আসসালামু আলাইকুম সবাইকে।
লিখবো কি লিখবো না এমন দোদুল্যমান অবস্থা থেকে উঠে এসে সিদ্ধান্ত নিলাম লিখেই ফেলি।
আসল ঘটনায় আসার আগে একটু নিজের কথা বলি। নিজের কথা বলতে, এই বই পড়া, লিখা আর সাহিত্য নিয়ে নিজের অনুভূতি।
অনুভূতি সবসময় অন্যরকম, অনেক আনন্দের। যখন আমি বই পড়ি তখন সব থেকে সুখী মনে হয় নিজেকে। জীবন যুদ্ধে অনেক পাওয়া না পাওয়া বা থাকা না থাকার মাঝে এই বই পড়াটা আমি ধরে রেখছি। এবং চালিয়ে যাচ্ছি। আর থ্রিলারের উপর আগ্রহ সব সময়ই।
পড়তে পড়তে লেখার শখ আর সেই শখ থেকে লেখক হবার স্বপ্ন বুনতে শুরু করি। এমনিতে আমি খুব শান্তিপ্রিয় মানুষ, চাপ টাপ কম নেই। তাই স্বপ্নও দেখি নিজের সামর্থ্যের মধ্যে। কিন্তু লেখক হবার স্বপ্নটা সামর্থ্যের বাইরের স্বপ্ন ছিল। আমার কাজ কর্ম, জীবন যাপন, বা জীবন যুদ্ধে এই লেখক হবার স্বপ্ন দেখা খুবি হাস্যকর ব্যাপার। যখন দেখলাম আমার আশেপাশে বেশ কয়েকজন লেখক গড়ে উঠেছে, তাদের সাথে আলাপ শুরু করে দিলাম। আমার স্বপ্ন কিভাবে বাস্তবায়ন করা যায় সে ব্যাপারে পরামর্শ চাইলাম। আর তারা সবাই আমাকে জুজুর ভয় দেখাতে লাগলো।
জুজুর ভয় নিয়ে আমার দেখা স্বপ্নের আলোতে এগিয়ে যাচ্ছিলাম। কাজ, পরিবার আর ইবাদতের পরে বেঁচে যাওয়ায় সময়টুকু পড়া আর লেখায় কাটাচ্ছিলাম। পাশাপাশি স্বপ্ন পূরণের রাস্তা খুজচ্ছিলাম।
এমন খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে এক ভদ্রলোক আমাকে ম্যাসেঞ্জারে নক দেন ১৪ই জুন, ২০২৩ এ। থ্রিলার গুপের এক পোস্টে আমার কমেন্ট দেখে।
ওনার প্রস্তাবটা ছিল, উনি আমার লেখা আর সাথে এক ভদ্রমহিলার লেখা নিয়ে একটা যৌথ বই ছাপাবেন। ওই মহিলা (মেয়ে বললেও চলে) কিছু টাকা দিবেন সাথে আমি কিছু দিলেই হবে। বই কোরবানি ঈদের পরে বের হবে। বইমেলাতেও আসবে।
সেই আপুর সাথে যোগাযোগ হল। আমি আলাদা ভাবে দুজনের সাথেই কথা বললাম। আপুর কোন বই নেই কিন্তু উনি বিভিন্ন ম্যাগাজিনের লিখেন। থ্রিলার লিখেন। আর এই ভাইয়া ওনার কিছু লেখা ছাপাতে সহযোগিতা করেছেন।
আমি দুজনকেই আমার লেখক হবার স্বপ্ন আর বই, লেখা নিয়ে আবেগের কথা জানালাম। তাদেরও বই আর সাহিত্যের উপর মায়া আছে বুঝতে পারলাম।
টাকার পরিমান অনেকের কাছে অল্প আবার অনেকের কাছে বেশি হতে পারে। আমার কাছে বেশি, কিন্তু বই ছাপাতে টাকা লাগতে পারে এমন কথা শুনেছিলাম। তাই কিছু টাকা আমি জমাচ্ছিলাম। সেই টাকাটাই সেই ভদ্রলোককে আমি দিলাম।
