সেদিন রাতে খোলা মাঠে আধো আলোতে একজন উন্মাদ তরুণ ঈশ্বরকে খুন করে ফেললো। উন্মাদ বলার জন্য তরুণের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আগেই তার কাছে ক্ষমা চাওয়ার কারণ কি আসলে? আমি ভয় পাচ্ছি? আরেহ না। এতবড় ঘটনার সাক্ষী হবার পর থেকে আমার মন থেকে সমস্ত ভয়-ডর উঠে গেছে। অযথা বাতচিত না করে ঘটনায় ফিরি। আমি সেই হত্যাকারী তরুণকে চিনি, তাকে চেনার বয়স বছর পাচেক হতে চললো। বড় ভালো ছেলে। ঈশ্বরকে খুন করার আগ পর্যন্ত একটা প্রাণী হত্যার দায় তার নেই, ছেলেটা ফিল্মমেকার তো। আমি তাকে কীভাবে চিনি তা না বলা পর্যন্ত আমি কে এটাও পরিষ্কার হচ্ছে না। আমি মানুষ নাকি অন্য কিছু, যেহেতু ঈশ্বর হত্যার সাক্ষী, এটা তো মানুষ হিসেবে আমার অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উপস্থাপন করে। চিন্তার কোনো কারণ নেই, আমি মানুষ। আবার মানুষ না হলেও মানুষের মত হাত, পা, নাক, কান সহ সব আছে। আমায় দেখলে পাঠকমাত্রই বুঝতে পারবেন আমি সাদামাটা নিরীহ শ্রেণির মানুষ।
ছেলেটার সাথে পরিচয় আমার কালী মন্দির ঘাটে। তখন আমি একটা বিজ্ঞাপন নির্মাতা হিসেবে মানে একজন বেশ্যা হিসেবে ভালোই নাম করেছি। অফিস শেষে কালী-মন্দিরের ঘাটে নিঃসঙ্গ বিমূর্ত শিবের সাথে আমার প্রতিদিনের উঠাবসা। আমার সাথে আরেকটি কুকুর ছিল, কুকুর না ঠিক, মানুষের চেয়ে বড় কিছু। ওর নাম রেখেছিলাম ভ্যানগগ কারণ ওর এক কান কীভাবে জানি কাটা পড়েছিল। আমি আর ভ্যানগগ সেদিনও আমাদের নিয়মিত রুটিন যা তাই করছিলাম। হঠাৎ করে একজন তরুণের আচমকা ধাপ করে আগমন, যেন আকাশ থেকে কিছু পড়লো। ছেলেটা কবিতা আবৃত্তি করছে। কিছুক্ষণ দূর থেকে তাকে পর্যবেক্ষণ করে বুঝলাম ছেলেটা আপাদমস্তক মাতাল। পা থেকে মাথা পর্যন্ত মদ খেয়েছে, গন্ধ শুনে যা বুঝলাম বাংলা মদ,ফার্মগেটের চারশো টাকা লিটার। ভ্যানগগ ওকে সহ্য করতে পারলো না, চিল্লাপাল্লা লাগালো। কোনোমতে বুঝিয়ে শুনিয়ে ভ্যানগগকে শান্ত করলাম। ভ্যানগগ শান্ত হলেও বিপত্তি বাঁধালো শিব, শিবের মুখের ভাব এমন হয়ে উঠলো এখুনি ত্রিশূল দিয়ে আমাদের চিরে ফেলবে। আমি কি করব বুঝতে পারছি না। ছেলেটা তখন শক্তি ছেড়ে নবারুণ পড়া শুরু করেছে। আবহাওয়া রক্তগরম হয়ে উঠছে। এমনকি ভ্যানগগ পর্যন্ত টিএসসির বাম নেতাদের মত বিপ্লবী হয়ে উঠলো, যেন এখুনি ও বিপ্লব শুরু করে দেবে। ওকে আর শান্ত রাখা যাচ্ছে না। উপস্থিত মাতাল তরুণটি হঠাৎ যেন সম্বিত ফিরে পেলো।
