ঘাসেরা কিছুই করল না।
দিনের পর দিন, আলসেমি করে মাঠে পড়ে রইল,
আর খাবলা খাবলা করে রোদ খেয়েছে প্রতিদিন।
বাতাসে দুলতে দুলতে তারা বলাবলি করে,
গরুর চেয়ে খারাপ কিছু নেই আর পৃথিবীতে!
এ পৃথিবীতে গরু কেন পাঠালেন ঈশ্বর?
গরুরা আমাদের বংশ শেষ করে দেয়।
রাস্তা এসব শুনে একা একা মুচকি হাসে।
সে তো সারাদিন শুধু পড়ে থাকে জমিনে।
তার বুকের ওপর দিয়ে
মানুষ যায়, গাড়ি যায়, ধুলো যায়,
কেউ তাকে জিজ্ঞেস করে না, কেমন আছ?
তবু রাস্তার খুব অহংকার! ভাবখানা এমনযে,
আমি না থাকলে কেউ কোথাও যেতে পারত না।
রাস্তা স্বীকার করে না, সে আসলে একা। তার কেউ নেই।
ঘাসদের কথা শুনে নদীও হাসে।
আশ্চর্য ছলাত ছলাত হাসি।
তার হাসিতে কেঁপে উঠল কাশবন।
বলল, তোমরা সবাই কত নির্বোধ!
আমাকে দেখ, আমি পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যস্ত।
পাহাড় থেকে সমুদ্র পর্যন্ত এক মুহূর্তও থামিনা।
নদী মানেই জীবন্ত। প্রাণের উচ্ছ্বাস!
কিন্তু নদী সত্য কথা বলেনি।
তার বুকে কত মৃত পাতা ভেসে যায়,
কত ভাঙা নৌকা, কত হারানো নাম,
ডুবে যাওয়া গ্রাম, গঞ্জ, শহরকে
সে বয়ে নিয়ে যায় সমুদ্রের দিকে।
নদীর উচ্ছ্বাসের আরেক নাম কান্না।
পাখিরা আকাশ থেকে সব দেখে শুনে বলে,
মাটির প্রাণীরা বড়ই অদ্ভুত!
যে যার নিজের কাজটাকেই
পৃথিবীর সবচেয়ে জরুরি কাজ ভাবো!
সূর্য তখন পশ্চিমে নামছিল ধীরে,
সারাদিনের আলো গুটিয়ে নিয়ে।
সে কারও দিকে তাকাল না,
কোনো পক্ষও নিল না।
শুধু ঈশ্বরের দিকে তাকিয়ে
একটু মৃদু হেসে বলল,
প্রভু, এরা কেউ জানে না
কে কেন পৃথিবীতে এসেছে।
ঘাস ভাবে, গরু তার শত্রু;
রাস্তা ভাবে, সবাই তার কাছে ঋণী;
নদী ভাবে, তার মতো আর কেউ নেই।
আর মানুষ?
ঈশ্বর তখন চুপ করে রইলেন।
কারণ তিনি জানেন,
কারণ মানুষই একমাত্র প্রাণী
যে ঘাস কেটে ফেলে,
রাস্তা বানায়, আবার রাস্তা কাটে।
নদী ভরাট করে, দখল করে।
তারপর সন্ধ্যায় দাঁড়িয়ে
আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে,
প্রভু,
এই পৃথিবীটা এত সুন্দর করে
তুমি বানালে কেন?
ঈশ্বর হয়তো তখনও হাসেন।
পৃথিবী থাকবে ভুলে ভরা
পৃথিবীর সবাইকে সুখ না দিয়ে
প্রতিদিন নতুন নতুন পরীক্ষা দিয়ে বেড়াচ্ছেন।
পৃথিবীর কোথাও কাউকে ঠান্ডা মাথায় থাকার
ফুসরত দেয়ার পরিকল্পনা তার কখনোই ছিল না।