(রম্য রচনা)
যথাসময়ে কাঠগড়ায় হাজির করা হলো চল্লিশ বছর বয়সী কুসুমকে। তার অপরাধ সে তার স্বামীকে হত্যা করেছে। আসামি পক্ষের কোনো উকিল নেই কারণ আসামী তার নিজের মুখে সব স্বীকার করতে চায়।
বাদী পক্ষের উকিল ও আসামির জেরা এবং উত্তর ছিলো অনেকটা এরকম -----
- আপনি আপনার স্বামীকে স্ব-জ্ঞানে স্ব-ইচ্ছায় হত্যা করেছেন। একথা কি সত্য?
- জ্বি জনাব সত্য
- আপনার এই স্বীকারোক্তির কারনে আপনার ফাঁসি হতে পারে সেটা কি আপনি জানেন?
- জ্বি জনাব জানি
- আচ্ছা এবার বলুন আপনি তাকে কেন হত্যা করেছেন?
- তাকে হত্যা করে আমি শান্তি পেয়েছি। এই জন্যই হত্যা করেছি।
- আপনাকে উকিল রাখতে বলা হয়েছিলো কিন্তু আপনি কোনো উকিল রাখেননি। কারনটা কি জানতে পারি?
- জ্বি জনাব অবশ্যই পারেন।
- বলুন তাহলে
- আমিতো সত্য ঘটনা বলবো, আমার ফাঁসি হবে মাঝখান থেকে উকিলকে টাকা দিতে যাবো কেন? এই জন্যই উকিল রাখার প্রয়োজনবোধ করি নাই।
- আপনি কিভাবে তাকে হত্যা করেছেন যদি বিবরণ দিতেন!
- নিশ্চয়ই দেবো বিবরণ দেবার জন্য অস্থির হয়ে আছি।
ঘটনার দিন রাতে আমি ঘুমাচ্ছিলাম, আমার স্বামী ফোন দেখছিলো। ফোন দেখতে দেখতে তার ঘুম এসে যায় এবং ঘুমের কারনে তার হাত থেকে ফোনটি তার মুখের উপর পড়ে। সি চিৎকার করে ওঠে। আমার ঘুম ভেঙে যায়, আমি তার কাছে জানতে চাই কী সমাচার? সে ঘটনা খুলে বলে যে তার মুখের উপর ফোন পড়ছে। আমি আবার ঘুমিয়ে পড়ি, সে ফোন দেখতে থাকে এবং কিছুক্ষণ পর সে আবার ও চিৎকার দেয়।আমি জেগে উঠি শুনি ঘটনা একই। এভাবে আরো দুইবার একই ঘটনা ঘটে। এরপর আমার আর ঘুম আসে না। আমি অপেক্ষা করি আবার কখন তার মুখের উপর মোবাইল পড়বে। পড়ার সাথে সাথে মোবাইল সহ তার মুখে বালিশ চাপা দিই। কিছুক্ষণ ছটফট করার পর সে মারা যায়। তারপর তার মোবাইলটা আমি ভেঙে গুড়ো গুড়ো করি। ঘরে ছিলো প্লাস্টিকের চাউলের বস্তা সেটা ভালো করে হাতে পেঁঁচিয়ে তারপর তার সারা শরীরে মোবাইলের ভাঙা গুড়ো দিয়ে দিই ঘষা। যতক্ষণ আমার রাগ না মিটছে ততক্ষণ তারে উল্টায় পাল্টায় ঘষছি আর ঘষছি। তারপর ঘুম পাইছে শান্তিতে ঘুমাইছি।
রাত দুইটা বেজে তিরিশ মিনিট। কুসুমের স্বামী কুসুমকে ডাকছে, এক হাতে ফোন স্ক্রল করছে অন্য হাতে কুসুমকে ধাক্কা দিচ্ছে, এই কুসুম কুসুম..... ঘুমের মধ্যে কী বিড়বিড় করো?