আমি বাকেরগঞ্জের ছেলে!
আমি বাকেরগঞ্জের ছেলে,
যেখানে নদী গেয়ে ওঠে পুরনো নামের গান,
যেখানে পায়রা আর কীর্তনখোলার ঢেউয়ে
ভেসে আসে মুঘল সেনার ধ্বনি,
আর জোয়ারে ফিরে আসে এক খণ্ড ইতিহাস।
আমার পূর্বপুরুষরা চাষ করেছে বাকলা রাজ্যের মাটি,
সিংহদুয়ার ছুঁয়ে এসেছে চন্দ্রদ্বীপের দীপ্তি,
তখনও বরিশাল নামে ছিল না কোনো শহর—
ছিল কেবল বাকেরগঞ্জ,
একটি পরিচয়, একটি মানচিত্র, একটি বিস্তৃত হৃদয়।
আমি সেই পথে হেঁটেছি,
যেখানে নীলকর পা ফেলেছিল,
যেখানে বাউলদের দোতারায় কেঁদেছিল মাটির সুর।
আজ নাম বদলেছে—
বাকেরগঞ্জ এখন কেবলই একটি পুরনো খাতা,
পুরনো ডাকঘর, পুরনো সিলমোহর।
তবুও আমি বলি—
আমি বাকেরগঞ্জের ছেলে।
আমার জন্ম শিকড় যেখানে পোঁতা,
সেই মাটি আমার নাম জানে,
আমার চোখে দেখে শতাব্দীর ধুলোর গান।
যদি কখনো ফিরে আসো দক্ষিণ হাওয়ায়,
তুমি শুনতে পাবে—
একটা হারানো নাম এখনও নদীর জলে ভেসে যায়,
“বাকেরগঞ্জ… বাকেরগঞ্জ…”