"কবি, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিকর্মীদের সংসদ সদস্য বানানো ঠিক না।" এই ধরণাটা ভুল। ডেমোক্রেসিতে যেকেউ রাজনীতি করার অধিকার রাখেন এবং তার মাঝে নেতৃত্বের গুণাবলী থাকলে তিনি নেতা হবার অধিকার রাখেন। এইটার বিরোধিতা করবেন শুধু পেশা বা কালচারাল ডিফারেন্সের কারণে? ফানি থিওরি!
২. মেরিটোক্রেটিক ডেমোক্রেসি'র যুগে ক্রিয়েটিভ লোকজনকে, কালচারাল এক্টিভিজম উপেক্ষা করা আরও যুক্তিহীন। প্রযুক্তির বৈশ্বিক ডোমেইনে সব ধরণের কালচার সবার জন্য উন্মুক্ত। এই উন্মুক্ত সময়ে নিজেদের কালচারাল ফিগারদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা করলে অন্যদের কালচারাল হেজিমনির শিকার হতে হবে এবং একসময় ধীরে ধীরে যথাযথ কাউন্টার দেয়ার লোকজন ও সুযোগ হারাতে হবে।
৩. অমুক দলের তমুক ব্যক্তির আচরণকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করে, সংসদে কালচারাল কমিউনিটির কাউকে কখনও পাঠানো যাবে না, মূলধারার রাজনীতির জন্য এই ন্যারেটিভ ক্ষতিকর। এইটা কালচারাল ফিল্ডে নেতৃত্ব শূণ্যতার ঝুঁকি তৈরি করবে নিঃসন্দেহে। এইটার সুযোগ নিবে যারা এখানে ভিনদেশি সংস্কৃতি আমদানি করে এই কালচারাল পলিটিক্সের শূণ্যতা ইউজ করতে চায় তারা। দেখবেন, এই গ্রুপই আবার নানা ব্যক্তিকে কালচারাল হিরো বানাইয়া ঠিকই তাদের সংসদে পাঠানোর স্বপ্ন দেখে। এইক্ষেত্রে সমস্যা নাই। সমস্যা তখনই যখন দেশজ এবং লোকজ সংস্কৃতির কেউ সাংসদ হতে চায়!
সুতরাং গ্রাসরুট ডেমোক্রেসি ও বৈচিত্র্যপূর্ণ রাজনীতির সমর্থন করা অব্যহত রাখতে হবে। জাতীয় সংসদে তাই বৈচিত্র্যপূর্ণ যোগ্য প্রতিনিধিত্ব থাকাটা উচিত। এইখানে বিশেষ কারো বা কোন গোষ্ঠীর প্রতি অনুরাগ বা বিরাগ পোষণ নন-ডেমোক্রেটিক আচরণ যা সমর্থনযোগ্য নয়।