Story

ভ্যম্পায়ার পরিবার

September 30, 2026

17 views





আমি নীলুকে বললাম, আমি তোমার কাছ থেকে একটা কথা লুকিয়েছি। সেটা হচ্ছে আমি ভ্যম্পায়ার।

নীলু বলল, আমিও তোমার কাছ থেকে একটা কথা লুকিয়েছি। সেটা হচ্ছে আমি শাঁকচুন্নি।

কথাটা বলে দুহাত তালি দিয়ে হাসতে লাগলো নীলুৃ। আমি খুব বিরক্ত হলাম। সে ব্যপারটাকে ফাজলামি মনে করছে।

নীলু হাসি থামিয়ে বলল, তো তোমরা মানুষের রক্ত খাও নাকি কুকুরের রক্ত খাও?

আমি তার বোকা বোকা প্রশ্ন শুনে মহা বিরক্ত। আমি নিজের মনে প্রশ্ন করলাম নীলু কি সত্যি ই বোকা না কি বোকা সেজে থাকে। এই ১মাস রিলেশনে আমি নীলুকে এখনও বুঝে উঠতে পারিনি তার ভেতরটা। অবশ্য নীলু খুব হাশিখুশি মিশুক স্বভাবের মেয়ে। তার বিপরীতে আমি খুব লাজুক স্বভাবের ছেলে। আসলে ভালোবাসা সবসময় বিপরীত আচরনের মানুষের সাথেই হয়।

আমি বললাম, আমরা কুকুরের রক্ত খাই না। মানুষের রক্ত খাই।

নীলু বলল, আচ্ছা। আপনার কি ভ্যম্পায়ারের মতো উচু উচু দাত আছে?

আমি হেসে ফেললাম। আমি বললাম, ওগুলো সিনেমাতে হয়। বাস্তবে আমাদের ওরকম দাঁত নাই।

নীলু বলল, আমাদের বলছেন তার মানে আপনার পুরো ফ্যমিলি ভ্যম্পায়ার। ও মা গো ভয় পাইসি।

আমি বললাম, হ্যা। আমার পুরো পরিবার। বাবা, মা, ছোট বোন (ইশরাত) ও আমি আমরা সবাই ভ্যম্পায়ার। আমরা প্রতি শনিবার রিচুয়াল করি। সেখানে সবাই কালো কাপড় পড়ি। তারপর ভেড়া কে কোরবানী করা হয় বাফোমেট এর সামনে। তারপর সবাই ভেড়ার রক্ত খাই।

নীলু বলল, বাফোমেট আবার কে?

আমি বললাম, আমাদের গড। আমরা তার পূজা করি।

নীলু বলল, আচ্ছা। একদিন আমাকে দেখাবেন আপনারা কিভাবে রিচুয়াল করেন?

আমি বুঝলাম নীলুর আগ্রহ জন্মেছে। তবে আমরা যে সমাজে থাকি। সেখানে তো এসব গ্রহন যোগ্য না আমি জানি। আগে শুনেছি আমার পূ্র্ব পুরুষ রা ছন্দবেশে থাকতো। কারো সাথে মিশতো না। তবে এখনকার যুগে ভ্যম্পায়ারদের মানুষ নরমাল ভাবে নিতে শিখেছে। আমেরিকায় তো এটাকে বৈধতা দিয়েছে। তবে বাংলাদেশে এখনও এসব বিষয় শুধু গল্প, উপন্যাসে সীমাবদ্ধ।

নীলু বলল, আপনি সবসময় এমন গম্ভীর থাকেন কেন? ভ্যম্পায়ারদের বুঝি গম্ভীর থাকতে হয়?

আমি বললাম, তেমন কিছু না। চলো তোমায় বাসায় দিয়ে আসি। এই শীতের মধ্যে জঙ্গলে আর হাটতে মন চাইছে না।

নীলু বলল, হ্যা। আমারো একটু শীত শীত লাগছে৷ সূর্য ডুবে গেছে। তাই এখন একটু ঠান্ডা পড়েছে। আচ্ছা। এটা কি সত্য আপনারা সূর্য ডুবে গেলে ভ্যম্পায়ার হয়ে শিকার করেন?

