রাত ২টা বাজে। মেয়র তোফায়েল তখন শান্তমনে টিভি দেখছিলেন। সেখানে এক পান বিক্রেটার জীবন কাহিনী দেখছে। তোফায়েল এর মনে পড়লো উনিও একসময় পান বিক্রি করতো ব্যবসা করতে করতে আজ ঢাকার মেয়র হয়েছেন। তখনই উনার ম্যনেজার হারুন এর ওয়াইফ এসে হাজির।
টিভি থেকে চোখ সড়িয়ে তিনি তাকালেন হারুনের স্ত্রী রোকেয়ার দিকে। রোকেয়া কাদছে। রোকেয়া বলল, আপনার ম্যনেজার আমাকে মারে। এই দেখেন মেরে আমার দাত দিয়ে রক্ত বের করে ফেলছে।
তোফায়েল গম্ভীর গলায় বললেন, ওই শুয়রের বাচ্চাটা কই?
তোফায়েল ফোন করলেন হারুনকে। হারুনকে দেখা গেল বসের সামনে মাথা নিচু করে দাড়িয়ে থাকতে।
তোফায়েল বলল, তুই নাকি তোর বউকে মেরেছিস কেন?
হারুন চাইছিল না এসব পারিবারিক ব্যপার বসের চোখে আসুক। যেহেতু এসে পড়েছে তাই লজ্জায় এখন চুপ হয়ে আছে। হাত দুটো কেমন গুটি মেরে আছে।
হারুন বলল, আসলে স্যার।
তোফায়েল বলল, চুপ সুয়োর। মেয়েদের গায়ে হাত তুলিস। কুত্তার চেয়েও অধম তুই।
মনে মনে রাগে ফেটে উঠলো হারুন। কারন তোফায়েল পুরো ব্যপারটা জানেন না। জানতেও চাননি। তার আগেই বিচার করছেন একতরফা। এদিকে রোকেয়া যে পরোকিয়া করে তারই বডিগার্ড শামশুর সাথে। সেটা বললে তো হারুন ই মানসম্মান চলে যাবে। তাই হারুন চুপ থাকাই বেছে নিল।
হারুন বলল, স্যার। আমার ভুল হয়েছে। আপনি যা শাস্তি দিবেন। মাথা পেতে নিব
এদিকে মনে মনে খুশি রোকেয়া। নিজের স্বামীকে তার বসকে দিয়ে অপমান করাতে পেরে। তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছিল তখন। যখন হারুন কাজে এতো ব্যস্ত হয়ে যায় যে তাকে আর আগের মতো সময় দেয় না। এদিকে তাদের প্রেমের বিয়ে। সময় না দেওয়ায় এখন শামশুর সাথে সময় কাটায় রোকেয়া। আর হারুনকে একটুও সহ্য করতে পারে না।
এদিকে হারুন বেচারা যৌবনের প্রথম প্রেম ও স্ত্রী রোকেয়া কে এতো পরিমান ভালোবাসে ও দখলদারী করে যে অন্যকারো সাথে প্রেম করছে। এটা ভেতরে ভেতরে মেনে নিতে পারে না।
তোফায়েল একটু চুপ করে ভাবলেন। তারপর বললেন, তোমরা স্বামী স্ত্রী ঝগড়া হবেই। এবারের মতো তুমি মিলে যাও। তারপর যাতে আর আমার কাছে না আসতে হয়। অনেক রাত হয়ে গেছে। যাও বাসায় চলে যাও।
রোকেয়া জেদ করে বসলো। রোকেয়া বলল, আমি বাসায় যাব না। উনি আমাকে আবার মারবে।
হারুন নরম স্বরে বলল, আমি আর মারবো না। কথাটা বলার সময় নিজের ভেতরে একধরনের রাগ চেপে রাখলো হারুন। তবে বাইরে তা প্রকাশ করলো না।
তারপর হারুন ও রোকেয়া তাদের ফ্লাটে চলে আসলো। এই ফ্লাটটাও গিফট করেছেন মেয়র সাহেব। হারুনকে তিনি অনেক স্নেহ ও পছন্দ করেন। যা হারুন ও বোঝে। মেয়রকে পিতার নজরেই দেখেন। তবে আজকের ঘটনায় হারুন নিজেকে ছোট মনে করছে।
এদিকে মদ খেয়ে মেয়রের আমেরিকা থেকে পড়াশোনা করা ছেলে আমির স্পিড বোর্ড চালাচ্ছে। আমির এর চুলগুলো বাবরি। শার্টের সবগুলো বোতাম খোলা। বাতাসে তার শার্ট উড়ছে। আমির এর ফর্সা সিক্স প্যাক দেখা যাচ্ছে। তার সাথেই বডিগার্ড শামশু।
শামশু বলল, স্যার। একটু আস্তে চালান। এখানে তো নৌকাও চলাচল করে।
মদের নেশায় বুদ হওয়া আমিরের ইগোতে লাগলো কথাটা। আমির বলল, ইউ বিচ। খানকির পোলা। চুপ কর। আমার বাপের এলাকা। কাউকে কৈফিয়ত দিব? দেখ কি করি?
