তোমাকে দেখিনি।
তবু আমার সমস্ত শহর তোমার নামে ভাঙা।
বাসের হ্যান্ডেলে ঝুলে থাকি, এদিকে আমার পাঁজরের ভেতর
একজন নারী সারাক্ষণ হেঁটে বেড়ায়। তার পায়ের শব্দ আমি শুনতে পাই।
হর্নের নিচে, ধুলোর নিচে, লক্ষ মানুষের কোলাহলের নিচে, ঠিক একজোড়া পায়ের শব্দ।
কে তুমি?
কোন নামে তোমাকে ডাকব, নামতো জানি না।
আমি জানি না তোমার কণ্ঠস্বর।
প্রতিদিন কেউ আমার কানের কাছে ফিসফিস করে বলে, ওঠো।
আমি উঠি। আমি খাই। আমি হাসি। সবই তোমার হয়ে,
তোমার অনুপস্থিতির হয়ে, যেমন কোনো মানুষ মৃতের হয়ে বেঁচে থাকে।
এই শহর আমাকে শেখায়, দূরত্ব মানে কিলোমিটার।
সেটি এক মিথ্যে শিক্ষা। দূরত্ব মানে একটা দেয়াল,
যার ওপারে তোমার বারান্দা, আর এপারে আমার জ্বর।
আমি তোমাকে ছুঁইনি, অথচ আমার হাতে তোমার চুলের ওজন।
আমি তোমাকে শুনিনি, অথচ আমার ঘুমের ভেতর তোমার হাসির ফাটল।
প্রেম কি তবে এক ধরনের অন্ধ স্মৃতি, যা ঘটার আগেই আমাকে দখলে নিলো।
রাত হলে ছাদে উঠি।
চারপাশে নগরের লক্ষ জানালায় লক্ষ আলো।
একটা আলোও আমার নয়।
আমার বুকের ভেতর একটা ঘর আছে,
দরজায় তালা নেই, তবু কেউ ঢোকে না।
আমি সেখানে প্রতিদিন তোমার জন্য বিছানা পাতি।
বালিশে হাত রাখি। ঠান্ডা। আবার বিছানা পাতি।
তুমি কি আছ?
নাকি আমিই তোমাকে বানিয়েছি,
আমার একাকীত্বের মাটি দিয়ে, আমার নির্ঘুম রাতের অপেক্ষা দিয়ে?
যদি থাকো, একবার ভিড়ের ভেতর ঘুরে তাকিয়ো।
আমি দাঁড়িয়ে থাকব, চেনা কোনো মুখ নিয়ে নয়,
শুধু একটা অপেক্ষা নিয়ে, যার নাম তুমি।
যদি না থাকো, তবুও তুমি থেকো।
কিছু অনুপস্থিতি এত গভীর যে সেই ভাবনাই একজন মানুষের সবটুকু উপস্থিতি।