আমি বললাম, হ্যা। এটা সত্য। তবে আমরা তখনই রক্ত খাই। যখন আমাদের খুদা লাগে। অযথা কাউকে খুন করে রক্ত খাই না। তোমাদের ফ্রিজে হয়তো আইসক্রিম থাকে।।আমাদের ফ্রিজে রক্তের প্যকেট থাকে।

নীলু বলল, কেমন লাগে রক্ত খেতে?

আমি বললাম, নোনতা নোনতা লাগে। তুমি ট্রাই করবে?

নীলু বলল, না থাক।

এরকম সময় দেখলাম জঙ্গলে আমাদের পথ আটকে দাড়িয়েছে খোকা। সে ইচ্ছাধারী কুকুর। নিজের ইচ্ছায় কুকুর হতে পারে আবার মানুষ হতে পারে।

কুকুরটা মানুষের মতো লম্বায়। কালো চোখ দাতগুলো বড় বড় হা করে আছে তাই মুখ দিয়ে লালা পড়ছে।

আমি বললাম, খোকা এখান থেকে চলে যা। নীলুকে ভয় দেখাস না।

কুকুরটা এবার ডান পা দিয়ে মাটি সড়াতে লাগলো। মানে সে আমাদের আক্রমণ করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। নীলু ভয়ে আমার পেছনে লুকিয়ে পড়লো৷ আমি দাড়িয়ে আছি।

এমন সময় কুকুরটি দৌড়ি এসে লাফ মারলো আমাদের শরীরের ওপর। কুকুরটির উদ্দেশ্য নীলুকে কামড়ে তার মাংস খাবে।

নীলু বলল, ওই ঘাসের ওপর কি যেন নড়াচড়া করছে। ওখানে কেউ একজন আছে।

আমি এলার্ট হয়ে গেলাম। আমার সিক্স সেন্স বিষয়টা বোঝার চেষ্টা করছে। নীলু হাত দিয়ে আমার পেছনে লুকালাম।

ঘাস সরে গিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে এলো একটা কুকুর। কুকুরটা মানুষের মতো লম্বা চোখ বড় বড় কালো। হা করে আছে তাই জিহ্বা দিয়ে লালা পড়ছে। আমি তার দাড়ালো দাতগুলো দেখলাম।

কুকুরটা (দিনের বেলায় মানুষ (খোকা) রাতের বেলা কুকুরে পরিনত হয়। তখন সে শিকারে বের হয়। জীবন্ত মানুষদের মেরে এরা খেয়ে ফেলে।

কুকুরটি মাটিতে পা দিয়ে মাটি সড়িয়ে লাফ দেওয়ার জন্য প্রস্তুস। যখনই কুকুরটি আমার ওপর লাফ দিল। আমি এক ঘুষি দিলাম কুকুরটির মুখে৷ কয়েক হাত দূরে গিয়ে ডিকবাজি খেয়ে ছিটকে পড়লো। তারপর আবার উঠে 'দুইবার' ঘেউ ঘেউ করে চলে গেল।

নীলুকে বাসায় রেখে নিজের বাসায় এসে দেখি সারা বাড়ি অন্ধকার শুধু চারিদিকে মোমবাতি। বুঝে গেলাম আজকে রিচুয়েল এর দিন। আজকে রক্তপান করার দিন। আব্বু, আম্মু ও ছোটবোন ইশরাত কালো কাপড় পড়ে বসে আছে সোফায়। কাপড়টা রেইনকোট এর মতো। তবে রেইনকোট না।

আম্মু আমাকে ড্রেস চেন্জ করে কালো কাপড়টা  পড়তে বললেন। আমি কালো কাপড় পড়ে নিলাম। তারপর পুরো ফ্যমিলি বাফোমেট এর সামনে আসলাম।

আব্বুর হাতে তখন তলোয়ার। বাফোমেট এর মুর্তির সামনে একটা ভেড়া শোয়ানো। ভেড়ার হাতে একটা স্টারের চিন্হ। স্টার এর চিন্হটা প্রথমে  লোহা আগুনে ডুবিয়ে তারপর ভেড়ার শরীর দিয়ে বানানো।

