দুপুরের মফস্বলে; কৃষকেরা ক্ষেত চাষে থাকে না এখন
মাথালি মাথায় কেউ মরিচের ঝোলে তৃপ্ত হয় না ক্ষুধায়
তমাল ও কদমের ছায়াতলে বসে ফসলের ক্ষেত দেখে
আগমনী নবান্নের কথা ভেবে; হাসে না এখন কোন বৃদ্ধ।
অথচ ফসল মানে; জীবনের গানে গানে এখানে রুহানী
বন্ধনে স্বজন জাগে। মাটির পরতে লিখে সমৃদ্ধি-গজল।
কৃষকেরা শ্রমিকের অভিনয়ে মাটি ভুলে শহরে গিয়েছে
বিরহে বিলুপ্ত হলো মতিচাক-পঙ্খিরাজ আর শালি ধান
ডাহুকের পত্তা নেই ঋতুরাও খেয়ালি হয়েছে অভিমানে
মেশিনের এই কালে নিরব হয়েছে প্রায় লাঙল জোয়াল।
বিকালে সরব যত বাজারের চা দোকান; সকালে নিথর
খাদ্য-ঘুম-অভ্যেসের বদলের ফলাফলে, ডুবে যায় রাত।
জীবনের গতি পেতে নদী-জল বিগত করেছি- সড়কের
গতি দেখে অযথাই। নিরাপত্তা বিচলিত গতিবাদে ফেঁসে
হিসেবের ভুল অঙ্কে মুছে দিই গরবের যতো ছিলো খাত
অবশেষে নদীগুলো মরুময় ভ্রূকুটিতে দিয়ে যায় ক্ষোভ।
আমাদের কপালের অনুবাদে প্রতিভাত বোকামির দাগে
কৃষকের অভিশাপ বয়ে যাই নগরের ঘোরে থাকা বোধে।
মাছের বাজারে ফিরে কৃষকের ক্ষেতের মাটির অবশেষ
ধানের দুধের মতো; ভাতের মাড়ের স্মৃতি রেখে ভরসায়।