আমি কিছুটা হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেও, মনের মধ্যে একটা ঘুতঘুতানি রয়েই গেলো। মধ্যরাতে সম্বিতহীন মাতালের সাথে যাদের আকস্মিক সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা আছে তারা ভালোই বুঝতে পারছেন আমি কি পরিস্থিতিতে ছিলাম। যাকগে, শেষে তরুণের সম্বিতফেরত অবস্থায় আমার আর ভ্যানগগের সাথে ছেলেটার পরিচয়পর্ব শেষ হলো। ছেলেটার বয়স পঁচিশ হবে বড়জোর, বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়েছে কদিন আগে। শরীরে মাংস কিংবা হাড় কোনোকিছুর অস্তিত্ব সেই অর্থে নেই। উচ্চতা ভালোই ছয় ফুটের কাছাকাছি হবে, গাত্রবর্ণ কালোর কাছাকাছি। অন্ধকারে আন্দাজ করা আরকি।
আমার চশমাটা আবার ভেঙে গেছে। লোকাল বাসের পাছা ধরে বানরের মত ঝুলে অফিস যাচ্ছিলাম, যেভাবে বাবার লুঙ্গি ধরে ঝুলে থাকে চকলেট কিনতে চাওয়া আমার মামাতো ভাই, চকলেট না কিনে দেওয়া পর্যন্ত কোনোভাবে ছাড়ানো সম্ভব না, বেশি টানাটানি করলে লুঙ্গি খুলে যাওয়ার বিশাল সম্ভাবনা। বাস কারওয়ান বাজার ব্রেক দিলো এক বুড়ো কাকা তার ব্যাগ-পেটরা নিয়ে হুড়মুড় করে নেমে আসলেন, নামার সময় এমন ধাক্কাধাক্কি বাধলো যে তাদের এই ধাক্কার বল এ্যাটাক করলো আমার চশমায়,চোখ থেকে ছুটে গেলো রাস্তায়। এদিকে বাস অর্গাজম শেষ হওয়া অস্থির কিশোরের মত টান দিলো হ্যাঁচকা টান। আমার চিৎকারে বাস থামলেও লাভ হলো না। ততক্ষণে একটা দামী প্রাইভেট আমার চশমাকে পাউডার করে ফেলেছে। সে যাকগে, চশমা বাদে এখন আধো আলো ছায়া খেলছি, ভালোই লাগছে।
ছেলেটা আমার পাশে এসে বসলো দুপায়ের উপর ভর দিয়ে, বেশ অসুবিধা নিয়ে। আমি বুঝতে পারছি ওর কষ্ট হচ্ছে। পরনে জিন্স প্যান্ট। দু পায়ের উপর ভর দিয়ে বসা নিয়ে ওর ঝামেলা হচ্ছে বিষয়টা তা না। দু পায়ের উপর ভর দিয়ে পাছা শূন্যে ঝুলিয়ে বসার সবচেয়ে জটিলতা মেইন পয়েন্টে চাপ লাগে। ভীষণ অস্বস্তি হয়, সেনসিটিভ বিষয় তো। ওকে স্বাভাবিকভাবে বসার অনুরোধ করলাম। ও এইবার ধপ করে ওর শূন্যে ঝুলিয়ে রাখা পাছাটা মাটিতে অবতরণ করে বসে পড়লো। ভ্যানগগ একটু ভয় পেয়ে দূরে সরে গেলো। তীক্ষ্ণ নজরে ছেলেটিকে দেখতে লাগলো। ছেলেটির নাম জানতে পারলাম, রুফতি। ছেলেটা একজন চলচ্চিত্র পরিচালক, সিনেমা বানিয়েছে তিনখানা। ওর আলাপ গভীর হয়ে শুনতে লাগলাম। কেন সিনেমা বানাচ্ছে সে, গল্প কি, কাদের গল্প। আলাপ শুনতে শুনতে একটু ভয় লাগা শুরু হলো, ভয়ের কারণ খুব হাস্যকর। আমি ভেবে বসেছিলাম ঋত্বিক ঘটক এসে পড়লো কিনা, ও তো বছর পঞ্চাশ আগে টিকিট কেটেছে। আমার ভয় কাটলো যখন রুফতি বললো সে হিট ডিরেক্টর হতে চায়। আর কিছু না। আলাপের আগ্রহ হারিয়ে ফেললাম।
