দুটি কবিতা
বোবা ভিখিরির গান
*
পা-হারা লোকটা পাহারা দেয় একজোড়া জুতো
রোজ দেখি এই শিল্পদৃশ্য, অফিস পাড়ায়
সমুখে থালার শূন্য, টাকাকড়ি নেই
হাত-পাও ছেড়ে দিয়ে পড়ে আছে কিছু হাহাকার
পাশের ভিখিরির কিছু হা হা-ও ভেসে আসে
তাহার স্বরবোধে,
কৌতুহলের কাতুকুতুতে একদিন
তার কাছে যাই শুধাই কাহিনী, কিন্তু;
ঠোঁটস্য কারার দ্বার ভাঙতে পারেনা বোবার ভাষা
- আলজিব অন্ধকারে পড়ে থাকে সব স্বর
ইশারাবনে হারাই, কংফুমান ভাষার
কিছুই বুঝিনি , জানাও হয় না কখনও…
লোকটা কী ভিক্ষা চায়?
টাকা? না-কি হারিয়ে যাওয়া পা?
ম্লান স্মৃতির পাশে
*
- অধিক ক্ষরণের অনতিদূরে দাঁড়িয়ে থাকে
জোড়া-অশ্রুবিন্দু
এ-কে তুমি কি-নামে ডাকবে?
শোকশ্রু নাকি সুখশ্রু?
অস্ত যাওয়া তারাদের নামে কোনো রাস্তা থাকে না
সৌরশূন্যের-কক্ষপথে,
তবে তুমি কীসের ভিত্তিতে আঁকো নাম
পাথর ফলকে; হৃদয়-প্রবেশিকায়?
নতুন ক্ষত পুরনো জখমকে স্মরণে আনে চিরদিন
তথাপি বারংবার বিরহে
আমাকেই পড়বে মনে ভাবি না এমন;
হোমো পাখির চিৎকারে
আঁধার আড়াল করে আলো নেমে এলে
প্রত্যেক পুরনো ভোরই কি মনে পড়ে তোমার?
কিংবা কারও?
আদতে, ম্লান কোনো স্মৃতির পাশেই দাঁড়িয়ে থাকে মানুষ
দেয়ালে যেমন লেগে থাকে পুরাতন পোস্টারের স্মৃতি।।