এই ঘটনা আমি কাউকে বলিনি। চাচ্ছিলাম সবাইকে চমকে দিবো। বিশেষ করে আমার ফেসবুক বা বন্ধুমহল, অফিস কলিগ বা পরিবারের দু চারজন আছে যারা আমার লেখার তারিফ করে, তাদেরকে।
কিন্তু কোরবানি ঈদের পরে আমি নিজে চমকে গেলাম। সেই ভাইয়ের কোন খোঁজ নেই। দেয়া সময় পার হয়ে গেল। তার কোন পাত্তা নেই। ফোনে বা ফেসবুকে কোথাও সে নেই। সেই আপুরও কান্নাকাটি অবস্থা। ফেসবুক থেকে খুঁজে তার বলা সেই প্রকাশনীকে ফোন দিলাম। উনি জানালো, সেই ভদ্রলোক সেখানে কোন চাকরি করেন না। মাঝে মাঝে এসে আড্ডা দেন। আর প্রকাশক বই সম্পর্কে কিছু জানেন না। তবে উনি নাকি সৎজন লোক। টাকা নিয়ে আমাকে চিন্তা করতে মানা করলেন। হয়তো উনি কোন বিপদে পরেছে।
যাইহোক, ২০২৩ অক্টোবরের ২৮ তারিখে সেই ভদ্রলোক জানালেন উনি খুব বিপদে আছেন। ডেঙ্গু হয়েছে আরো কিছু জায়গায় লস খেয়ে সমস্যার মধ্যে আছেন। ওটাই আমার সাথে তার শেষ যোগাযোগ। ওনার কাছে টাকা পায় এমন কয়কজন আমাকে নক করেছিল। সেই আপুকে তার টাকার অল্প কিছু ফেরত দিয়েছে আর বলেছে তার লেখা ম্যাগাজিনে ছাপিয়ে দিবে।
টাকার জন্য আমার দুক্ষ নেই। টাকা আজ থাকবে কাল থাকবে না। কিন্তু উনার এই কাজের পরে আমি বিশাল এক BLOCK খেয়ে ফেললাম। writing block, thinking block, reading block মদ্দা কথা আমি আর কিছুই পারছি না। কত কিছু মাথার মধ্যে ছিল, কত গল্প, কত কথা, সব উবে গেল। নিজেকে আমি “self-motivated” বললেও, এই ব্যাপারে আমি শেষ হয়ে যাচ্ছি। মাঝে এক বিশেষ জনপ্রিয় লেখকের সাথে কথা হল, উনি পান্ডুলিপি নিয়ে আসতে বললেন। কিন্তু আমার ভেতরটা এমন ভাবে ভেঙ্গে আছে যে আমার কিচ্ছু করতে ইচ্ছে করছে না। বোঝাতে পারছি না কাউকে কিছু।
আমার জীবনে চুরি ডাকাতি হয়েছে। কিন্তু কখনো মানুষের কাছে টাকা দিয়ে টাকা খোয়াইনি। টাকার উপর আমার খুব যে মায়া তাও না। বেঁচে থাকতে লাগবে তাই রোজগার করছি। উনি টাকা দিক বা না দিক তাতে আমি যে কষ্ট পাচ্ছি তার থেকে বেশি কষ্ট পাচ্ছি এই ভেবে, যে আমার দেখা একমাত্র বিশাল আকৃতির স্বপ্নটা উনি নিমিষে ছারখার করে দিলেন। অন্তত এই কারনে উনাকে আমি কোনদিন ক্ষমা করবো না।
যাইহোক, উনার পরিচয় এখানে দিলাম না। উনি হয়তো সত্যি বিপদে আছেন। কারো কিছু জানতে ইচ্ছে করলে ইনবক্স করতে পারেন। আর আমাকে বকাটকা দিতে চাইলে কমেন্ট বক্সে দিতে পারেন।
প্রকাশনী রিজেক্ট করলে কষ্ট পেতাম না। নিজেকে তৈরি করতাম, বার বার লিখতাম, অনেক অনেক লিখতাম। কিন্তু এখন যা হল। নিজেকে আমি আর পথে আনতে পারছি না। ভয় হচ্ছে নিজেকে হারাবার। এইটাই সেই আসল কথা!