আব্বু তলোয়ার উচু করে বললেন, শয়তান। আমাদের প্রভু। আমরা তোমার অনুসারী। তোমার নামে এই ভেড়া উৎসর্গ করলাম।

কথাটা বলে হাতের তলোয়ার দিয়ে এক কোপে ভেড়ার মাথা ঘাড় থেকে আলাদা করে দেয় আব্বু। রক্তের ছিটে উনার মুখে এসে পড়ে। পকেট থেকে রুমাল বের করে আব্বু ঘাম মোছার মতো রক্ত মুখেন। উনার চোখে মুখে তৃপ্তির হাসি দেখা যায়।

তারপর ভেড়ার রক্ত প্রথমে নিজে পান করেন। তারপর আম্মুকে খাওয়ান। তারপর আমাকে খাওয়ান। তারপর ইশরাতকে খাওয়ান।

ভেড়ার রক্ত খাওয়ার পর আমি নিজের ভেতরে কাউকে যেন অনুভব করি। আমার সেন্স কাজ করা বন্ধ করে দেয়। আমি দেখলাম বাফোমেট এর মুর্তি মানুষের রুপ নিল। তার দুটো সিং, চেহারা ছাগলের মতো, একটা হাত আকাশের দিকে আরেকটা হাত মাটির দিকে। যার অর্থ উপড়ে আসমান, নিচে জমিন। দুটাই সমান। ভালো মন্দ দুটাই সমান।

বাফোমেট হঠাৎ আমার শরীরে প্রবেশ করে
। তারপর আর কিছু মনে নাই আমার।

ঘুম ভেঙ্গে নিজেকে নগ্ন অবস্থায় পেলাম বিছানায়। গতরাতে কি হয়েছে কিছু মনে নাই। তারপর বাথরুমে গিয়ে গোসল করে ফেললাম। মাথা এখনও হাল্কা ঝিমাচ্ছে।  আমি নগ্ন কিভাবে হলাম কিছু মনে পড়ছে না।

পুলিশ অফিসার রফিক দেখলো একটা  মৃত ভেড়ার দেহ পড়ে আছে মাটিতে। তবে ভেড়াটার মাথা নাই। ভেড়ার বুকের একপাশে তারার চিন্হ।

রফিক চারিদিকে আশেপাশে তাকালো। কোন বাড়িঘর নেই। পার্বত্য চট্টগ্রামের এই জায়গা নির্জন ও জঙ্গল। এখানে ঘরগুলো যেন একটু দূরে দূরে। এক বাড়ি হতে আরেক বাড়ি যেতে ৫ মিনিট লাগে হেটে। তারপর আছে কিছু যৌথ বাড়ি সেখানে একত্রে অনেক মানুষ থাকে। জনবসতি বলা চলে।

রফিক ভেড়াটাকে তার গাড়ির জিপের ভেতর রেখে থানার দিকে চলল। এর আগেও এমন মৃত ভেড়া পাওয়া গেছে সেই 'তারা' র চিন্হ ছিল ভেড়ার শরীরে। কে বা কারা এসব করছে তা এখনও অজানা।

সোফার রুমে এসে দেখি ইশরাত ফোন টিপছে। তার পাশে গিয়ে বসলাম।

আমি বললাম, গতরাতে কি হয়েছিল?

ইসরাত ফোন পাশে রেখে বলল, গতরাতে তোমার ওপর বাফোমেট এসেছিল। তারপর তিনি আমাদের ভবিষ্যত সম্পর্কে বার্তা দিয়ে গেছেন।

আমি বললাম, কি বলেছে বাফোমেট?

ইশরাত বলল, বাফোমেট বলেছে একদিন তুমি আমাদের সবাইকে তলোয়ার দিয়ে মেরে ফেলবে। এটাই ভবিষ্যত।

আমি অবাক হয়ে বললাম, তবে আমি এমনটা কেন করব? আমার মোটিভ কি থাকবে?

