আমি তোমার পূর্বে যদি মৃত্যুপথে যাই,
তবে এই অঙ্গীকার রইল, আমি পুনরাগমন করিব।
মৃত্যুকে অন্তিম বলিয়া নহে, অদৃশ্য পথের এক বাঁক বলিয়া মানিয়া, আবার তোমার দিকেই পথ সন্ধান করিব।
কখনো প্রভাতের প্রথম রশ্মি হইয়া তোমার
জানালায় নীরবে পতিত হইব,
কখনো নিঃশব্দ বিড়াল বেশে উঠোন অতিক্রম করিব
কখনো রঙিন পাখায় প্রজাপতি হইয়া তোমার চারিধারে পরিভ্রমণ করিব।
আমি আসিব, পুনরায় আসিব।
কখনো তপ্ত দিবসের রৌদ্র হইয়া তোমার পথ আলোকিত করিব,
কখনো পায়ের তলে প্রসারিত ছায়া হইয়া অদৃশ্য প্রহরীর ন্যায় রক্ষা করিব।
তুমি আমাকে অনুসন্ধান করিও
আমি গৃহদ্বারের সম্মুখে গোলাপ হইয়া প্রস্ফুটিত থাকিব।
বর্ষাভেজা মাটির সোঁদা গন্ধে মিশিয়া যাইব তুমি গভীর নিশ্বাসে অনুভব করিও
সন্ধ্যার সমীরণে, জানালার পর্দার মৃদু দোলায়, কিংবা অকারণ বিষণ্নতার আবেশে আমি ছায়ার ন্যায় সংলগ্ন থাকিব।
আমি তোমাকে পুনরায় জীবনের সৌন্দর্য দর্শন করাইব
যে বিস্ময় প্রতিদিন দ্বারে উপস্থিত হয়, অথচ ব্যস্ততার কারণে অচেনাই রহিয়া যায়।
স্বপ্নে প্রতিরাত্রে উপস্থিত হইব
কখনো স্পষ্ট মুখে, কখনো অস্পষ্ট আলোর রেখায়।
জাগিয়া উঠে তুমি হয়তো বলিবে,
“কোথায় যেন দেখিয়াছি”
সেই অর্ধস্মৃতির অন্তরালেই আমি বাস করিব।
যদি কখনো আমার কথা গভীরভাবে স্মরণে আসে,
তবে গৃহছাদে গমন করিও
নক্ষত্রখচিত আকাশপানে চাহিয়া থাকিও।
আমি একটি তারা হইয়া তোমার সন্নিকটে জ্বলিব
দূরত্বের মধ্যেও নৈকট্যের দীপ্তি লইয়া।
আর যদি সত্যই পূর্বে প্রস্থান করি,
এই প্রতিশ্রুতি স্মরণে রাখিও, আমি লুপ্ত হইব না।
রূপ পরিবর্তিত হইবে, নাম রূপান্তরিত হইবে,
কিন্তু তোমার চারিধারের আলো, গন্ধ, রং ও স্বপ্নের অন্তঃসলিলায় আমি পুনরায় প্রত্যাবর্তন করিব,
আবার আসিব,
পুনরায়, অবিরত আসিব।