কৈশোরে লেখক আবুল বাশারের "ফুল বউ" উপন্যাস টি পড়ে বিমোহিত হয়েছিলাম ভেবে এমন ঘটনাও ঘটতে পারে মানুষের জীবনে! ছেলের জন্য পাত্রী দেখতে গিয়ে পছন্দ হওয়ায় বাবা নিজেই বিয়ে করে ফেলে। তাজ্জব বনে গেছিলাম - এটাও কি কখনো সম্ভব? এটা কি কখনো হতে পারে? নায়কের সাথে তার বাবার নতুন স্ত্রীর (যার হওয়ার কথা ছিলো তার নিজের স্ত্রী) কথোপকথন, আচরণ, মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন একই সাথে অভিভূত ও বিস্মিত করেছিলো। সে ছিল এক নতুন স্বাদের, নতুন ঢংয়ের, বিচিত্র অনুভূতি জাগানিয়া উপন্যাস। বেশ কিছুদিন পরে জেনেছিলাম এমন ঘটনা আমাদের এই বাংলাদেশে অপরিচিত নয়। তারপর দীর্ঘকাল সেই লেখকের কোন বই পড়া হয়নি। মাস সাতেক আগে বাতিঘর ঢাকা থেকে তাঁর লেখা "মরু স্বর্গ" উপন্যাসটি কিনে আনি। মরু স্বর্গের কাহিনী পড়তে পড়তে একটা পর্যায়ে গিয়ে স্মরণে আসে এই কাহিনী আমি ছোট বেলায় দাদীর কাছে শুনেছিলাম অন্য রকম করে। এই গল্পের নায়ক অহংকারী, নিজেকে ঈশ্বর দাবি করেন। অহংকার বশত তিনি পৃথিবীতে স্বর্গ বানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই স্বর্গে প্রবেশের দিন তাঁর উপর স্বর্গটি ভেঙে পড়ে। বিধাতা সেই অহংকারীর অহংকার চূর্ণ করে দিয়েছিলো। অথচ আবুল বাশারের লেখা মরু স্বর্গ পড়ে বুঝতে পারলাম একজন নায়ককে ধর্মাবতারগণ অবুঝ জনতার কাছে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি চেয়েছিলেন পৃথিবীতে মানুষের কোন দুঃখ থাকবেনা, মানুষের ভাগ্য মানুষ নিজেই নিয়ন্ত্রণ করবে। যুগে যুগে ঈশ্বরের অনুসারীরা ঈশ্বরের নামে কতো অন্যায়কে ন্যায় এবং ন্যায়কে অন্যায় বলে চালিয়ে দিয়েছেন তার কিছুটা বোঝা যায় এই 'মরু স্বর্গ' উপন্যাস পড়লে।
কিছুদিন পূর্বে 'ভোরের প্রসূতি ' নামে লেখকের আরও একটি বই পড়লাম। দুই বাংলার বর্ডার সংলগ্ন স্থানের মানুষের জীবনকাহিনী। চোরাকারবারি, পুলিশের দুমুখো আচরণ, মহাজনদের কারনে সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার জন্য অসহায় সংগ্রাম, নারীর প্রতি পুরুষের চিরকালের লোভ, অবহেলা, ভালোবাসা- উপন্যাসটির উপজীব্য। সর্বহারার আত্নত্যাগে অর্জিত সমাজতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নেতাদের পুঁজিবাদী দস্যুদের সাথে মিলেমিশে পথচলার হঠকারী সিদ্ধান্তে ব্যর্থ হয় জনমানসের কাংখিত সমাজ গঠন। ভালো আর মন্দ কখনো একসাথে চলতে পারেনা। ভালো অার মন্দ একসাথে চললে একসময় ভালো আর ভালো থাকে না, মন্দে পরিনত হয়।
লেখকের তিনটি বই-ই প্রণয়ের দিক থেকে বিরহের, বেদনার। তাঁর নাকি শখ বলতে কিছু নেই। লেখকের ভাষায় - শখ থাকার কথা নয়। একজন মানুষ কতখানি দুঃখী হলে এমন কথা বলতে পারে আমার জানা নেই।
7
View