তো আজ বিকেলে আমরা তিনজন ঘুল্লা খাইতে বের হইছিলাম। বাসা থেকে গেলাম কাওলার ওদিকে একটা পার্কে। সেখান থেকে উশটা খাইতে খাইতে আসলাম আমরা দক্ষিনখান। আমার অনেক বিরক্তিকর স্মৃতিবিজড়িত এলাকা। ঢাকা শহরে কোন এলাকা যদি আমার খুব বেশী বিরক্তির উদ্বেগ ঘটায়, তার দক্ষিনখান নাম্বার ওয়ান।
যাইহোক, রাস্তা আগের থেকে ভালো হয়েছে আর পারিপার্শ্বিক উন্নয়ন ঘটেছে, কিন্তু সেই অটো আর মানুষের ঠেলা-গুতা আগের মতনই আছে। সেখানকার কাজ শেষ করে দাঁড়ালাম উঠবো অটোতে। যে যার মতন রাস্তার মধ্যে এদিক যায় ওদিক যায়, দাঁড়িয়ে থাকে। রাস্তা আর ট্রাফিকের কোন বাপ-মা নাই। একটু দাঁড়িয়ে উঠে পরলাম এক অটোতে।
কেসি হাসপাতাল থেকে শুরু হল জ্যাম। তো জ্যামে বসে আমরা তিনজন জ্যামিং করতেছি। বিভিন্ন আগডুম-বাগডুম আলাপ চলছে।
আমি ওদের দুজনকে বললাম, ভালো একটা ভিডিও দেখলাম সেদিন। আইডিয়াটা বেশ ভালো লেগেছে। ভাবছি আমি বা ইলশানাকে দিয়ে ভিডিওটা বানাবো।
বউ বলল, ইলশানাকে দিয়ে বানাইও।
আমি বললাম, না, ইলশু ভিডিও করবে। আমি ক্যামেরার সামনে থাকবো।
এটা বলে ইলশানাকে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি ভিডিও করতে পারবা না মা?
সে বলল, পারবো কিন্তু একটা শর্ত আছে।
আমি বললাম, লাগবে না তোর ভিডিও করা। কাজ দেবার আগেই শর্ত দিবে। হুহ।
বউ বলল, আরে আগে শুনো না।
ইলশানা বলল, আমাকে আমের ওই জিনিসটা দিতে হবে।
আমি বললাম, কি জিনিস?
পিচ্চির এখনো কিছু ভোকাবুলারি ইস্যু আছে। কথা মাঝে, ওই, এই, ইয়ে ঢুকাই ফেলায়। পড়ে আবার মনে পড়লে বলে।
ওহ আমাদের মাঝে বসা। ওর ডানে ওর মা আর বামে আমি। হঠাৎ ওর মায়ের কি মনে পড়লো। সে একটু সামনে এগিয়ে এসে কানেকানে কথা বলার মতন মুখে হাত দিয়ে মুখ আড়াল করলো। অটো আমাদের সামনে শুধু এক চাচী বসা। আর পিছনের সিটে আমরা তিনজন। তো বউ যখন সামনে মাথা বাড়িয়ে দিলো মুখে হাত দিয়ে, আমি মাথা বাড়িয়ে দিলাম কান এগিয়ে দিয়ে।
সে ফিসফিস করে কানে মুখে বলল, জানো রামেন খাবার পড়ে বাথরুমে গেলে পা/cha জ্বলে।
সে বলছে ফিসফিস করে, কিন্তু আমি তো লোক ভালো না।
আমি একটু জোরে বলে উঠলাম, কার পা/cha জ্বলে?
বেচারি লজ্জা পেয়ে বলল, আরেহ, আমি কানেকানে বললাম আর তুমি চেচাচ্ছ!
আর এদিকে আমার মেয়েও ধরতে পেরেছে ডালমে কুচ কালা হ্যায়।
সে বলল, আরেহ, রামেন না আমি বলছি আমের।
বউ বলল, ওহ তুমি আমের আইস্ক্রিমের কথা বলতেছ?
ইলশানা বলল, হ্যাঁ, রামেন তো ঝাল আমি খাবো আমের আইস্ক্রিম।
কোথাকার জল যে কোথায় গড়াল আমি ঠিক ধরতে পারলাম না। শুধু এতোটুকু বুঝলাম, ১৫-২০ মিনিটের পথ আমাদের প্রায় ১ ঘণ্টার কাছাকাছি লাগলো।