ইশরাত বলল, এসব তো কিছু বলেনি।

এর আগে বাফোমেট এর ভবিষ্যত বানী সত্যি হয়ে গেছে। জ্যাক আমার দাদার মৃত্যুর ভবিষ্যত বানী করেছিলেন বাফোমেট। বাফোমেট বলেছিলেন ঠিক রাত ১২টায় তোমার মৃত্যু হবে। দাদা চেয়েছিলেন মৃত্যুকে ধোকা দিয়ে উনি সেদিন রাতে ১১টায় ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে লাইব্রেরি রুমে নিজেকে আটকে রাখলেন। উনার মৃত্যু হলো লাইব্রেরির উপড়ের ফ্যন নিচে পড়ে উনার শরীর ওপর। উনি মৃত্যুকে ফাঁকি দিতে পারেননি। বাফোমেট এর কথা সত্য হয়েছিল।

আমি ইশরাতকে বললাম, আর কি বলেছে বাফোমেট?

ইশরাত চুপ হয়ে কিছুক্ষন পর বলল, বাফোমেট বলেছে আমাদের(বাবা,মা, ইশরাত) মৃত্যু থেকাতে তোমার প্রিয় কাউকে কোরবানী দিতে হবে ভেড়ার বদলে।

আমি চোখ বড় বড় করে বললাম।

ইশরাত বলল, এখন বলো তোমার প্রিয় মানুষটা কে ভাইয়া।

আমি বললাম, নিলু। তবে তাকে আমি কোরবানি দিতে পারব না।

ইশরাত আহত গলায় বলল, তাহলে আর কি করার।  তোমার কাছে তোমার ফ্যমিলির চেয়ে ওই মেয়েটা বেশি ইম্পর্ট্যান্ট তাই না ভাইয়া।

আমি বললাম, এরকম কিছু না।

লাইব্রেরি রুমে এসে দেখি বাবা কালো যাদু করছে। মাটিতে স্টার আকা। স্টারের ৫ কোনায় ৫টা মোমবাতী। উনি স্টারের মাঝখানে বসে একটা বই পড়ছে। বইটার নাম ' দ্যা বুক অফ সোলোয়মান"।  খুব পাওয়ারফুল বই জাদু বিদ্যার জন্য। বাইবেলে পড়েছি সোলেমান নামে এক রাজা এই বইটা লিখেছে। এখন আমরা এটা দিয়ে কালো যাদু করি।

আব্বু মন্ত্র পড়ছে আর মোমবাতী গুলো হাওয়ায় ভাসছে। আব্বু চোখ বন্ধ করে ফেললেন। তারপর বিড় বিড় করে কি যেন বললেন। হঠাৎ আমি লাইব্রেরি তে কার যেন উপস্থিত লক্ষ্য করলাম। অশরীরী কিছু যাকে দেখা যায় না, ছোয়া যায় না। তবে শুধু অনুভব করা যায়। এটা কে?

এমন সময় সেখানে ইশরাত মোমবাতি হাতে উপস্থিত হয়ে বলল, নিচের তলায় একজন হুজুর এসেছে। তোমার সাথে দেখা করতে চায় আব্বু।

আব্বুর ধ্যান ভঙ্গ হওয়ায়  ৫টা মোমবাতিগুলো মাটিতে পড়ে গেল হাওয়া হতে। আব্বু কালোযাদুর বইটা চেয়ারের ওপর রেখে উঠে দাড়ালেন। পেতাত্মার সাথে আর কথা বলা হলো না৷

>

সোফার রুমে বসে আছেন একজন হুজুর। আব্বুকে দেখে হুজুর বললেন, আসসালামু আলাইকুম।

আব্বু কোন জবাব দিলেন না। বোঝার চেষ্টা করলেন এই হুজুর কেন উনার বাসায় এলো। হুজুরের মতলব কী?

আব্বু সোফায় বসলেন হুজুরের মুখোমুখি তাদের সামনে একটা টেবিল রাখা।

হুজুর বললেন, আপনার ছেলে রয়ান। আমার ছেলেকে ঘুষি মেরে মুখ ফাটিয়ে দিয়েছে।

আব্বু বিরক্ত চোখে আমার দিকে তাকালেন একবার। তারপর আবার হুজুরের দিকে তাকালেন।

আব্বু বললেন, আপনার ছেলেটা কে?

হুজুর বললেন, আমার ছেলের নাম খোকা।

আব্বু আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, এই লোকটা যা বলছে তা কি সত্য?