তারপর ই আমির তার স্পিড বোর্ড দিয়ে একটা নৌকাকে ধাক্কা মেরে ডুবিয়ে দিল। আমির হাসছে। আমির বলল, দেখসোস। খানকির পোলাকে ডুবাই দিলাম। বাঙালি আমার পায়ের নিচে থাকে।
তারপর আবার ডগ ডগ করে ২ পেগ মদ গিগল আমির।
শামশু পেছনে চেয়ে দেখলো নৌকাওয়ালা ভয়ে আতংকে অস্থির। উল্টে থাকা নৌকার পিঠে উঠে বসলো নৌকাওয়ালা। উনার লুঙ্গি ও পাজামা ভিজে গেছে।
আমির বলল, এদেশে কোন খানকির পোলা নাই। যে আমাকে আটকাইবো।
শামশুর মন চায় প্রতিবাদ করতে হবে। তবে শামশু একজন সাধারন বডিগার্ড বেশি কথা বললে তাকেই চাকরী থেকে বের করে দিবে।

তোফায়েল বললেন, তোমাকে যে কাজ দিলাম। বস্তির লোকদের সড়াতে এখনও সরাচ্ছো না কেন?
মাথা নিচু হয়ে দাড়িয়ে আছে হারুন। কারন সেই বস্তিতে উনার বাবা মা থাকেন। যারা দীর্ঘবছর ধরে অবৈধ ভাবে সেখানে বসবাস করছেন। সেখানে আরো ৯টা গরীব পরিবার বসবাস করে। হারুন ভেবেছিল স্যার হয়তো ব্যপারটা ভুলে যাবেন।
তোফায়েল তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে বললেন, আজই তুমি ওখানে যাও। সেখানের কুকুর বেড়াল সরিয়ে দাও। জায়গা খালি করো। ওখানে আমি ফ্যক্টরী দিব। মানুষ কাজ করবে। তুমি তো জানোই আমি শুধু রাজনীতিবিদ নই, একজন ব্যবসায়ীক। তো আমার চিন্তাভাবনা ব্যবসায়ীক টাইপের।
হারুন বলল, জি স্যার। আমি জানি।
১০জন পুলিশ নিয়ে হারুন বস্তির মেইন লাল লোহার গেটের সামনে দাড়ালো গাড়ি। হারুন ইশারা করতেই পুলিশরা বন্দুক কাধে গাড়ি থেকে নামে। যেন ভয়ংকর কোন মিশনে এসেছে।
হারুন গাড়ি থেকে নেমে ঘড়িতে সময় দেখলেন দুপুর ১২ টা বেজে ৫মিনিট। হারুনের ভেতর অস্থিরতা কাজ করছে। হারুন একটা সিগারেট ধরালেন।
পুলিশের দল লাল গেটের ভেতর ঢুকে দেখলো সেখানে সারি সারি টিনের ঘর। এক মহিলা খিচুরী রান্না করছিল। পুলিশ এসেই মহিলার খিচুরী লাথি দিয়ে ফেলে দিল। মহিলা বুঝলো না খাবারের কি অপরাধ যে লাথি দিয়ে ফেলে দিসে।
পুলিশ বলল, তোরা এখনই এই বস্তি খালি করে দে।
তখন হারুনের বৃদ্ধ মা এগিয়ে এলেন শাড়ির কুচি কোমড়ে গুজে। উনি খুব ভয়ংকর মহিলা। বুড়ো বয়সেও মুখের জোর কমেনি। হারুনের মা পুলিশের সামনে আসলো পুলিশকে ঘুষি মারতে। তবে তখনই হারুন সিগারেট ফেলে গেটের ভেতর ঢুকলো। হারুনের মা হারুনকে দেখে থেমে গেলেন। এগিয়ে গেলেন হারুনের কাছে।
হারুন নিচু স্বরে বলল, বড় সাব অর্ডার দিসে এই বস্তি খালি করতে।
হারুনের মা বললেন, শুধু তোর জন্য। তোর মুখের দিকে তোর কথা ভেবে। নয়তো আমরা লড়াই করতাম। এই বস্তি ছাড়তাম না।
কথাগুলো বলেই উনি কাদতে লাগলেন।
হারুন মিথ্যে কাশি দিল। হারুন বলল, আম্মা। মালপত্র সব বের করে আপনার জন্য ফ্লাট ভাড়া করেছি সেখানে চলে যান। আমার ইচ্ছে ছিল নিজের বাসায় আপনাদের রাখার। তবে ..
