মায়া চলে যাওয়ার পর রায়হান অনেকদিন পুরোনো বাড়িতে একা ছিল।
সন্ধ্যা নামলেই সে মায়ের ঘরে বসত। মাঝে মাঝে মনে হতো, রান্নাঘর থেকে মায়ের হাঁটার শব্দ আসছে। কখনো মনে হতো, বারান্দা থেকে বাবা তাকে ডাকছেন।
কিন্তু সে জানত—
স্মৃতিরও নিজস্ব শব্দ আছে।
এক সন্ধ্যায় সে সেই পুরোনো ঘরের জানালাটা খুলে দিল।
বাইরে শেষ বিকেলের আলো।
আকাশে কমলা রং।
পুকুরের পানি স্থির।
রায়হান মায়ের শেষ চিঠিটা জানালার পাশে রাখল।
তারপর খুব আস্তে বলল,
“মা, জানালাটা খোলা রেখেছি।”
বাতাস এসে চিঠির পাতাগুলো উল্টে দিল।
একটি পাতায় এসে থামল।
সেখানে মায়ের শেষ লেখা—
“জীবনের সব গল্পের শেষ থাকে না। কিছু গল্প মানুষের চলে যাওয়ার পরও বেঁচে থাকে।”
রায়হান জানালার বাইরে তাকিয়ে মৃদু হাসল।
দূরে সূর্য ডুবে যাচ্ছে।
শেষ বিকেলের আলো ধীরে ধীরে অন্ধকারে মিলিয়ে যাচ্ছে।
কিন্তু এবার রায়হানের ভয় লাগছে না।
কারণ সে জানে—
অন্ধকারের পরেই সকাল আসে।
আর কিছু মানুষ চলে গেলেও,
তাদের ভালোবাসা কখনো চলে যায় না।
সমাপ্ত।