আমি বললাম, হ্যা।

এমন সময় ইশরাত একগ্লাস রক্ত টেবিলের রাখলো হুজুরের জন্য।

হুজুর বললেন, এটা কি লাল পানি? রুআফজা নাকি?

কথাটা বলে গ্লাস টা তুলে চুমুক দিলেই হুজুর ওয়াক করে সকল রক্ত মুখ থেকে ফেলে দিল ফ্লোরে।

হুজুর রেগে বললেন, এসব কি রক্ত? আপনারা রক্ত দিলেন কেন মেহমানকে?

আব্বু শান্ত গলায় বললেন, আমরা মেহমানদের এভাবেই আপ্যায়ন করি।

হুজুরের চোখে ভয় ও রহস্য দেখতে পেলাম। তিনি আমাদের বিষয়টা বুঝতে পারছেন না।

হুজুর বললেন, তোমরা কি সেই লোক? যারা শয়তানের পূজা করে?

আব্বু হেসে বললেন, হ্যা।

বসা থেকে উঠে বসলেন হুজুর রাগে উনার শরীর কাপছে। হুজুর বললেন, আল্লাহর লানত তোমাদের ওপর তোমরা জাহান্নামে যাবে।

আব্বু ঠান্ডা গলায় বললেন, আর আপনি যে হুজুর মানুষ মসজিদে নামায পড়ান ইমামতি করেন। আপনি যে মসজিদের দানবক্সের টাকা মেরে খান। আপনি কোথায় যাবেন?

হুজুর চোখ ভয়ে বড় বড় হয়ে গেল। হুজুর অবাক হলেন। কারন এই বিষয়টা উনি ছাড়া কারো জানার কথা না। তবে আব্বু জানলেন। এটাই উনি বুঝে উঠতে পারছেন না।

আব্বু বললেন, দেখেন হুজুর আমরা সবাই পাপী৷ নিজের পাপের বাটখারা দিয়ে অন্যের পাপ মাপি। এই কারনেই তো আপনার ছেলেকে অভিশাপ দিয়েছে যার কারনে সূর্য ডোবার পর খোকা মানুষ থেকে কুকুরে রুপান্তর হয়। আলিফ লাইলার কাহিনীর মতো। যাই হোক, আপনি এখন আসতে পারেন।

হুজুর আর কথা বাড়ালেন না। কোন মতে দৌড়ে বড় বড় পায়ে হেটে ঘর থেকে বের হলেন। আর মনে মনে সূরা পড়তে লাগলেন। আমি বুঝলাম উনি আসলেই ভয় পেয়েছেন।

>

বিকেলবেলা জঙ্গলে এসেছি ঘুরতে নীলুকে নিয়ে একান্ত সময় কাটাতে।

তখন নীলুকে হাটতে হাটতে বললাম, আমাদের বাসায় যেতে হবে তোমাকে।

নীলু অবাক হয়ে বলল, কেন?

আমি বললাম, বাবা মায়ের সাথে পরিচয় করাবো তাই।

( মনে মনে বললাম, পরিচয় করানো টা বাহানা নীলু তুমি আমার পছন্দের মানুষ। উদ্দেশ্য তোমাকে কোরবানি করতে হবে বাফোমেট এর সামনে তাহলেই আমার পরিবার বাচবে।)

নীলু বলল, কবে নিয়ে যাবেন?

আমি বললাম, আগামী শনিবার। আমাদের রিচুয়াল এর দিন।

নীলুকে বললাম, আমার খুব রক্ত খেতে ইচ্ছে করছে। তোমার হাতটা দাও।

নীলু দুহাত দিয়ে মুখ চেপে হাসছে। নীলু ডান হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল, এই নেন ভ্যম্পায়ার সাব।

নীলু ভাবছে আমি তার সাথে কথা করছি৷ নীলু হাত ধরে একটা কামড় মারলাম। তার ফর্সা হাতে দাত বসিয়ে দিয়েছি। তার হাতের রেশমি চুড়ি আমার হাতের চাপে ভেঙ্গে গেছে। নীলু খুব ব্যথা পাচ্ছে। তার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। তবু হাত সড়িয়ে নিচ্ছে না। মন মতো তার হাত থেকে রক্ত চুষে খেলাম। রক্তে আমার ঠোঁট লাল হয়ে গেছে।

