কবি তারিক হোসেন রচিত 'নিষিদ্ধ নগরী' কবিতায় অন্ধকার জগতের এক বিষাদময় ও ধ্বংসাত্মক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। রাতের অন্ধকারে কৃত্রিম আলো আর মেকি হাসিতে জেগে ওঠে এই পতিতালয়। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে এখানকার নারীরা নিজেদের কষ্ট আর কান্নাকে মেকআপের আড়ালে লুকিয়ে কেবল পেটের দায়ে দেহ পসরা সাজাতে বাধ্য হয়।
অন্যদিকে, ক্ষণিকের মোহে অন্ধ হয়ে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসা পুরুষেরা নারীর শরীরে সুখ খুঁজতে গিয়ে নিজেদের সর্বনাশ ডেকে আনে। মদের নেশা আর কামনার বশবর্তী হয়ে তারা ভুলে যায় সমাজের সমস্ত নীতি-নৈতিকতা। সুধা ভেবে তারা যে বিষ পান করে, তার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। এই সাময়িক আনন্দের মাশুল গুনতে গিয়ে পুরুষেরা দুরারোগ্য ব্যাধি বাঁধিয়ে বসে, যার ফলে তাদের সাজানো সংসার মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে যায়। আত্মমর্যাদা হারিয়ে তারা পরিণত হয় সমাজের ঘৃণার পাত্রে।
কবিতাটিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, নিষিদ্ধ নগরীর এই মোহ কেবল শূন্যতা আর হাহাকারই বয়ে আনে। এটি মানুষের সুন্দর জীবনকে পাপের আগুনে ছাই করে দেয় এবং সবকিছু গিলে খেয়ে এক বিষাক্ত অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়। ক্ষণিকের সুখের আশায় পথভ্রষ্ট মানুষের অনিবার্য ধ্বংসের করুণ পরিণতিই এই কবিতার মূল উপজীব্য।