শহরটা তখন সবেমাত্র একটু শান্ত হয়েছে। ঘড়ির কাঁটায় রাত প্রায় দশটা। রিমনের গ্যারেজের সামনে রাখা ওর প্রিয় ম্যাট ব্ল্যাক ইয়ামাহা আর১৫ ভিএম বাইকটা যেন ডাকছে। সারাদিন এডিটিং, চ্যানেলের থাম্বনেইল ডিজাইন আর কন্টেন্ট প্ল্যানিংয়ের পর মাথার ভেতরটা কেমন যেন ভারী হয়ে আছে।
হঠাৎই ও সিদ্ধান্ত নিল—আজ আর কোনো স্ক্রিন নয়, একটা লং রাইডে বের হওয়া যাক।
হেলমেটটা পরে চাবি ঘোরাতেই ইঞ্জিনের পরিচিত গর্জনটা রাতের নীরবতা ভেঙে দিল। গিয়ারে পা ফেলতেই বাইকটা বিদ্যুৎ গতিতে বেরিয়ে পড়ল ফাঁকা হাইওয়ের দিকে। রাতের হিমেল হাওয়া গায়ের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়ার সময় অদ্ভুত একটা মুক্তি অনুভূত হচ্ছিল। বাইকের হেডলাইটের আলোয় পিচঢালা রাস্তাটা ফিতের মতো সামনে ছড়িয়ে পড়ছে।
কিছুদূর যাওয়ার পর রিমনের মনে হলো, কাজের হাজারো চাপ আর ব্যস্ততার মাঝে এই বাইকটা আর এই খোলা হাওয়াটাই যেন ওর আসল থেরাপি। বাইকের স্পিডোমিটারের কাঁটা যখন একটা নির্দিষ্ট গতিতে স্থির, তখন মন থেকে সমস্ত দুশ্চিন্তা উধাও।
শহরের বাইপাস রোডের একটা পরিচিত টি-স্টলের সামনে গিয়ে ও বাইকটা থামালাল। এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চা হাতে নিয়ে যখন ও রাতের ফাঁকা শহরের দিকে তাকিয়ে রইল, তখন মনে একটা অন্যরকম শান্তি কাজ করল। ক্যামেরার লেন্স বা ইউটিউবের অ্যালগরিদম ছাড়াও দুনিয়াটার যে এমন একটা সুন্দর রূপ আছে, তা যেন নতুন করে উপলব্ধি হলো।