Article

এইদেশের শীর্ষ মৌলভিরা মাদ্রাসায় ছেলেশিশু ধর্ষণকে লঘুপাপ বলে নিষ্কৃতি দিতে চাইছে!

September 18, 2026

279 views

মাদ্রাসায় ছেলেশিশু ধর্ষণ আর সমকামিতা কি এক বিষয়? বাংলাদেশের পেনাল কোড অনুযায়ী দুইটার শাস্তি কি এক? বাংলাদেশের ৬০০ জন ধর্মগুরু বিবৃতির মাধ্যমে দেশের জনগণ ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারকে আসলে কী বুঝাতে চাইছেন?

মাদ্রাসায় ছেলেশিশু ধর্ষণ (শিশু যৌন নির্যাতন) এবং সমকামিতা সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি বিষয়। আইনি, সামাজিক এবং মনস্তাত্ত্বিক -সব দিক থেকেই এগুলোকে আলাদাভাবে দেখা হয়।

​

বিষয় দুটি কেন ভিন্ন?

সম্মতি ও বয়স: শিশু যৌন নির্যাতন বা ধর্ষণের ক্ষেত্রে শিশুর শারীরিক বা মানসিক সম্মতির কোনো আইনগত গ্রহণযোগ্যতা থাকে না। এটি সম্পূর্ণভাবে একটি অপরাধ এবং নির্যাতনের ঘটনা। অন্যদিকে, সমকামিতা সাধারণত দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সম্পর্ককে নির্দেশ করে।

অপরাধের প্রকৃতি: যে কোনো শিশুর ওপর যৌন নিপীড়ন এক ধরনের সহিংসতা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং গুরুতর অপরাধ। এর সাথে পারস্পরিক সম্মতিভিত্তিক সমকামী সম্পর্কের কোনো সম্পর্ক নেই।

​বাংলাদেশের পেনাল কোড (দণ্ডবিধি) অনুযায়ী শাস্তি কী? ​বাংলাদেশের বর্তমান আইন (দণ্ডবিধি, ১৮৬০) অনুযায়ী এ দুটির শাস্তি ও ধারা সম্পূর্ণ আলাদা। ছেলেশিশু ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতন: দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারা (ধর্ষণ) মূলত নারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও, শিশু নির্যাতন এবং কোনো পুরুষের ওপর জোরপূর্বক বলাৎকার বা যৌন নিপীড়নের ঘটনাকে দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা (প্রাকৃতিক আইনের পরিপন্থী যৌনসঙ্গম) এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর অধীনে বিচার করা হয়।

শিশুদের ওপর জোরপূর্বক যৌন নির্যাতনের দায়ে শাস্তির মেয়াদ অত্যন্ত কঠোর, যা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে শুরু করে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।

সমকামিতা (সম্মতিভিত্তিক প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে): বাংলাদেশের দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা অনুযায়ী পারস্পরিক সম্মতিতে সংঘটিত অনাসৃষ্টি বা সমকামী আচরণকেও অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়।

এই ধারায় বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কোনো পুরুষ, নারী বা পশুর সাথে প্রাকৃতিক নিয়মের বিরুদ্ধে যৌনসঙ্গম করে, তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড হতে পারে।

​আইনত উভয় ক্ষেত্রেই ৩৭৭ ধারার প্রয়োগের সুযোগ থাকলেও, শিশু যৌন নির্যাতনের ক্ষেত্রে জোরজুলুম, বলপ্রয়োগ এবং শিশুর সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করে অপরাধের মাত্রা ও বিচারপ্রক্রিয়া অনেক বেশি কঠোর করা হয়। এবং মৃত্যুদণ্ডই শিশু নিপীড়কের একমাত্র সাজা।

দুঃখজনক হলেও সত্যি মৌলভিরা নিজেদের গোষ্ঠীগত অপরাধীদের ছাড় দিতে চাইছেন। ব্যভিচার বা জেনার ক্ষেত্রে তারা শরিয়া আইন তথা পাথর মেরে হত্যার ফতোয়া দিলেও ব্যভিচারের চেয়ে অনেক বড় জঘন্য অপরাধ ছেলেশিশু ধর্ষণের বেলায় তারা ব্রিটিশ পেনাল কোডের ৩৭৭ ধারা চাইছেন। কী হাস্যকর ও বালখিল্যতা! তারা প্রচ্ছন্ন ও পরিষ্কার ধর্ষণকে কিনা বলছেন সমকামিতা।

ছিঃ হুজুর কোনটা কী এই লেখা থেকে শিখে নেন -অতঃপর মাদ্রাসা ও মসজিদে ছেলেশিশু ধর্ষণের জোড়ালো প্রতিবাদ করেন এবং নিজের বাপও যদি হয় রেপিস্টের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডের দাবি তোলেন। আর কত আত্মস্বার্থনিমগ্নতা ও নির্লজ্জতার পরিচয় দেবেন আপনারা? প্রতিদিন লাথিগোতা, চড়থাপ্পড় ও গ্রেফতারের খবর আসছে। জীবনের শুরুতে কাপুরুষদের লালসার শিকার হয়ে হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছে শিশুরা। ন্যাক্কারজনক এই বেহায়াপনার শেষ কোথায়? সমাজ সংসারে মুখ দেখান কেমনে আপনারা?

লেখক: সাংবাদিক

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Picked up where you left off

Comments

    Please login to post comment. Login