কিছুক্ষণ পর যখন রক্তের খুদা চলে গেল৷ তখন বুঝলাম কাজটা করা ঠিক হয়নি। আমার কন্টোলে থাকা উচিত ছিল।

ডান হাত দিয়ে ঠোঁটে থাকা রক্তগুলো মুছে নীলু দিকে তাকালাম। তার চোখ ভেজা। তার সাদা থ্রিপিছ জর্জেট এর। সেই সাদা ওড়না দিয়ে কামড়ের জায়গায় পেচিয়ে দিলাম।

তারপর দুজনই চুপ। আমি নীলু কে বললাম, তোমার জন্য গিফট এনেছি। তারপর পেছনের পকেট থেকে ২টা নুপুর বের করলাম। নীলু দু' হাত দিয়ে মুখ ঢেকে তার ডান পা এগিয়ে দিল।

আমি হাটু গেড়ে বসলাম। তার ডান পা টা আমার হাটুর ওপর রেখে তাকে নুপুর পড়িয়ে দিলাম। তারপর সে বাম পা দিল। সেখানেও নুপুর পড়িয়ে দিলাম। তারপর যখন নীলু পা সড়িয়ে নিবে। তখন পা টা শক্ত করে ধরলাম। কামড় দেওয়ার মতো করতেই নীলু ভয়ে পা সড়িয়ে নিল।

নীলু বলল, আপনি সবসময় আমাকে ভয় দেখান কেন? আজ আপনি আমার রক্ত খেয়েছেন।

আমি অনুতপ্ত হয়ে বললাম, আসলে সরি। আমার কন্ট্রোলে ছিল না৷ এরপর বাসা থেকে রক্ত খেয়ে বের হবো।

নীলু বলল, আচ্ছা আপনার ধর্ম কী?

আমি বললাম, স্যাটানিজম। আমরা বাফোমেট এর পূজা করি।

নীলু বলল, আমরা কৃষ্ণের পূজা করি। আমাদের কি ফ্যমিলি মেনে নিবে?

আমি বললাম, কৃষ্ণ ভালোবাসার দেবতা। আর বাফোমেট হচ্ছে ডেভিল এর রুপ। ডেভিল হচ্ছে বাইবেলে অভিসপ্ত একজন যাকে গড আসমান থেকে মাটিতে ফেলে দিছিলেন। তখন উনার ডানা বিজলিতে ভেঙ্গে যায়। উনি আকাশ থেকে মাটিতে পড়া এক হতভাগা। যিনি আমাদের পথ দেখান।

নীলু বলল, কি বলেন। কিছু মাথায় ডুকে না।

আমি বললাম, ধর্মের ব্যপারটা বাদ দাও। শনিবার তোমাকে বাসায় নিয়ে যাব। এটা মনে রেখো।

নীলু বলল, আচ্ছা।

>

বাসায় এসে দেখি ইশরাত এর পেট ফুলে উঠেছে। আমি অবাক হলাম।

ইশরাত আমাকে পেট দেখিয়ে বলল, ভাইয়া আমার পেটে বাচ্চা।

আমি আরো অবাক হলাম। আব্বু আম্মু দেখি খুশি।

আমি আব্বু কে বললাম, ওর পেটে বাচ্চা এলো কিভাবে?

আব্বু বলল, এটা বাফোমেট এর বাচ্চা। বাফোমেট এর বাচ্চা খুব তাড়াতাড়ি পেটে বড় হয়। ৯ মাসে নয়। ৯ দিনে এই বাচ্চা পেটে বড় হয়ে ৯ মাসের আকার লাভ করবে।

আমি বললাম, কিন্তু ইশরাত শয়তানের সাথে মিলিত হলো কখন?

