আপনারা কি খেয়াল করেছেন রোজ মাদ্রাসায় যত ছেলেশিশু কিংবা মেয়েশিশু ধ'র্ষণের খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার হয় -সেখানে অধিকাংশ হাসির ইমো আসে। এবং মন্তব্যগুলো হয় ফানি ও হাস্যকর। মানে একটা দেশের মানুষ কতটা মগজ বিগড়ে যাওয়া হলে ধ'র্ষণের মতো চরম মানবতাবিরোধী ও সভ্যতাবিরোধী অপরাধকে হাসাহাসি ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে উড়িয়ে দিতে পারে। এটা কেন হচ্ছে? রোজ এত অগণন খবর বের হচ্ছে, এত বিচিত্র কায়দা কানুন ডিসক্লোজ হচ্ছে -তাতে কওমি সম্প্রদায়ের পাছার কাপড় হারানোর অবস্থায় পৌঁছে গেছে। এটা নিয়ে মানুষের সুস্থ বিবেকবোধ ও সংবেদনশীলতা আর কাজ করে না। মানুষ হেসে হেসে একশ্রেণীর বিকৃত যৌনাচারী মোল্লা ও একই চরিত্রের ছাত্রদের পক্ষে সম্মতি উৎপাদন করে চলেছে। মানে দাঁড়াচ্ছে এমন -ওখানে ওসব রোজই হয়; এ আর এমন কী?
মানুষের এমনতর বিকৃত মনকে রাষ্ট্রও তার রাজনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় প্রমোট করে যাচ্ছে। এই যে দেখেন না -গতকাল সাভারের অভিযুক্ত মাদ্রাসা মারকাযুল উলুম আশ-শরইয়্যাহ মাদ্রাসায় রেইড করতে গেছে -সেখানে অপরাধীরা পাকড়াও হবে -সভ্য সমাজে এমনটাই তো সবাই আশা করে। আমরা দেখলাম কি পুলিশ কর্মকর্তারা মাদ্রাসা অথরিটিজের শানসৌকতপূর্ণ কক্ষে মেহমানদারিতে অংশ নিচ্ছে। হাস্যমুখে মোল্লাদের সাথে কথা বলছে। ৭ বছরের শিশুর সাথে যেভাবে ছাত্র-শিক্ষক সংঘবদ্ধভাবে ধ'র্ষণ করেছে -তাতে ন্যূনতম সভ্য রাষ্ট্র হলেও ওই মাদ্রাসার কার্যক্রম এতক্ষণ বন্ধ করে দেয়ার কথা। তাতো হলো না -বরং রোজ রাতে ওই মাদ্রাসায় কোমলমতি শিশুদের সাথে কীসব বর্বরতা ঘটে চলেছে -সেটি দিব্যি সচল রাখা হলো।
নেত্রকোনায় এক মাওলানা ১৩ বছর বয়সী এক শিশুকে ধ'র্ষণ করে নিজের সন্তানের পিতা হয়ে গেল। আদালত ডিএনএ টেস্ট করে প্রমাণ দিল যে ওই মৌলভিই শিশুটির ধ'র্ষক। কিন্তু একশ্রেণীর ধর্মগুরু এই ডিএনএ রিপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। কোনো মৌলভিই নিজের সাম্প্রদায়িক দোষ দেখতে পায় না। ছেলেশিশু ধ'র্ষণ নিয়ে বায়তুল মোকাররমের গেট থেকে কস্মিনকালেও একটা মিছিল বের করে না তাওহিদি জনতা।
এসব ন্যাক্কারজনক ঘটনায় মানুষ কেন হাসির রিঅ্যাক্ট দেখায় বুঝা গেল?
আমাদের শ্রেয়বোধ ও সংবেদনশীলতা টোটালই মিলায়ে গেছে নির্বিকারত্বে।
সুতরাং আমাদের শিশুরা পায়ুপথের জাহান্নাম থেকে কখনোই আর মুক্তি পাবে না। যেই ছেলেটি নিপীড়নের শিকার হবে -সে তার যৌবনবেলায় একই কাজ করবে, মনস্তাত্ত্বিক বিজ্ঞান এটাই বলে।
আমাদের কোনো রিয়ালাইজেশন, কনফেশন, আইনের মুখোমুখি হওয়া এবং শাস্তি পেয়ে জীবন শোধরে নেয়ার মতো বিহিত ব্যবস্থা নাই। জাতিগত অতল নিমজ্জন তাই আমাদের একমাত্র সমন্বিত ভবিতব্য।
▪️
লেখক: সাংবাদিক
৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