফোনের ওপাশ থেকে মোটা কন্ঠে সাইদ বলল, কেমন আছেন মোবারক সাহেব? আপনার মেয়েকে আমরা কিডন্যাপ করেছি।
মোবারক সাহেব দেয়াল ঘড়িতে তাকিয়ে দেখলেন দুপুর ৩টা বাজে। এই সময় তার ১০বছরের মেয়ে সিনুর ছুটি হওয়ার কথা। ড্রাইভার তাকে বাড়ি নিয়ে যায় নিয়ে আসে। তাহলে তো সমস্যা হওয়ার কথা না। ফোনের লোকটা কি তাহলে ঠাট্টা করছে?
সাইদ বলল, আপনি এখন ঘড়ির দিকে তাকিয়েছেন আর ভাবছেন যে এই সময় তো সিনুর ছুটি হয়। তো ওর তো নিরাপদে বাড়ি ফেরার কথা।
মোবারক আশেপাশে তাকালেন। সিসি ক্যমেরা তো নেই। খোলা কাচের দেয়াল উনার সামনে। তবে দূরে তো কাউকে দেখা যাচ্ছে না যেকিনা নজর রাখবে। তবুও উনার টেনসনে ঘাম বের হচ্ছে। তবে উনি নার্ভাসনেস প্রকাশ না করার জন্য কিডন্যাপকারীর উদ্দেশ্য বোঝার চেষ্টা করছেন ঠান্ডা মাথায়।
সাইদ বলল, ক্যমেরা খুজছেন। আমরা এখান থেকে হ্যকিং করে আপনাকে দেখসি। যাইহোক। আপনি এখন ২য় স্ত্রীর বাসায়। এটাও আমরা জানি। তো মূল কথা আমাদের ১কোটি টাকা দ্বাবী। পুলিশকে রেবকে কল দিলে আমরা সেটাও জানবো। তখন আপনার মেয়ের কি হবে? ডিসাইড করুন ১কোটি টাকা বেশি না মেয়ে বেশি।
তারপর সাইদ কল কেটে দিল।
সাইদ কল কেটে হ্যকার সামিরের দিকে তাকিয়ে বলল, নজর রাখ লোকটার ওপর।
সেই কক্ষে আরো একজন ছিল আকবর।
আকবর বলল, তোর কি মনে হয়। টাকা দিয়ে দিবে?
সাইদ বলল, আমার প্লান কখনও ফেইল হয় না। ৬টা মাস আমি প্লান বানিয়ে সব বেকার শিক্ষিতদের একত্রে করেছি। যখন দেশ আমাদের ভালো কাজ দিতে পারেনি। তখন আমরা এই অবৈধ উপায় বেছে নিয়েছি। কি বলিস সামির।
সামির কম্পিউটার থেকে চোখ সরিয়ে সায় দিয়ে বলল, মোবারক সাহেব কাকে যেন কল দিচ্ছেন।
সাইদ সরু চোখে তাকিয়ে বলল, উনার দেয়ালের অডিও টা অন করো জানালা খোলা থাকলে ঘরের কথা শোনা যাবে।
সামির অডিওটা অন করলো।
মোবারক সাহেব কল করলেন ওনার ড্রাইবার কে কল হচ্ছে কল হচ্ছে। কেউ ধরছে না ফোন। টেনসনে পড়ে গেলেন মোবারক।
মোবারক মনে মনে বললেন, ফোনটা ধরো তাড়াতাড়ি।
হঠাৎ ওপাশ থেকে ড্রাইভার ফোন ধরে ভয়ে কাদতে লাগলো, স্যার ভুল হয়ে গেছে মাফ করে দেন। আমাকে বন্দুক থেকিয়ে সিনুকে নিয়ে গেছে ওরা সাদা গাড়িতে করে। আপনার পায়ে পড়ি আমি গরীব মানুষ।
মোবারক সাহেব বিরক্ত হয়ে বললেন, ঠিক আছে। কান্না থামাও। আর তুমি কয়েকদিনের জন্য দেশের বাড়ি চলে যাও। যতদিন না সিনুকে পাওয়া যাচ্ছে।
ড্রাইবার বলল, ঠিক আছে স্যার আপনি যা বলবেন তাই হবে।
মোবারক কল কেটে দাতে দাত চেপে ধরলেন রাগে। উনার ড্রাইভার কে দেশে পাঠানোর প্লান পুলিশ যাতে ড্রাইভার কে খোজে এই সময়ে সিনুকে আসল কিডন্যপকারী থেকে ফিরিয়ে আনবেন। কারন উনি পুলিশকে ইনফ্রম না করলেও সিনুর মা তো করবেন। তখন সন্দেহ যাবে ড্রাইভার এর দিকে।
এসব দেখছিল কম্পিউটারে সাইদ ও সামির। এমন সময় দরজার টোকা পড়লো। সাইদ বুঝলো ওরা এসে পড়েছে। গেট খুলতেই একটা বড় বাক্স নিয়ে ভেতরে ঢুকলো সাইমন ও ওসমান। ওসমান এর হাতে বাক্সটা তিনি ঘামতে ঘামতে শেষ। কোন মতে খাটে বড় বাক্সটা রাখলেন।
ওসমান বললেন, যে গরম আজকে উফ। ভালোলাগে না। সামির পানি দে তো ফ্রিজ থেকে।
সামির পানি আনতে গেল। এদিকে সাইদ বাক্সটার মুখ খুললো। অবচেতন হয়ে শুয়ে আছে সিনু। তাদের পার্সেল।
কিডন্যাপ সফল তাই সাইদের ঠোঁটের কোনায় হাসির রেখা ফুটে উঠেছে।
#কিডন্যাপ
#পর্ব_০১
#রুদ্র_সিয়াম