সিনিক
শফিক তালুকদার
যৌনতাহীন এই বেশ আছি,
তপ্ত শরীরের উত্তাপে দগ্ধ হয় না রাত,
পৃথিবীর আদিম প্রলোভন নিঃশব্দ হয়ে গেছে
একটা ক্লান্ত সিগারেটের মতো
ঠোঁটের কোণে ঝুলে আছে শুধু অভ্যাস।
হিংস্রতা নেই চোখে, দাঁতে, নখে—
ঘৃণাহীন হৃদয়ের উষ্ণতা নিয়ে
আমি হেঁটে যাই জনারণ্যের বিপরীতে,
যেখানে প্রতিটি স্পর্শই এখন লোভের চিহ্ন,
প্রেম নয়—বিনিময়; কাম নয়—চুক্তিপত্র।
প্রকৃত নির্জনতা নেই,
তবু এই নগরীর কোলাহলের মাঝখানে
একটি ছোট নিঃশব্দ কোণে
আমি আমার স্বপ্নের চিত্রফলক আঁকি,
অভিযুক্ত নেড়ি কুকুরের পাশে বসে
তার চোখে দেখি মহাকাব্যিক চেতনা—
যেখানে ক্ষুধা মানেই নীতির পরম পাঠ,
যেখানে ভালোবাসা মানেই
নির্বাক লেজ নেড়ে দেওয়া।
রাস্তার পাশেই মায়ার সংসার পেতে
ভালোবাসার কাছে হাত পাতি—
যতটা নয় আকুতি, তার চেয়ে বেশি প্রত্যাশাহীন সম্মান।
করুনায় তবু ভাস্কর্যের মন গলে,
হৃদয়ের শিলাখণ্ডে কিঞ্চিৎ ফাটল ধরায়।
কিন্তু মানুষ,
এই ধূসর জাতটা এখনো পুরোদস্তুর জন্তু রয়ে গেছে;
যত চামড়া পাল্টাক, পোশাক বদলাক,
তার ভেতরের দাঁত আর নখ আজো রক্তচোষা—
সভ্যতার পরতের নিচে ঘুমিয়ে থাকা হিংস্রতা
যেকোনো মুহূর্তে জেগে ওঠে,
আর বলির পাঁঠা খোঁজে।
পড়ালেখা করে যেই মস্তিষ্ক চিন্তার জাহাজ চালায়,
সে-ই জ্যান্ত কুকুরকে আগুনে পুড়িয়ে ফেলে,
ভবিষ্যতের নামে খণ্ড খণ্ড ইতিহাস লেখে
যেখানে মানুষ বলে কিছু ছিল না—
ছিল কেবল মুখোশধারী হায়েনার দল।
আমি আর কবিতা লিখি না এখন,
লিখি প্রকারান্তরে আত্মজীবনী,
প্রতিটি পংক্তিতে কেটে যায় চামড়ার নিচের রক্তনালী,
আমি বলি না,
তবু আমার শব্দেরা চিৎকার করে—
"মানুষ" হতে আর মন চায় না।
সিনিক?
হ্যাঁ, আমি বেছে নিয়েছি হতাশার দীপ্তি,
যেখানে অন্ধকার মানেই শেষ নয়,
বরং আরেকটি রূপান্তরের শুরু।
আমি বিশ্বাস করি না,
তবু প্রতিটি শিশুর হাসিতে লুকিয়ে থাকা সম্ভাবনায়
মৃদু হেসে উঠি—
হয়তো কোনোদিন মানুষ জন্তু থেকে উঠে আসবে,
দাঁত আর নখ হারিয়ে ফেলবে,
হৃদয় হয়তো হৃদয়েই পরিণত হবে।
তখন আমি আর কিছু লিখব না—
শুধু দাঁড়িয়ে থাকব এক কোণে,
নিঃশব্দে মাথা নেড়ে বলব,