এই হলদেটে বিকেলে এখনো একখণ্ড রোদ স্থির হয়ে থাকে,
ঠিক যেমন থমকে আছে এই রক্তমাংসের ডান হাত।
একদা একে স্পর্শ করেছিল এক আশ্চর্য মানবী,
কিংবা নক্ষত্রমণ্ডল থেকে নেমে আসা কোনো মায়াবী অপ্সরা।
সে ছোঁয়া কোনো সাধারণ আঙুলের বিনিময় ছিল না,
ছিল যেন জলপ্রপাতের তলদেশে লুকিয়ে থাকা প্রথম কম্পন।
তার পরশ লাগতেই এই সুপ্রাচীন ত্বকের ভেতরে
জেগে উঠেছিল কোটি বছরের ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি।
সে দিন আমি বুঝেছিলাম,
শরীরের কোনো এক গোপন খাঁজে সমুদ্রের জোয়ার লুকিয়ে থাকে।
তার উপস্থিতি ছিল অসমাপ্ত রূপকথা,
যার প্রতিটি বর্ণে চুইয়ে পড়ত নীলাভ এক বিষাদ আর আলো।
তারপর বাতাস বদলে গেল, ঋতুরা তাদের পোশাক পাল্টে নিল,
কিন্তু আমার এই চামড়ার গভীরে থেকে গেল এক অলৌকিক মানচিত্র।
আজও যখন মেহগনি গাছের ছায়া নেমে আসে আমার টেবিলে,
আমি হাতটি তুলে ধরি শূন্যতার দিকে।
সে যেন কোনো অদৃশ্য প্রতিমার গায়ে ঘষে নেওয়া এক টুকরো কাচ।
সে কি কোনো মানুষ ছিল, নাকি সময়ের কোনো সুক্ষ্ম চাতুরী?
যে এসে মুছে দিয়ে গেল আমার সমস্ত প্রাত্যহিক ব্যাকরণ,
আর রেখে গেল কেবল এক দীর্ঘশ্বাসের দীর্ঘ প্রতিধ্বনি।