সে অনেক অনেক বছর আগের কথা;
দূর কোনো এক ক্যারিবীয় দ্বীপদেশে—
জাহাজ বন্দরে রেখে,
বন্দর থেকে বেশ কিছুটা পথ হেঁটে,
খোলা আকাশের নিচে,
আগুনের চারিপাশে,
গোল হয়ে বসেছিলাম—
আমি আর আমার নাবিকদল।
ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের মানুষেরা বেশ উন্মুখ;
নোনা জল আর ভেজা বালু গায়ে মেখে, মাঝেমধ্যেই আয়োজন হয় মদ আর পোড়ানো মুরগির।
তেমনি এক রাতে,
পথচলতি এক জেলেদের দল
এসে বসল আমাদের সাথে।
আগুনের আলোয় দেখলাম—
তাদের সবাই ছিল কৃষ্ণাঙ্গ।।
তাদের মাঝে বসে,
রাশি রাশি সব শুভ্রহাস্যে,
উষ্ণ হৃদয়ে করা প্রতিটি স্নেহাশীষ আলিঙ্গনে,
আর ধ্বনিত সঙ্গীতের তালে তালে করা অগণিত সব করতালিতে—
আমার আজও মনে পড়ে,
বয়সের ছাপ যখনও পড়েনি এই ললাটে,
তখন, ঘুমন্ত পৃথ্বীর সেই নিশীথে,
বসে মোর সব সাথী লয়ে,
কোনো এক আপন নদীর মোহনার পাড় ধরে,
প্রজ্বলিত আগুনের চারিধারে গোল হয়ে বসে—
অভিনব চন্দ্রালোকে আলোকিত পাণ্ডুর জলোধির নিরন্তর প্রশান্ত কল্লোলে,
ধ্বনিত সঙ্গীতের তালে তালে করা অগণিত সব করতালিতে,
উষ্ণ হৃদয়ে করা প্রতিটি স্নেহাশীষ আলিঙ্গনে,
আর সেসব রাশি রাশি শুভ্রহাস্যে—
লক্ষ্য কোটি বর্ষ হয়তো পার হয়ে গেছে তব তার পরে;
তবু আজও মন-মাঝে সযত্নে,
স্নেহব্যাকুলতা ভরে
বেষ্টিয়া রেখেছি তব,
সেই প্রাণভরা, ভাষাহারা নিশীথে।।