ভ্যম্পায়ারদের লাইফ খুব বোরিং। রক্ত খাওয়ার কারনে আমাদের বয়স খুব ধীর গতিতে বাড়ে৷ আমার দাদা ৩০০ বছর বেচে ছিলেন। পলাশীর যুদ্ধ হতে শেখ মুজিব সব নিজ চোখে দেখেছেন।

আমার বয়স কত ১০০ হবে। তবে আমার চেহারা দেখলে মনে হবে কোন ২৫ বছরের যুবক। এই ১০০ বছরে অনেক মেয়েই আসছে জীবনে তবে নীলু একটু আলাদা। তাই তাকে ভালোলাগে। ওর চার্মিং ভাবটা বেশ আকর্ষণ করে আমাকে।

বাইরে আকাশ কালো করে বৃষ্টি নেমেছ সন্ধার বৃষ্টি। আমি ঘর থেকে বের হলাম বৃষ্টিতে ভিজবো। হেটে হেটে নীলুর বাসা অব্দি যাব। রাস্তার পাশে তাদের বাড়ি। রাস্তার পাশে দাড়ালে জানালা খোলা থাকলে তাকে একনজর দেখে আবার চলে আসবো৷

বৃষ্টিতে ভিজে জঙ্গল পাড় হলে কিছুদূর পর নীলু বাড়ি। জঙ্গল দিয়ে যাওয়ার পথে শুনলাম কি যেন চাবানোর শব্দ।  আরেকটু এগোতেই দেখলাম মানুষের মতো লম্বা কুকুর একটি মেয়ে কে ছিড়ে খাচ্ছে দাত দিয়ে। এটা আর কেউ না খোকা।

খোকা মেয়েটার মাথার মগজ খাচ্ছে। এতোক্ষণ আমাকে খেয়াল করেনি। এখন পেছন ফিরে তাকালো। খোকার মুখ দিয়ে রক্ত পড়ছে।

খোকা বলল, আমার আব্বু তোদের বাসায় গিয়েছিলো। তোর আব্বু অপমান করেছে উনাকে। কাজটা ঠিক করেনি। এখন তোকে মারবো।

আমি বললাম, দেখ। অযথা মারামারি আমার পছন্দ না। তবুও যদি তুই চাস। তাহলে আয় ফাইট হয়ে যাক।

খোকার কুকুর রুপে তার কালো চোখ দেখা যাচ্ছে। জিহ্বা টা একদম লাল। জিহ্বা থেকে রক্ত  পড়ছে। 

আমি পকেট থেকে একটা কাগজ ছুড়ে ফেললাম দূরে। খোকাকে বললাম যা কাগজটা তুলে আন। 

খোকা বিরক্ত হয়ে আমার ওপর ঝাপিয়ে পড়লো। তার দাত দিয়ে কামড়াতে চাইছে আমাকে। আমি তার মুখ ধরে আছি দুহাত দিয়ে। খোকার শরীরে এখন অনেক শক্তি। পা দিয়ে লাথি মারলাম খোকার পেটে। কয়েক হাত ছিটকে গিয়ে পড়লো সে। তারপর আবারো আমাকে কামড়াতে এলো। এবার আমি লাথি মারলাম খোকার পায়ে। একটু দূরে গিয়ে 'ঘেউ' করে উঠলো। তারপর আর কথা বাড়ালো না। মেয়েটির লাশ না খেয়েই চলে গেল। আমি দেখলাম মেয়েটার ঘাড়ের অংশ খাওয়া বিভৎস রুপ সেখানে আবার মাছি উঠছে।

>

সকাল বেলা পুলিশ অফিসার রফিকের চোখে পড়লো মেয়েটির লাশ। রফিক সাইকেল থেকে নেমে সিগারেট ধরালেন। এমন বিভৎস্য অবস্থা। যে মনে হয় কোন পশু মেয়েটিকে কামড়ে খেয়েছে। এটা কোন মানুষের কাজ হতে পারে না।

এর আগেও রফিক দেখেছিল একটা গলাকাটা ভেড়া যার শরীরের স্টারের চিন্হ। রফিক লজিক খাটিয়ে ভাবছে ২টার কি কোন কানেকশন আছে?

( সমাপ্ত)

Picked up where you left off

Comments

Be this story’s first reader

+30 XP

Nobody has commented yet. Sign in, read it, and be first with a thoughtful comment to earn the bonus.

Sign in to claim

    Please login to post comment. Login