তবুও একটা মানুষ মুখের সামনে বসা তার উপর মাতাল, চাইলেও এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। সে তার মত বকে যাচ্ছে।, একটা মানুষ আমার সাথে কথা বলছে আর আমি রেসপন্স করছি না বিষয়টা দেখতে ঈশ্বর আর বান্দার মত লাগে। নিজেকে ওই চরিত্রে ভাবতে ভীষণ ঘেন্না হচ্ছিল। অগত্যা আলাপ চালিয়ে যেতে লাগলাম। আলাপ আলাপ আর আলাপে পার হয়ে গেলো মধ্যরাতের নিস্তব্ধতা, ভোর এসে হানা দিলো। ততক্ষণে সে বেশ সুস্থ, আমিও। ভ্যানগগ একটা ঘুম সেরে নিয়েছে এই আলাপের মধ্যে।
ভোরবেলা রাস্তার চা খেয়ে আমরা একে অন্যের রাস্তায় এগোলাম। রাস্তার মধ্যে রাস্তা আর বুকের মধ্যে জাগ্রত প্রেম নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা দুজন বিপরীতমুখী দিকে। একটা পথ গিয়েছে নিকেতন নামক গণিকালয়ের দিকে আরেকটা ভাঙাচোরা এবড়ো-থেবড়ো উদ্যানের দিকে। আমাদের মধ্যবর্তী দূরত্ব বাড়ছে ব্যাস্তানুপাতিক হারে। সেদিনের পর বহুকাল আমাদের দেখা হয় নাই।
এর মধ্যে কত কি ঘটে গেলো। ভ্যানগগ মারা গেলো। অবশ্য ভ্যানগগ ওর নামের মত মহান হয়ে উঠতে পারেনি। কিছুই রেখে যেতে পারেনি। ও মারা গেলো পুলিশের গাড়িতে চাপা পড়ে। একদিন রাতে শহরজুড়ে হুলিয়া জারি হলো, ১৪৪ ধারা জারি করলো প্রশাসন। ১৪৪ ধারা ভঙ্গের অপরাধে ভ্যানগগের প্রাণ গেলো পুলিশের সাঁজোয়া যানের চাকাতে, ওকে হত্যার দায়ে কারো বিরুদ্ধে মামলা হলো না, কারো বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলো না, কেউ কিছু বললো না। সকালে সিটি কর্পোরেশনের ময়লার গাড়ি ওকে নিয়ে গেলো। ভ্যানগগ মারা যাওয়ার মাসখানেক পর আমি বিয়ে করলাম। একটি গোছানো জীবনযাপন বলা যায়। আমি তখন মোটামুটি ভালোই জনপ্রিয় বিজ্ঞাপন-নির্মাতা, বেশ্যাবৃত্তিকে আমি শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছি। নিকেতনে আমার রমরমা ব্যবসা। গায়ে দামি শার্ট চেপে, জুতা পড়ে বাবুসাহেব হয়ে ঘুরি। কেউ দেখে বোঝার উপায় নাই কদিন আগেই আমি ছিলাম এখানকার উদ্বাস্তু।
গণিকালয় থেকে বাড়ি ফেরার পথে সেদিক কি মনে করে উদ্যানে গেলাম। রাত হয়নি। মাগরিবের আজান দিয়েছে সবে। শিব মন খারাপ করে যথাস্থানে দাঁড়ানো। হাতের ত্রিশূল ক্ষয়ে গেছে প্রায়। ঘাটপাড়ে নতুন নতুন অনেকের আগমন ঘটেছে দেখলাম। আমাকে তারা বেশিরভাগই চেনে না, ফলে একদিকে বাঁচা গেছে। এককোণে গিয়ে একটা অ্যাডভান্সে আগুন দিলাম। আশেপাশে তাকিয়ে দেখছি, সবাই ব্যস্ত পেপার রোল দেওয়া আর বাছার কাজে । গন্ধে আমার দমবন্ধ হয়ে আসার উপক্রম। আমি আবার গাঁজার গন্ধ নিতে পারি না। একটা বাড়ি দেয় ভিতরে গিয়ে। আজ শিবের দিকে খুব বেশি নজর দিলাম না, আজকের মত ভেবে নিলাম শিব ওখানে নেই। এই খেলা কিন্তু খুব মজার। নিজের কাছে অন্যের এক্সিসটেনসির ক্রাইসিস তৈরি করা। ভেবে নিলাম নেই তো নেই, ভেবে নিলাম আছে তো আছে। এই খেলা আবার সবাই পারে না। আচমকা একটা হাত আর কণ্ঠস্বর ভেসে আসলো।
ভাই, লাইটার আছে? একটু দেবেন?
