কাগজে মোড়ানো এক টুকরা কাগজ।
তার গায়ে লেপ্টে থাকতো মা।
মায়ের মুখ, তার গায়ের গন্ধ,
সুখ-দুঃখ, খানিকটা যত্ন;
লেগে থাকতো বাবার ঘাম,
অথবা ছোট বোনটার নাম।
উড়ে আসতো আম মুকুলের বাস,
জারুল তলার নরম দূর্বা ঘাস।
আরও আসতো উঠোন জোড়া রোদ,
আসতো আমার আস্ত বাড়ি খোদ।
দোস্ত-বন্ধু ছিলো যারা, তারাও আসতো নিয়মিত,
পুরান মতি, নতুন গতি, যা যা মনে উঁকি দিত।
মাঝে মাঝে আসতো উড়ে অনেক কাছের কেউ।
সাদা পাতায় এঁকে দিত তীক্ষ্ণ হাসির ঢেউ।
ভোরের বাতাস, রাতের আকাশ সব পাঠাতো সে,
চোখ রাঙাতো, গাল ফুলাতো, মুচকি হাসি হেসে।
আরও কত মানুষ আসতো, আসতো কত স্মৃতি,
কাগজে মোড়া সেই কাগজের নামটা ছিল চিঠি।
এখন তো সব ইলেক্ট্রনিক, এক পলকেই যায় আর আসে,
ইচ্ছে হলেই প্রিয় মানুষ হাতের মুঠোয় জ্যান্ত ভাসে।
ইচ্ছে হলেই ডাকতে পারি, দেখতে পারি, তুলতে পারি সুর,
তবু ভাবি—চিঠির যুগেই ছিলেম কাছে, এখন বহুদূর।