হারুনের মা বললেন, বলতে হবে না। তোর বউ তো একটা মাগি। ওর লগে আমগো বনবো না। আমরা দুরেই থাকুম।
এরকম সময় বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল। হারুন পুলিশের গাড়িতে বসলো। এমন ভান করছে যেন তার মা-বাবাকে চিনেই না। মজার ব্যপার তার বাবা-মা ও তাকে সায় দিল। তারাও একই ভান করলো। একটা ভ্যান এনে ঘরের সকল মালপত্র গুছিয়ে এই বৃষ্টির মধ্যেই তারা বেরিয়ে গেল। দুপুরের খাওয়া নাই, গোসল নেই। আজকের দিন হয়তো এই বস্তিবাসীর জন্য নরকীয় স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
এদিকে বিএমডব্লিউ নিয়ে ঘুরছে আমির। সাথে ড্রাইবার ও বডিগার্ড শামশু। আমিরের সাথে একজন নতুন মডেল। একটা মাত্র ছবি করেছে। সেটাও ফ্লপ হয়েছে। মডেল এর নাম টিয়া। আমির টিয়াকে মদ খাওয়াচ্ছে আর তার খোলা উড়ু চেপে দিচ্ছে।
মেয়েটি শর্ট ড্রেস পড়েছে। তাই খোলা পা দেখা যাচ্ছে। উরু টেপার পর। আরমান এর নজর পড়লো টিয়ার গোলাপি ঠোটের ওপর। মদ লেগে ঠোঁটটা কেমন আকর্ষণীয় হয়ে আছে।
শামশু গাড়ির লুকিং গ্লাসে টিপাটিপি দেখে তার মনে পড়ে গেল রোকেয়ার কথা। ভাবলো একবার কল দিবে। তাও দিল না। শামশুর মনে পড়লো কিভাবে সাদ টপকিয়ে সে রোকেয়ার ফ্লাটে যেত আর ঘর খালি থাকলে চুমাচুমি করতো। ভাবতেই শামশুর ঠোঁটে জল এসে পড়লো।
এদিকে আমির যখনই টিয়ার ঠোঁটে চুমু দিবে৷ তার গাড়ি গিয়ে কালো জিপে ধাক্কা খেল। রেগে গাড়ি থেকে নামলো আমির। দোষ তার গাড়ির তবুও ক্ষমতার জোরে আমর গাড়ি থেকে নামে।
ওদিকে কালো জিপে বসে গাড়ি চালাচ্ছে নৌবাহিনীর একজন যৌদ্ধা। সবে মাত্র ছুটি নিয়ে বাসায় যাচ্ছিলেন। ইউনিফর্ম পড়া নেই। শরীরে কালো শার্ট ও সাদা প্যন্ট। দেখে বোঝার উপায় নেই উনি নৌবাহিনীর লোক।
মদ খাওয়া আমির কালো জিপের সামনে এসে নৌবাহিনী কে গাড়ি থেকে নামিয়ে একটা চড় মারলো। এদিকে আশেপাশের লোক ক্যমেরা দিকে রেকর্ড করছে সেসব আমির বুঝলোও না।
নৌবাহিনী চড় খেয়ে হতভম্ব। তিনি হঠাৎ বিপদ বুঝলেন না। কিংবা ভদ্রতার খাটিরে চুপ করে রইলেন।
আমির তার শার্টের কলার চেপে একটা ঘুষি মারতেই দাত দিয়ে রক্ত বেরিয়ে এলো নৌবাহিনীর। এতেও রাগ কমলো না আমিরের। বডিগার্ড শামশুকে অর্ডার দিলেন মারার জন্য।
শামশু এসেই নিজের দ্বায়িত্ব পালন করলো। নৌবাহিনী মার খাওয়া অবস্থা একবার বলল, আমি নৌবাহিনী। আমার দোষ কি? আমাকে মারছেন কেন?
এসব কথা শামশুর কানে ঢুকলো না।
মূহুর্তের মাঝেই লোকজন এসব ভিডিও করে ভাইরাল করে দিল। এবার কি তাহলে আমিরের পতন ঘটবে? আমিরের কোন ধারনাও নেই সে কার সাথে টক্কর দিয়েছে।
#রাজনীতি
#রুদ্র_সিয়াম