আমি মুখ তুলে দেখার চেষ্টা করলাম, পকেট থেকে লাইটার বের করে এগিয়ে দিলাম। লাইট জ্বলে উঠলো। লাইটের আলোয় মুখখানা বোঝার চেষ্টা করলাম। চেনা চেনা লাগে। হলিউড সিগারেটে টান পড়লো। আমার মুখে জ্বলে উঠলো আরেকটা অ্যাডভান্স। ছেলেটা বেশ খানিকটা এগিয়ে গিয়ে একটা কুকুরকে জড়িয়ে ধরে প্রেমিকার মত আলাপ করছে। আমার মনে পড়ে গেলো, এই ছেলেকে তো আমি চিনি, রুফতি, ফিল্মমেকার। আমার সে রাতের কথা সুস্পষ্ট মনে পড়ে গেলেও আমি আলাপ করব কি করব না এ নিয়ে দ্বিধার মধ্যে ছিলাম। তবুও এগিয়ে গিয়ে আগ বাড়িয়ে আলাপ শুরু করলাম। এক ঝটকায় চিনে গেলো ছেলেটি আমায়। কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে আমায় বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরলো, যেন আমরা কত আপন। ওর চেহারার খানিকটা উন্নতি লক্ষ্য করলাম।
ও আমায় অনেকটা জোর করে নিয়ে গেল ওর বাড়িতে। বাড়ি মানে কি ভাবছেন? আপনার ওই ভাবনা আমার মাথায়ও এসেছিল। ভাবনা, চিন্তার সব স্ট্রাকচার ভেঙে গেলো ও যখন উদ্যানের ফাঁকা মাঠে কটা ইট দিয়ে বানানো বালিশ আর চটের বস্তা পাতা জায়গাকে নিজের বাড়ি বলে দাবি করে বসলো। আমায় বসতে দিলো যত্ন করে। এসব কাণ্ড দেখে আমি চুপচাপ, ও বকেই যাচ্ছে একটানা। মাঝে মাঝে ঝড়ের বেগে থু থু ছুটে আসছে। রুফতি আমার জন্য চা আনতে ছুটে গেলো, আমি অন্ধকারে বসা।
কাঁচা গুয়ের গন্ধ আসছে কোথা থেকে। মাঝে মাঝে পোকা-মাকড় দৌড় দিচ্ছে শরীরের উপর দিয়ে। আমি খুব বিরক্ত হলেও কেন জানি আমার ভালো লাগছে, একটা অ্যাডভেঞ্চার কাজ করতেছে। আমি আশেপাশে পর্যবেক্ষণ করছি। মাথা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখছি কী ঘটে।
রুফতি ওয়ান-টাইম কাপে চা নিয়ে এসেছে, খাবার রুচি না হলেও মুখে তুললাম। এক চুমুক দিলাম, আশেপাশের কাঁচা গুয়ের গন্ধ যেন আরো জীবিত হয়ে উঠলো। রুফতির মুখের দিকে তাকিয়ে আছি, ও একটানা কথা বলে যাচ্ছে। আশেপাশে গুয়ের গন্ধ যেন আরো ঘন হয়ে উঠছে একেকটি চায়ের চুমুকের সাথে। আমাদের আলাপ জমে উঠেছে প্রায়। রুফতি তার সিনেমার গল্প শোনাচ্ছে আমাকে। কীভাবে শয়তানের প্রেম জমে উঠলো হাওয়ার