Essay

ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কে বিচ্ছিন্নতাবোধ দূর হওয়া জরুরি!

October 5, 2026

17 views

শ্রেণিকক্ষে পাঠগ্রহণে, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জনে এই জীবনে যতো শিক্ষকের সংস্পর্শ পেয়েছি সব শিক্ষকের অবদান স্বীকার করছি কৃতজ্ঞ চিত্তে । স্বীকার না-করা চরম অকৃতজ্ঞতা!

আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস । নিউজফিডে খেয়াল রাখছিলাম । শিক্ষকদের নিয়ে আবেগঘন লেখা তেমন একটা চোখে পড়ে নাই । বরং বেশ কিছু ফানি ও তিরস্কারমূলক পোস্ট চোখে পড়েছে!

এইখানে ভীষণভাবে চিন্তার জায়গাটা হলো 'ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কে বিচ্ছিন্নতাবোধ!'

আমার বা আমাদের সময়ের কথা বলি । যেমন ধরুন, আমি যখন প্রিয় শিক্ষক হিসেবে কাউকে কল্পনা করতে যাই তখন আমার সামনে যেসব প্রিয়মুখ ভেসে ওঠে তার বেশিরভাগ শিক্ষকই হলেন প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের । বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের মাত্র দুই-তিনজন শিক্ষকের কথা মনে পড়েছে! চোখ বন্ধ করে নিউরনকে তীব্র আঘাত করার পরেও মাত্র কয়েকজন শিক্ষক পেয়েছি যাদেরকে প্রকৃত শিক্ষক মনে হয়েছে আমার! এইসব শিক্ষকদের বিশেষত্ব হলো, তাঁরা শুধু পড়াশুনাই নয়, এছাড়াও জীবনের গতিধারা নির্ধারণে স্বপ্ন গড়াসহ নৈতিকবোধ সৃষ্টি করতে সময় দিয়েছেন ।

সময় বদলে গেছে! বদলে গেছেন আমাদের শিক্ষকসমাজ, এবং বদলে গেছে শিক্ষার্থীদের মন-মানসিকতা । ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক এখন শুধু বাণিজ্যিক সম্পর্কের মতো যেখানে আবেগের কোনরূপ বন্ধন নাই, বিবেকের বন্ধনও নাই । আমরা যখন প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক স্তরের ছাত্র ছিলাম তখন কোন বিষয় না-বুঝতে পারলে সরাসরি শিক্ষকদের কাছে চলে গেছি- উকিলদের মত পরামর্শ ফি দিতে হয় নাই বা ডাক্তারদের মত ভিজিটও দিতে হয় নাই! তখন দেখেছি, শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে পাঠদানসহ ছাত্রদের পরিস্থিতি বিবেচনায় কমবেশি অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে । তাদের আর্থিক লোভও তেমন ছিলো না । বেশ কষ্ট করে সংসার করেছেন অনেক শিক্ষক তবুও ছাত্রদের বিনা পয়সায় পড়াতে না-করেন নাই । এমনকি বিভিন্নভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করে গরীব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশুনায় সহযোগিতা করেছেন অভিভাবকের মত । ফলতঃ ওইসব শিক্ষকদের আমরা কখনও ভুলতে পারি নাই, তাঁরাও আমাদের মনে রেখেছিলেন অনেকটা ।

অথচ ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কে বিচ্ছিন্নতাবোধ আজ অনেকবেশি। শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নাই শিক্ষার্থীদের, তেমনই শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষকদের দায়বদ্ধতা, টান ও অভিভাবকসুলভ আচরণও নাই আনেকটাই । এই বিচ্ছিন্নতাবোধ দূর করে সম্পর্ক উন্নয়ন জরুরি । জরুরি সুন্দর সমাজ গঠন, সুনাগরিক তৈরি এবং ইন্টেলেকচুয়াল একটা জাতি গঠন । সুতরাং আজকের প্রত্যাশা এতটুকুই, ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক বর্তমান সময়ের অবনতির এই পথ থেকে ফিরে আসুক, আমাদের বা আমাদের পূর্ব সময়ের পথে!

Picked up where you left off

Comments

Be this story’s first reader

+35 XP

Nobody has commented yet. Sign in, read it, and be first with a thoughtful comment to earn the bonus.

Sign in to claim

    Please login to post comment. Login