আজিজুল (as usual) ১১ টার দিকে নিচে এসে সিঙ্গারা খেয়ে বেলাল মামার দোকানে লাল চা আর বড়ি খাচ্ছিলাম। খুনখুনে এক বুড়ো এসে কাঁপতে কাঁপতে পাশে দাঁড়ালো। সাদা একটা মলিন প্যান্ট, সাদা আর গোলাপি চেক শার্ট। সাদা দাঁড়ি, মাথায় সাদা টুপী।
পাশে দাঁড়িয়ে খুব ক্ষীণ গলায় বলল, বাবা একটু সাহায্য করবা?
একটা সত্যি কথা বলি, ঢাকা শহরে এই ধরনের সাহায্য আমার করতে মন চায় না। বিশেষ করে নগদ টাকা দেই না পারলে। আমি দান-খয়রাত যা করার মসজিদ মাদ্রাসা অথবা চেক করে দেখি তেমন অসহায় কেউ থাকলে করি। মাঝে খুব শুরু করছিলাম। বাসা থেকে বের হয়ে গলির মাথায় প্রতিদিন সকালে এক বুড়ো বসে থাকে। খুব অসহায়ের মতন হাত পাতে, কাঁদো কাঁদো গলায় ভিক্ষা চায়। পড়ে একদিন শুনলাম তার নাকি বাড়ি আছে এদিকে। দু ছেলে অটো, সিএনজি চালায়। তার পুরান অভ্যাস ভিক্ষা করার। এই এলাকায় আগে নাকি ভিক্ষা করতে তাই সবসময় সকালে এসে বসে থাকে। যারা এই গল্প বলছিল, তারা তো হাসতে হাসতে কুটিকুটি হয়ে যাচ্ছিল।
যাইহোক, এমন আরো অনেক বাটপারির গল্প শুনে আমার এমন ভিক্ষা দেয়ার মন উঠে গেছে। তবে আমি খেতে বলি। শুধু নগদে খাওয়াই না, কেউ চাইলে কিনে দিয়ে দেই। সেটা আবার পড়ে খাইলো না বেঁচে দিলো সে নিয়ে আর ভাবী না।
যাইহোক, সে স্বভাবগত ভাবে চাচাকে বললাম, কিছু খান চাচা।
সে একটা মলিন হাসি দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে রইলো।
আবার বললাম, খাবেন কিছু? ইশারায় দোকান দেখিয়ে বললাম, যা ইচ্ছা খান।
সে একটু চওড়া হাসি দিয়ে হাত উচু করে মিনমিন করে বলল, নাহ খাইতাম না।
জিজ্ঞেস করলাম, কেন?
আর একটু কাছে এসে বলল, সকাল থেকে ১০-১২ জন খায়ায়ছে। আলহামদুলিল্লাহ্। এতো খাওয়া যায় এই বয়সে? টাকা দিলে দাও, নাইলে থাক।
আমি হেসে বললাম, আরে খেয়েছেন তো সমস্যা কি, নিয়ে যান, অন্য সময়ে খাবেন।
উনি ধীরে ধীরে উলটো ঘুরতে ঘুরতে বলল, নাহ, অনেক খায়লাম। আর নাহ, এখন আসতে আসতে ঘুরি। ভালোই লাগে!
কথা শেষ করে যেভাবে কাঁপতে কাঁপতে এসেছে, সেই ভাবে কাঁপতে কাঁপতে চলে গেলো।
পিছন থেকে বেলাল মামা বলল, বুইরার টাহা লাগবো। খাওয়াইলে হবে না।
সে এক বিরাট ইতিহাস…