সাথে। আমি আগামাথা কিছু বুঝতে পারছি না। সে বলেই যাচ্ছে। আমি জানিও না সে ইতিহাস কতটা সত্যি। আমি মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুধু শুনছি। গুয়ের গন্ধ ঘন হতে হতে এমন হয়েছে শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। আমার দম আটকে আসে। রুফতি তখনো চা খাচ্ছে, ঠিকঠাক শ্বাস নিচ্ছে যেন গুয়ের গন্ধ কোনো ঘটনায় না। এক্সিস্ট করে না। রুফতি এক গাল হেসে উঠে আচমকা বলতে শুরু করলো,
ভাই জানেন, ফকিররা আমার কাছে ভিক্ষে চায় না। আমি এখানে বসে আছি, সে আপনার থেকে ভিক্ষে চাইবে কিন্তু আমার দিকে ঘুরেও তাকাবে না। ইদানীং এটা আমার সাথে ঘটছে। নিজের এক্সিস্টেন্সি নিয়ে আজকাল সন্দেহ হচ্ছে। আমি বেঁচে আছি তো?...
কথা শেষ না হতেই একজনের উপস্থিতি অনুভব করলাম। নতুন কারো উপস্থিতি নাকি রুফতি নিজেই, ঠিক বোধগম্য হলো না। শুধু এটুকু বুঝছি, আমার আশেপাশে কিংবা সামনে যিনি এই মুহূর্তে উপস্থিত, তিনি কোটি বছর ধরে বিদ্যমান কোনো জীব, অতিমানবীয় কিছু। আমি কেমন যেন ধোঁয়াশায় পড়ে গেলাম। রুফতি চিৎকার দিচ্ছে,
খানকির পোলা, বাড়ি ভাড়া নিতে আসছোস না? বাড়ি ভাড়া, আজ তোর পিছন দিয়ে দেবো। শুয়োরের বাচ্চা, তুই দাঁড়া… দাঁড়া তুই… আজ তোরে আমি খুন করব। দেখব তোর কত ক্ষমতা। মাদারচোত,মানুষ না খেয়ে মরছে আর তোর মজা লাগছে।চুপচাপ মজা দেখছিস। তোর থাকার কোনো প্রয়োজন নেই। দরকার নেই তোর থাকার। তুই কিচ্ছু পারোস না, বোকাচোদা…তুই আজ থেকে মৃত,তোর কোন এক্সিসটেনসি দরকার নাই।কোন দরকার নাই…
ততক্ষণে আমি বুঝে গেছি ঘটনা। আমার চোখের সামনে খুন হয়ে গেলো ঈশ্বর।সবকিছু বীভৎসভাবে থেথলে দিলো। আমি নিতে পারছি না আর। সবকিছু আউলে যাচ্ছে। আমি দৌড় শুরু করলাম। পিছন থেকে ভেসে আসছে আর্তনাদ। কারো বুকে ছুরি বসিয়ে দেওয়ার পরবর্তী গোঙানি। আমার পিছনে ফিরে তাকানোর সাহস নেই। আমি কোনোমতে পা দুটো ঠিক রেখে চোখ বন্ধ করে দৌড়াচ্ছি। ঠিক কখন আমি বাড়ি এসেছি জানি না, কীভাবে এসেছি তাও জানি না।
সকালে পত্রিকা হাতে নিয়ে প্রথম পাতায় ছোট একটা খবরে চোখ আটকে গেলো।
শিরোনাম,
“উদ্যানে তরুণ চলচ্চিত্র পরিচালকের লাশ উদ্ধার”